

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক মো. মাসুদ আলমকে দুই মাস আগে সদর কার্যালয়ে বদলির আদেশ দেওয়া হলেও তা শেষ পর্যন্ত কার্যকর হয়নি। রহস্যজনকভাবে বাতিল হয়ে যায়, জারি হওয়া সেই অফিস আদেশ। এই নিয়ে বিআরটিএ কর্মকর্তাদের মাঝে আছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
মো. মাসুদ আলম সেই কর্মকর্তা, যিনি ২০১৭ সালে তৎকালীন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের একটি মন্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ভাইরাল মাসুদ’ নামে পরিচিতি পান। সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিআরটিএ মিরপুর কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে ওবায়দুল কাদের তাকে উদ্দেশ করে বলেছিলেন, “ভালো হয়ে যাও মাসুদ।” এরপর থেকেই বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
এনপিবি নিউজের হাতে আসা চলতি বছরের ৭ মার্চ তারিখের একটি অফিস আদেশে দেখা যায়, বিআরটিএর চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক মো. মাসুদ আলমকে সদর কার্যালয়ের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ার) পদে বদলি করা হয়। একই আদেশে সদর কার্যালয়ের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ার) মোহাম্মদ শহীদুল্লাহকে পরিচালক (রোড সেফটি) হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, ওই আদেশটি পরে কার্যকর হয়নি এবং তা বাতিল হয়ে যায়। কেন এমনটি হয়েছে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ব্যাখ্যাও পাওয়া যায়নি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৭ সালে ওবায়দুল কাদের প্রকাশ্যে বলেছিলেন, “মাসুদের সঙ্গে দেখা হলেই প্রায়ই আমি বলি, মাসুদ তুমি ভালো হয়ে যাও। কিন্তু সে এখনও পুরোপুরি ভালো হয়নি। মাসুদ দীর্ঘদিন বিআরটিএতে আছেন। ব্যবহার ভালো, মধুর মতো। কিন্তু যা করার একটু ভেতরে ভেতরে করে।” সেই বক্তব্যের ভিডিও সে সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
আরও জানা যায়, মো. মাসুদ আলম আগে বিআরটিএর খুলনা বিভাগের পরিচালক ছিলেন। পরে ২০২৪ সালের ২৫ মার্চ তিনি চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক হিসেবে যোগ দেন। এরপর থেকে দুই বছরের বেশি সময় ধরে তিনি ওই দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যদিকে সদর দপ্তরের একটি পরিচালক পদে এখনও একজন কর্মকর্তাকে একাধিক দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিআরটিএর এক কর্মকর্তা এনপিবি নিউজকে বলেন, বদলি ও পদায়নের আদেশ জারির পর একটি প্রভাবশালী চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে। তাদের প্রভাবেই অনেক সময় আদেশ বাস্তবায়ন না হয়ে বাতিল হয়ে যায়। তার অভিযোগ, মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে এসব সিদ্ধান্ত বদলে দেওয়া হয়। এছাড়া অধিকাংশ বদলির অফিস আদেশ বিআরটিএর ওয়েবসাইটে প্রকাশ না হওয়ায় এ ধরনের অনিয়মের সুযোগ তৈরি হয় বলেও দাবি করেন তিনি।
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, “নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বিআরটিএতে বদলি, পদায়ন, পদোন্নতি ও নিয়োগের ক্ষেত্রে নীতিমালা অনুসরণ এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার জন্য আমরা একাধিকবার স্মারকলিপি দিয়েছি। কিন্তু এখনও দেখা যাচ্ছে, কিছু প্রভাবশালী কর্মকর্তা একই গ্রেড সার্কেলের মধ্যেই বারবার গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পাচ্ছেন। সরকার বদলায়, কিন্তু বিআরটিএর এই সংস্কৃতি বদলায় না।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিআরটিএর চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক মো. মাসুদ আলম এনপিবি নিউজকে বলেন, “এই বিষয়ে আমার কোনো মন্তব্য নেই।”
সার্বিক বিষয়ে বিআরটিএ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবীবুর রহমান এনপিবি নিউজকে বলেন, “কে কোথায় বদলি হবেন, তা সরকারের বিধি-বিধান অনুযায়ী নির্ধারণ করা হয়। সরকার নির্ধারিত নিয়মনীতি মেনেই বদলির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর মধ্যে যদি কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”