

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ভাত রান্নার আগে চাল ধুয়ে নেওয়া আমাদের বাঙালি সংস্কৃতির এক চিরন্তন অভ্যাস। অনেকের ধারণা, পানি যতক্ষণ না একদম পরিষ্কার হচ্ছে, ততক্ষণ চাল ধুয়ে যেতে হবে। কিন্তু আধুনিক বিজ্ঞান ও পুষ্টিবিদরা এই বিষয়ে কী বলছেন? চলুন সংক্ষেপে জেনে নেওয়া যাক।
ঘোলাটে পানির রহস্য ও পুষ্টির খতিয়ান
চাল ধোয়ার সময় যে সাদাটে বা ঘোলাটে পানি বের হয়, তা কিন্তু শুধু ধুলোবালি নয়। এর বড় অংশটি হলো স্টার্চ (শ্বেতসার) এবং পানিতে দ্রবণীয় কিছু পুষ্টি উপাদান। বারবার চাল ধোয়ার ফলে চাল থেকে আয়রন, জিঙ্ক, কপার ও ভ্যানাডিয়ামের মতো জরুরি খনিজ উপাদান পানির সাথে ধুয়ে চলে যায়।
তবে আশার কথা হলো, আমাদের দৈনন্দিন পুষ্টির মূল উৎস কেবল চাল নয়, তাই এই সামান্য পুষ্টিক্ষয় শরীরে তেমন বড় কোনো প্রভাব ফেলে না।
চাল ধোয়ার আসল উপকারিতা কী?
মাটি ও পানির কারণে ধানে প্রাকৃতিকভাবেই আর্সেনিক জমতে পারে। রান্নার আগে চাল ভালো করে ধুয়ে নিলে এর উপরিভাগে থাকা আর্সেনিকের পরিমাণ কিছুটা হলেও কমিয়ে আনা সম্ভব।
সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, রান্নার আগে চাল ধুয়ে নিলে ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ প্রায় ২০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব, যা দীর্ঘমেয়াদে আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য দারুণ উপকারী।
তাহলে কতবার ধোয়া উচিত?
আজকাল বাজারে যেসব প্যাকেটজাত চাল পাওয়া যায়, সেগুলো আধুনিক কারখানায় বেশ কয়েক ধাপে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিষ্কার করেই প্যাকেট করা হয়। তাই এগুলো এমনিতেই যথেষ্ট পরিচ্ছন্ন থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চাল ধোয়ার ক্ষেত্রে মধ্যপন্থা অবলম্বন করাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। পানি একদম স্বচ্ছ না হওয়া পর্যন্ত বারবার চাল ধুয়ে পুষ্টি উপাদান নষ্ট করার কোনো প্রয়োজন নেই।
রান্নার আগে ১ থেকে ২ বার হালকা হাতে ধুয়ে নেওয়াই যথেষ্ট। এতে ক্ষতিকর উপাদানও দূর হয়, আবার চালের পুষ্টিগুণও বজায় থাকে।
