শুক্রবার
১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাতের খাবার খাচ্ছেন না, শরীরের যে মারাত্মক ক্ষতি করছেন

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৮:১৯ পিএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

ব্যস্ত জীবনযাত্রা, অফিসের কাজের চাপ, যানজট কিংবা ওজন কমানোর তাড়নায় অনেকেই আজকাল রাতের খাবার (ডিনার) না খেয়েই ঘুমিয়ে পড়েন। কেউ কেউ আবার 'ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং'-এর অংশ হিসেবেও রাতের খাবার এড়িয়ে চলেন।

অনেকেরই ধারণা, রাতের খাবার বাদ দিলে দ্রুত ওজন কমে। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞান ও গবেষণা বলছে ভিন্ন কথা। মাঝে মধ্যে একদিন রাতে না খেলে বড় কোনো সমস্যা না হলেও, এটিকে অভ্যাসে পরিণত করলে শরীর ও মনের ওপর এর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

কেন রাতের খাবার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ?

রাতের খাবার কেবল দিনের শেষ বেলার খাবার নয়, এটি আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত জরুরি। এর প্রধান কারণগুলো হলো:

দীর্ঘ সময়ের শক্তি: ঘুমের সময়টুকু হলো ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় যখন আমরা কিছুই খাই না। রাতের খাবার ঘুমের সময় শরীরকে শক্তি ও পুষ্টি জোগাতে সাহায্য করে।

পুষ্টির প্রধান উৎস: বেশির ভাগ মানুষ রাতের খাবারেই সবজি বা অন্যান্য পুষ্টিকর উপাদান বেশি খেয়ে থাকেন। সিডিসি (CDC)-র মতে, ৯০% মানুষই পর্যাপ্ত ফল ও সবজি খান না। তাই রাতের খাবার বাদ দিলে শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি থেকে বঞ্চিত হয়।

পারিবারিক ও মানসিক বন্ধন: আমেরিকান কলেজ অব পেডিয়াট্রিশিয়ানস (২০২১)-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিবারের সাথে রাতের খাবার খেলে শিশুদের পুষ্টির মান ভালো হয়, পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়ে এবং স্থূলতার ঝুঁকি কমে।

রাতের খাবার বাদ দিলে শরীরে যা ঘটে

নিয়মিত রাতের খাবার এড়িয়ে চললে শরীরে নানা ধরনের জৈবিক ও মানসিক পরিবর্তন ঘটে:

শরীরের জৈবঘড়ি বা সার্কাডিয়ান রিদম ব্যাহত হওয়া: খাবারের সময়ের অনিয়ম ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণের স্বাভাবিক ক্ষমতাকে নষ্ট করে দেয়।

মৃত্যু ও হৃদরোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি: ২০২৩ সালের একটি গবেষণা অনুযায়ী, দিনে মাত্র একবার খাওয়া অথবা নিয়মিত দুপুর বা রাতের খাবার বাদ দেওয়ার সাথে হৃদরোগের ঝুঁকি এবং সামগ্রিক মৃত্যুঝুঁকি বৃদ্ধির সম্পর্ক রয়েছে।

রক্তে শর্করার ওঠানামা: রাতে না খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ কমে যেতে পারে। ফলে দুর্বলতা, শরীর কাঁপা বা শক্তির চরম ঘাটতি দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক।

ক্ষুধা ও স্থূলতা বৃদ্ধি: ২০২২ সালের গবেষণা বলছে, অসময়ে বা গভীর রাতে খেলে ক্ষুধা আরও বেড়ে যায় এবং পেট ভরার অনুভূতি দেওয়া হরমোন (লেপটিন)-এর মাত্রা কমে যায়। ফলে পরোক্ষভাবে ওজন বা স্থূলতার ঝুঁকি আরও বাড়ে।

মানসিক স্বাস্থ্যহানি: ২০২০ সালের এক গবেষণা অনুযায়ী, যারা নিয়মিত খাবার বাদ দেন (বিশেষ করে বয়স্করা), তাদের মধ্যে বিষণ্নতা, উদ্বেগ এবং অনিদ্রার (ঘুম না হওয়া) লক্ষণ অনেক বেশি দেখা যায়।

মাঝেমধ্যে কাজের চাপে বা ক্লান্তিতে একদিন রাতের খাবার বাদ পড়তেই পারে, এতে বড় কোনো ক্ষতি নেই। তবে এটিকে কোনোভাবেই নিয়মে পরিণত করা যাবে না।

এমনকি ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে চাইলেও রাতের খাবার বাদ দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ নয়; বরং রাতে সময়মতো হালকা ও স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়াই সুস্থ থাকার আসল চাবিকাঠি।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
UPCOMING
France VS England
Scheduled
19 Jul, 03:00 AM
VS
World Cup