

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ প্রকল্পে চারা, বাঁশের খুঁটি ও জৈব সার বিতরণে প্রকাশ্য অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে অবশেষে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখোমুখি হয়েছেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আবু সাঈদ শুভ্র। তাকে সাতক্ষীরা থেকে ‘স্ট্যান্ড রিলিজ’ করেছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম স্বাক্ষরিত এক দাপ্তরিক প্রজ্ঞাপনে এই আদেশ জারি করা হয়।
আদেশে বিদায়ী এই কর্মকর্তাকে আগামী ২২ জুলাইয়ের মধ্যে সিলেট জেলার জকিগঞ্জ উপজেলায় নতুন কর্মস্থলে যোগদানের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সূত্র জানায়, গত ১৬ জুন সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় কৃষি কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেছিলেন মো. আবু সাঈদ শুভ্র।
যোগদানের মাত্র ১৩ দিনের মাথায়, অর্থাৎ গত ২৯ জুন সরকারের পরিবেশবান্ধব বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় কৃষকদের মাঝে উপকরণ বিতরণকালে বাঁশ ও গোবর সারে ব্যাপক দুর্নীতির আশ্রয় নেন তিনি।
এই প্রকাশ্য অনিয়ম ও জালিয়াতি নিয়ে গত ২ জুলাই ‘এনপিবি নিউজ’-এ সাতক্ষীরায় প্রধানমন্ত্রীর বৃক্ষরোপণ প্রকল্পে বাঁশ ও গোবর সারে প্রকাশ্য হরিলুট!’ শিরোনামে সরেজমিন অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত ও প্রচারিত হয়। প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর প্রশাসনের উচ্চমহলে তীব্র তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
এনপিবি নিউজের প্রতিবেদনের সূত্র ধরে বিষয়টি আমলে নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর।
তদন্তে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা মেলার পরপরই বহুল আলোচিত এই ‘বাঁশ ও গোবর সার কাণ্ডে’ জড়িত থাকার দায়ে এই কর্মকর্তাকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হলো।
অনুসন্ধান এবং ভুক্তভোগী কৃষকদের অভিযোগে জানা যায়, সদর উপজেলার ১ হাজার ২০০ জন কৃষকের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি উপকরণে ব্যাপক দুর্নীতি করেন এই কর্মকর্তা।
নিয়মানুযায়ী প্রতি পিস বাঁশের খুঁটির সরকারি মূল্য ৫০ টাকা ধরা হলেও কৃষকদের সরবরাহ করা হয়েছিল মাত্র ১০ থেকে ২০ টাকা মূল্যের অত্যন্ত নিম্নমানের কঞ্চি বা ছাটা বাঁশ।
এছাড়া, সরকারি পত্রে ৪ টাকা কেজি দরে ৬০০ টাকার বিনিময়ে ১৫০ কেজি গোবর সার দেওয়ার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকলেও কৃষকদের দেওয়া হয় মাত্র ৪০ কেজির একটি কোম্পানির প্যাকেটজাত সার, যার বাজারমূল্য সাকুল্যে ৪৮০ টাকা।
অথচ উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের কাছ থেকে ১৫০ কেজি সারই বুঝে পেয়েছেন মর্মে কাগজে-কলমে সই বা টিপসই করিয়ে নেন। সদর উপজেলার এই প্রকল্প থেকেই বাঁশের খুঁটি এবং জৈব সারের বরাদ্দ ফাঁকি দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী ও পরিবেশবান্ধব একটি উদ্যোগকে যারা নিজেদের পকেট ভারী করার হাতিয়ার বানিয়েছিলেন, এনপিবি নিউজের রিপোর্টের পর তাদের বিরুদ্ধে এমন তাৎক্ষণিক ও কঠোর অ্যাকশন নেওয়ায় সাতক্ষীরার সাধারণ কৃষক এবং সচেতন নাগরিকদের মাঝে স্বস্তি নেমে এসেছে।