

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


দীর্ঘ পঁয়তাল্লিশ বছর আত্মগোপনে থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে ছিলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার অভিযুক্ত পলাতক আসামি অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোজাফফর হোসেন। অবশেষে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে রাজধানীর বনানী ডিওএইচএস এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
ডিবি সূত্র জানিয়েছে, বুধবার (১৫ জুলাই) দিবাগত মধ্যরাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে কোর্ট মার্শালের জন্য বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) তাকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পরই আত্মগোপনে চলে যান মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেন। দীর্ঘ সময় তিনি প্রতিবেশী ভারতে অবস্থান করেন। বিশেষ করে ১৯৯৭ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত তিনি সেখানে ছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
সূত্রগুলো জানায়, ভারতে অবস্থানের পর তিনি ছদ্মনাম ব্যবহার করে সীমান্ত অতিক্রম করতেন এবং বিভিন্ন স্থানে পরিচয় গোপন রেখে চলাফেরা করতেন। ঘন ঘন অবস্থান পরিবর্তন এবং পরিচয় গোপন রাখার কারণে দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে থাকতে সক্ষম হন।
অবশেষে সম্প্রতি তার অবস্থান সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার পর নজরদারি শুরু করে ডিবি। তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন অনুসন্ধানের ভিত্তিতে বনানী ডিওএইচএস এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
১৯৮১ সালের ২৯ মে দুই দিনের সফরে চট্টগ্রাম যান তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান। সফরের প্রথম দিন দলীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে অবস্থান করেন। পরদিন ৩০ মে ভোরে সেখানে একদল বিদ্রোহী সেনা কর্মকর্তার হামলায় তিনি নিহত হন।
মামলাসংক্রান্ত নথি ও বিভিন্ন ঐতিহাসিক বর্ণনা অনুযায়ী, ওই হামলায় অংশ নেওয়া সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেন ছিলেন। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, তিনি প্রথমে জিয়াউর রহমানকে শনাক্ত করেন এবং তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালান। হত্যাকাণ্ডের পর তিনি চট্টগ্রাম সেনানিবাসের ২৪ পদাতিক ডিভিশনের তৎকালীন জিওসি মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুরকে টেলিফোনে রাষ্ট্রপতির নিহত হওয়ার খবর জানান।
হত্যাকাণ্ডের পর সেনাবাহিনীর অভিযানে কয়েকজন সেনা কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হলেও মেজর মোজাফফর হোসেন পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। এরপর টানা ৪৫ বছর আত্মগোপনে থাকার পর অবশেষে তিনি গ্রেপ্তার হলেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম সেনাবাহিনীর বিচারিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী সম্পন্ন হবে।