শনিবার
১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শনিবার
১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অতিরিক্ত আবেগের বন্যায় সম্পর্ক ডুবছে না তো?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:১৬ এএম আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:১৯ এএম
প্রতীকী ছবি
expand

নতুন কোনো মানুষের সঙ্গে পরিচয় থেকে ধীরে ধীরে যখন বিশ্বাস ও ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়, তখন স্বাভাবিকভাবেই নিজের জীবনের নানা কথা তার সঙ্গে ভাগ করে নিতে ইচ্ছে করে। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, দুঃখ, ভয় কিংবা জীবনের কঠিন সময়ের গল্প শেয়ার করার মাধ্যমে অনেক সময় সম্পর্ক আরও গভীর হয়।

কিন্তু এই খোলামেলা হওয়ার প্রবণতা যদি সম্পর্কের একেবারে শুরুতেই মাত্রা ছাড়িয়ে যায়, তখন তা উল্টো অস্বস্তির কারণ হতে পারে। নিজের জীবনের গভীরতম কষ্ট বা ব্যক্তিগত বিষয়গুলো খুব অল্প সময়ের মধ্যে অন্য একজনের সামনে উজাড় করে দেওয়ার এই প্রবণতাকে মনোবিজ্ঞানের আলোচনায় ‘ফ্লাডলাইটিং’ বলা হয়।

আবেগ যখন সুনামির মতো আসে

ঘনিষ্ঠতা তৈরি হতে সময় লাগে। কাউকে বিশ্বাস করতে শুরু করা আর তার সব আবেগীয় ভার গ্রহণ করার মতো প্রস্তুত থাকা এক বিষয় নয়। তাই নতুন বন্ধুত্ব, সহকর্মীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা কিংবা অন্য কোনো ব্যক্তিগত সম্পর্কে শুরুতেই অতিরিক্ত ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করলে অপর ব্যক্তি মানসিকভাবে চাপে পড়তে পারেন। কেউ হয়তো ধীরে ধীরে দূরে সরে যাবেন, আবার কেউ যোগাযোগও কমিয়ে দিতে পারেন।

অতিরিক্ত ব্যক্তিগত তথ্য কেন সমস্যা তৈরি করে?

নিজের কষ্টের কথা বলা অবশ্যই খারাপ নয়। তবে সেটি যেন ‘ট্রমা ডাম্পিং’-এ পরিণত না হয়। নিজের মানসিক ভার কমানোর জন্য অন্য একজনের ওপর একের পর এক কষ্ট ও নেতিবাচক অভিজ্ঞতা চাপিয়ে দিলে তার জন্য বিষয়টি বোঝা হয়ে উঠতে পারে। সুস্থ সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাই কখন, কতটা এবং কার সঙ্গে ব্যক্তিগত বিষয় শেয়ার করা হচ্ছে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ।

নিজের কষ্ট বলা আর ‘ট্রমা ডাম্পিং’ কি একই?

নিজের কঠিন অভিজ্ঞতা কোনো বিশ্বস্ত মানুষের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া অবশ্যই খারাপ কিছু নয়। বরং নিরাপদ ও পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করা মানসিকভাবে স্বস্তিদায়কও হতে পারে। সমস্যা তৈরি হয় তখন, যখন অপর ব্যক্তির মানসিক প্রস্তুতি বা সীমারেখার কথা বিবেচনা না করে দীর্ঘ সময় ধরে নিজের জমে থাকা কষ্ট, ক্ষোভ ও নেতিবাচক অভিজ্ঞতা তার ওপর ঢেলে দেওয়া হয়।

যেমন, নতুন কোনো বন্ধুত্ব তৈরি হওয়ার পরপরই যদি আপনি ঘণ্টার পর ঘণ্টা নিজের পারিবারিক দ্বন্দ্ব, পুরোনো আঘাত বা ব্যক্তিগত সংকটের কথা বলতে থাকেন, তাহলে আপনার কাছে সেটি হয়তো হালকা হয়ে যাওয়ার একটি উপায়। কিন্তু অন্য ব্যক্তির কাছে বিষয়টি অপ্রত্যাশিত এক ধরনের আবেগীয় দায়িত্ব বলে মনে হতে পারে।

তাই ব্যক্তিগত বিষয় শেয়ার করার ক্ষেত্রে শুধু নিজের প্রয়োজনের দিকে তাকালেই হবে না। কখন বলা হচ্ছে, কী পরিমাণে বলা হচ্ছে এবং যার সঙ্গে বলা হচ্ছে তিনি তা গ্রহণ করার মতো মানসিক অবস্থায় আছেন কি না—এসব বিষয়ও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।

ঘনিষ্ঠতা মানেই জীবনের সব গোপন কথা দ্রুত বলে দেওয়া নয়। বরং সময়ের সঙ্গে আস্থা তৈরি হওয়া এবং একে অপরের সীমারেখাকে সম্মান করাই একটি সুস্থ সম্পর্কের ভিত্তি। সম্পর্ক যত স্বাভাবিক গতিতে এগোয়, ব্যক্তিগত কথাগুলোও তত সহজে জায়গা করে নেয়।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
City bank
City bank