

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ডায়াবেটিস মূলত জীবনযাপনের ধরন ও খাদ্যাভ্যাসের সাথে সম্পর্কিত একটি দীর্ঘমেয়াদি রোগ। উপযুক্ত খাদ্য ব্যবস্থাপনা ও সুশৃঙ্খল জীবনযাত্রাই এই রোগ নিয়ন্ত্রণের মূল চাবিকাঠি। তবে এটি নিয়ে নানা ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচলিত রয়েছে, যা সঠিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় বাধা সৃষ্টি করে।
কিটো ডায়েটের ভুল ধারণা
ডায়াবেটিস কখনো পুরোপুরি নিরাময় হয় না, এটি আজীবন নিয়ন্ত্রণ করে চলতে হয়। অনেকে ডায়াবেটিস সম্পূর্ণ সারিয়ে তোলার আশায় ‘কিটো ডায়েট’ শুরু করেন। শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট না থাকায় সাময়িকভাবে রক্তে সুগার নিয়ন্ত্রণে এলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি শরীরে পুষ্টির ঘাটতি তৈরি করে।
৭০ শতাংশ ফ্যাট ও ২৫-৩০ শতাংশ প্রোটিননির্ভর এই ডায়েট বিপাকক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটায় এবং লিভার ও কিডনির মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে।
মিষ্টি খাওয়া ও ডায়াবেটিসের সম্পর্ক
মিষ্টি খাবারের সাথে ডায়াবেটিসের কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই। মিষ্টিজাতীয় খাবারে উচ্চ ক্যালরি থাকে, যা অতিরিক্ত গ্রহণের ফলে শরীরের ওজন বৃদ্ধি পায়। স্থূলতার কারণে শরীরে ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমে যায়, যা পরোক্ষভাবে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়।
সুস্থ ব্যক্তির দৈনিক সর্বোচ্চ ২৫-৩০ গ্রাম চিনিজাতীয় খাবার খাওয়া স্বাভাবিক হলেও দৈনন্দিন ভাত, রুটি ও ফল থেকেও শরীরে সুগার তৈরি হয়।
হাইপোগ্লাইসেমিয়া ও মিষ্টি গ্রহণ
ডায়াবেটিস রোগীর নিয়ম করে মাঝে মাঝে মিষ্টি না খেলে সুগার 'নীল' বা শূন্য হয়ে যাবে- এটি একটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। প্রতিদিনের খাবারেই প্রয়োজনীয় শর্করা থাকে।
তবে অতিরিক্ত ওষুধ বা অনিয়মের কারণে রক্তের সুগার স্বাভাবিকের চেয়ে নিচে নেমে গেলে (হাইপোগ্লাইসিমিয়া) তৎক্ষণাৎ চিনি বা মিষ্টি খেতে হয়। রুটিন মেনে সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ খেলে রক্তে সুগার হঠাৎ কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে না।
ডাল ও বীজজাতীয় খাবার
ডায়াবেটিস হলে ডাল ও বিভিন্ন বীজ খাওয়া যাবে না- এমন ধারণারও কোনো ভিত্তি নেই। ডাল ও বীজ হলো উদ্ভিজ্জ প্রোটিনের চমৎকার উৎস, যা অন্যান্য প্রাণিজ আমিষের সাথে পরিমিত পরিমাণে খাওয়া সম্পূর্ণ নিরাপদ।
তবে ডায়াবেটিসের পাশাপাশি রোগীর কিডনিতে কোনো জটিলতা থাকলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রোটিনের পরিমাণ নির্দিষ্ট করে নিতে হবে।
মায়ের ডায়াবেটিস ও শিশুর দুগ্ধপান
মা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হলেও শিশুকে নিশ্চিন্তে স্তন্যপান করানো যায়, এতে শিশুর কোনো ক্ষতি হয় না। বরং দুধ না খাওয়ালে শিশু অপুষ্টিতে ভুগবে এবং তার শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ব্যাহত হবে।
স্বাভাবিক শিশুদের মতোই ডায়াবেটিক মায়ের সন্তানেরও প্রথম ছয় মাসের সব ধরনের পুষ্টিকর উপাদান মায়ের বুকের দুধ থেকেই নিশ্চিত হয়।


