সোমবার
১০ আগস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার
১০ আগস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কেন কিছু মানুষকে মশা বেশি কামড়ায়?

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০২৬, ০১:৪৫ পিএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

বন্ধুদের আড্ডার মাঝে মশার উপদ্রব এক অতিপরিচিত দৃশ্য। তবে একই টেবিলে বসে থাকা সত্ত্বেও দেখা যায়, মশা পুরো দলের মধ্যে নির্দিষ্ট দু- একজনকে লক্ষ্য বানিয়ে বিরতিহীন কামড়ে অতিষ্ঠ করে তোলে, অথচ বাকিরা থাকেন একদম নিশ্চিন্ত।

বিষয়টি খুব কাকতালীয় বা কারো মনগড়া অভিযোগ মনে হলেও, বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে এর পেছনে রয়েছে মানবদেহের বিচিত্র সব জৈবিক ও রাসায়নিক প্রক্রিয়া।

মূলত বংশবৃদ্ধির তাগিদ থেকেই স্ত্রী মশা মানুষকে কামড়ায়, কারণ ডিম পাড়ার জন্য তাদের রক্তের প্রোটিন প্রয়োজন হয়; অন্যদিকে পুরুষ মশা বেঁচে থাকে ফুলের মধু ও রেণু খেয়ে। মানুষের প্রতি মশার এই আকর্ষণের প্রধান কারণ হলো নিঃশ্বাস ও ত্বকের মাধ্যমে নির্গত কার্বন ডাই-অক্সাইড।

মশা তার সূক্ষ্ম রিসেপ্টরের সাহায্যে প্রায় ৩৩ ফুট দূর থেকেই কার্বন ডাই-অক্সাইডের সংকেত পেয়ে লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করে। স্বভাবতই শিশুদের তুলনায় প্রাপ্তবয়স্করা বেশি কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গত করে বলে তারা মশার সহজ শিকারে পরিণত হয়।

দেহের তাপমাত্রা ও আর্দ্রতাও মশার কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয়। গরমের দিনে, ওজনে বেশি থাকা ব্যক্তি, অন্তঃসত্ত্বা নারী কিংবা ব্যায়ামের পর ঘর্মাক্ত মানুষদের দেহের তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা বেশি থাকে, যা মশাকে সবচেয়ে বেশি প্রলুব্ধ করে।

ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক স্টিভ লিন্ডসের মতে, মানুষের ত্বকে থাকা রাসায়নিক পদার্থ এবং ব্যাকটেরিয়ার ধরন শরীরের গন্ধ নির্ধারণ করে। বিশেষ করে যাদের ত্বকে অ্যামোনিয়া, ল্যাকটিক অ্যাসিড ও কার্বক্সিলিক অ্যাসিডের পরিমাণ বেশি থাকে, তাদের প্রতি মশা বহুগুণ বেশি আকৃষ্ট হয়। জিনের প্রভাবও এতে ভূমিকা রাখে; গবেষণায় দেখা গেছে, অভিন্ন যমজদের শরীরে মশার আক্রমণ একই রকম হলেও ভিন্ন যমজদের ক্ষেত্রে তা আলাদা হয়।

অ্যানোফিলিস (ম্যালেরিয়া), এডিস (ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, পীতজ্বর) ও কিউলেক্স (ফাইলেরিয়া) মশার কামড়ে ছড়ানো এসব মারাত্মক রোগ এখন বড় আতঙ্কের কারণ। বিশেষ করে বাংলাদেশে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক।

মশার কামড়ে কারও শরীরে কেবল সামান্য লাল দাগ হয়, আবার কারও শরীর চাকা চাকা হয়ে ফুলে যায়। মশা ও মবাহিত রোগ থেকে বাঁচতে ব্যক্তিগত সতর্কতার পাশাপাশি আবাসস্থলের চারপাশ পরিষ্কার রাখা এবং ফুলের টব বা কোথাও যেন পরিষ্কার পানি জমে না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন