রবিবার
১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রবিবার
১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সারা দেশের জন্য আরও এক বড় দুঃসংবাদ

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২৩ নভেম্বর ২০২৫, ০৪:৫৭ পিএম
সংগৃহীত ছবি
expand
সংগৃহীত ছবি

দেশজুড়ে ভূমিকম্প আতঙ্কের মধ্যেই নতুন করে উৎকণ্ঠা বাড়াচ্ছে বঙ্গোপসাগরের আবহাওয়া পরিস্থিতি। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, আগামী সাত দিনের মধ্যে দেশে আরও কয়েক দফা কম্পন অনুভূত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এরই সঙ্গে এবার বঙ্গোপসাগরে তৈরি হতে শুরু করেছে একটি সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়ের অনুকূল পরিবেশ।

আবহাওয়া পর্যবেক্ষণকারী বিভিন্ন সংস্থার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই সৃষ্টি হতে পারে এই ঘূর্ণিঝড়। বর্তমানে দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত একটি দুর্বল নিম্নচাপ শক্তি সঞ্চয় করে ইতোমধ্যে সুস্পষ্ট নিম্নচাপ–এ রূপ নিয়েছে। প্রাথমিক বিশ্লেষণে জানা গেছে, এটি আগামীকাল আরও শক্তিশালী হয়ে নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে।

রোববার (২৩ নভেম্বর) এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ওড়িশা টিভি।

নিম্নচাপটি বর্তমানে দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ আন্দামান সাগরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। তবে এটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হলেও কোনদিকে অগ্রসর হবে বা কোথায় আঘাত হানতে পারে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

এদিকে ধারণা করা হচ্ছে, এই দুর্বল নিম্নচাপ ২৫ নভেম্বরের মধ্যে দক্ষিণ আন্দামান সাগরের নিকটে আরও ঘনীভূত** হতে পারে।

আবহাওয়াবিদ সন্দীপ পট্টনায়ক জানিয়েছেন, মালাক্কা প্রণালী এবং দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরের অনুকূল পরিস্থিতির কারণে দুর্বল নিম্নচাপটি ম্যাডেন-জুলিয়ান অসিলেশন পর্যায় অতিক্রম করে আরও শক্তি অর্জন করতে পারে।

তিনি বলেন, সমুদ্রের উপরিভাগের ক্ষেত্রফল বড় হওয়ায় এবং প্রশান্ত মহাসাগর থেকে শক্তিশালী বাতাসের স্রোত আসায় আবহাওয়া অনুকূল রয়েছে, যার ফলে দুর্বল নিম্নচাপটি তীব্র হওয়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। যেহেতু শীতল বাতাসের প্রভাব কেটে গেছে, তাই এটির আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।

এ আবহাওয়াবিদ জানিয়েছেন, প্রশান্ত মহাসাগর থেকে শক্তিশালী বাতাস প্রবেশ, সমুদ্রের বিস্তৃত জলরাশি এবং শীতল বাতাসের অনুপ্রবেশ না থাকার কারণে এটি আরও তীব্র হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এদিকে সম্ভাব্য এই ঘূর্ণিঝড় নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে বাংলাদেশের বেসরকারি সংস্থা বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিমও (বিডব্লিউওটি)।

সংস্থাটির মতে, বর্তমানে সাগরে অবস্থানরত নিম্নচাপটি আরও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ২৫ থেকে ২৭ নভেম্বরের মধ্যে গভীর নিম্নচাপ এবং পরে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হলে এর সম্ভাব্য নাম হতে পারে ‘সেনিয়ার’। এরপর ২৮ থেকে ২৯ নভেম্বর নাগাদ এটি আরও উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে মধ্য ও পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে পৌঁছাতে পারে এবং তখন শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সংগত পরিবেশ বজায় থাকলে ঘূর্ণিঝড়টি দিক পরিবর্তন করে উত্তর ও উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হতে পারে। সর্বশেষ পর্যবেক্ষণে দেখা যাচ্ছে, ১-২ ডিসেম্বরের মধ্যে ঘূর্ণিঝড়টি উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে বাংলাদেশ উপকূলের মধ্যে কোনো অঞ্চলে আঘাত হানতে পারে। তবে, এটি সুগঠিত হওয়ার আগে আঘাতের সুনির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। আরও কয়েক দিন পর্যবেক্ষণের পর এ বিষয়ে নিশ্চিত ধারণা পাওয়া যাবে।

আবহাওয়ার এই সিস্টেমটি ২১ নভেম্বর থেকে আগামী ২ বা ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। তবে, বিশেষ করে ২৬ থেকে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে এর তীব্রতা বৃদ্ধির সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনা রয়েছে।

এটির প্রভাবে আগামী ২৫ নভেম্বর সন্ধ্যা থেকে দক্ষিণপূর্ব বঙ্গোপসাগরে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটারে পৌঁছাতে পারে। ২৬ নভেম্বর বাতাসের গতিবেগ বেড়ে ৬০ থেকে ৭০ এমনকি ৮০ কিলোমিটারের বেশি হতে পারে। আর ২৭ নভেম্বর বাতাসের গতিবেগ ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
FIFA World Cup
LIVE
Germany VS Curaçao
Scheduled
Germany
- - -
Curaçao
World Cup