

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনা ও স্পেন মুখোমুখি হওয়ার আগে আবারও আলোচনায় এসেছে লিওনেল মেসি ও লামিন ইয়ামালের একটি পুরোনো ছবি। ছবিতে দেখা যায়, ২০ বছর বয়সী মেসি কয়েক মাস বয়সী লামিন ইয়ামালকে গোসল করাচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে অনেকে এটিকে ভুয়া বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি ছবি মনে করলেও বাস্তবে ছবিটি একেবারেই সত্যি। শুধু তাই নয়, এর পেছনের গল্পটিও বেশ চমকপ্রদ।
ছবিটি তোলা হয়েছিল ২০০৭ সালের ডিসেম্বর মাসে। ইউনিসেফ ও এফসি বার্সেলোনা ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে একটি দাতব্য ক্যালেন্ডারের জন্য এই ফটোসেশনের আয়োজন করা হয়েছিল।
বিশ্বজুড়ে পরিচিত এই ছবির আলোকচিত্রী জোয়ান মনফোর্ত জানান, এটি ছিল একটি তহবিল সংগ্রহ কর্মসূচির অংশ। স্থানীয় পরিবারগুলোর মধ্যে লটারির মাধ্যমে কয়েকটি পরিবার নির্বাচন করা হয়েছিল। সেই লটারিতে নির্বাচিত হয়েছিল লামিন ইয়ামালের পরিবারও।
কাকতালীয়ভাবে, সেই ফটোসেশনে বার্সেলোনার উঠতি তারকা লিওনেল মেসির সঙ্গে কয়েক মাস বয়সী লামিন ইয়ামালকে রাখা হয়। তখন কেউ কল্পনাও করতে পারেননি, মেসির কোলে থাকা সেই শিশুই একদিন বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার হয়ে উঠবেন। একই সঙ্গে সেই ছবিটিও একদিন ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত ছবিগুলোর একটি হয়ে যাবে।
ছবিটি তোলার সময় মেসির বয়স ছিল ২০ বছর। তখন তিনি বার্সেলোনার হয়ে নিজেকে বিশ্বমানের ফুটবলার হিসেবে প্রতিষ্ঠার পথে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। অন্যদিকে, ২০০৭ সালের জুলাই মাসে জন্ম নেওয়া লামিন ইয়ামালের বয়স তখন ছিল মাত্র কয়েক মাস।
ভাইরাল ছবিটি নিয়ে নিজেও অনেক বছর কিছু জানতেন না ইয়ামাল। পরে তার বাবা তাকে ছবিটির কথা জানান। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবিটি আবার ছড়িয়ে পড়লে তা মুহূর্তেই বিশ্বজুড়ে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।
মেসির সঙ্গে তুলনা প্রসঙ্গে ইয়ামাল বলেন, ‘ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড়ের সঙ্গে তুলনা হতে কারও আপত্তি থাকার কথা নয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই ধরনের তুলনা একজন খেলোয়াড়ের জন্য বাধাও হতে পারে। কারণ, আপনি কখনোই তিনি হতে পারবেন না।’
লিওনেল মেসি কখনো এই নির্দিষ্ট ফটোসেশন নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করেননি। তবে বিভিন্ন সময়ে তিনি লামিন ইয়ামালের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।
আর্জেন্টিনার অধিনায়ক একাধিকবার বলেছেন, বর্তমান প্রজন্মের তরুণ ফুটবলারদের মধ্যে ইয়ামাল তাকে নিজের শুরুর দিনের কথা সবচেয়ে বেশি মনে করিয়ে দেয়। বয়স কম হলেও ইয়ামালকে তিনি ইতোমধ্যেই বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার বলেও উল্লেখ করেছেন।
প্রায় দুই দশক আগে একটি দাতব্য ক্যালেন্ডারের ফটোসেশনে প্রথমবারের মতো এক ফ্রেমে বন্দি হয়েছিলেন মেসি ও ইয়ামাল। তখন একজন ছিলেন কয়েক মাসের শিশু, আর অন্যজন ছিলেন বিশ্বফুটবলের সম্ভাবনাময় তরুণ তারকা।
সময় বদলেছে। এখন সেই দুই মানুষই ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন। ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার জার্সিতে লিওনেল মেসি এবং স্পেনের জার্সিতে লামিন ইয়ামাল মাঠে নামবেন। এবার তাদের লক্ষ্য থাকবে বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ট্রফি—ফিফা বিশ্বকাপ।
