

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বিদেশ ভ্রমণের প্যাকেজ বিক্রির ক্ষেত্রে নতুন সুবিধা চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে ট্যুর অপারেটরদের সংগঠন টোয়াবের সদস্যরা বাংলাদেশে বসবাসকারী নাগরিকদের কাছ থেকে বিদেশ ভ্রমণের প্যাকেজের মূল্য টাকায় নিতে পারবেন। পরে সেই প্যাকেজের বিপরীতে বিদেশি সেবা প্রদানকারীদের কাছে সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা পাঠানো যাবে।
রোববার (৯ আগস্ট) এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
নতুন সুবিধাটি পাবেন যেসব ট্যুর অপারেটরের বিদেশি ট্যুর অপারেটর, হোটেল বা ডেস্টিনেশন ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি কিংবা ব্যবসায়িক সমঝোতা রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিদেশে আবাসন, পরিবহনসহ প্রকৃত ভ্রমণসেবা বাবদ বৈদেশিক মুদ্রা পাঠাতে পারবেন অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলো।
নতুন ব্যবস্থায় একজন ভ্রমণকারীর জন্য নিয়মিত বার্ষিক ভ্রমণ কোটার অতিরিক্ত প্রতি পঞ্জিকা বছরে সর্বোচ্চ ৩ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত বৈদেশিক মুদ্রা পাঠানো যাবে।
তবে এ সুবিধা নিতে ট্যুর অপারেটরকে ভ্রমণকারীর পাসপোর্ট নম্বরের বিপরীতে লেনদেনের বিস্তারিত তথ্য সংরক্ষণ করতে হবে। একই সঙ্গে অন্য কোনো ট্যুর অপারেটরের মাধ্যমে নির্ধারিত সীমার বেশি বৈদেশিক মুদ্রা নেওয়া হয়নি—এ মর্মে ভ্রমণকারীর কাছ থেকে ঘোষণাও নিতে হবে।
তবে ৩ হাজার ডলারের বেশি মূল্যের প্যাকেজের ক্ষেত্রেও বৈদেশিক মুদ্রা পাঠানোর সুযোগ রাখা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্যাকেজের মূল্য আন্তর্জাতিক কার্ডের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রায় গ্রহণ করতে হবে।
এ ধরনের লেনদেনে এডি ব্যাংকগুলো অ্যাকোয়ারিং সেবা দিতে পারবে। অর্থাৎ ব্যাংকের মাধ্যমে গ্রাহকের কার্ড বা ডিজিটাল পেমেন্ট গ্রহণ ও নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করা যাবে।
বৈদেশিক মুদ্রা পাঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট ইনভয়েস, চুক্তিপত্র, বিস্তারিত ভ্রমণসূচি, ভ্রমণকারীদের তালিকা এবং টাকায় অর্থ নেওয়ার প্রমাণসহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই করতে হবে।
এ ছাড়া বৈদেশিক মুদ্রা পাঠানোর সাত দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট লেনদেনের বিস্তারিত বিবরণ বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিতে হবে এডি ব্যাংকগুলোকে।
ব্যবসায়সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, বিদেশ ভ্রমণের প্যাকেজের মূল্য টাকায় পরিশোধের সুযোগ থাকায় গ্রাহকদের জন্য লেনদেন সহজ হবে। একই সঙ্গে এতে বিদেশভ্রমণ ব্যবসার স্বচ্ছতা ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো আরও শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি দেশের পর্যটন খাতের বিকাশেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।