

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বলিউডের 'হিরো নম্বর ওয়ান' গোবিন্দা, যিনি দশকের পর দশক ধরে নিজের হাসি আর নিখাদ অভিনয় দিয়ে কোটি দর্শকের হৃদয়ে দোলা দিয়েছেন, তার রঙিন জীবনের নেপথ্যে রয়েছে এক গভীর ট্র্যাজেডি।
মায়ের সঙ্গে সন্তানের নাড়ির টান কতটা গভীর হতে পারে, আর সেই স্বজন হারানোর বেদনা কীভাবে মানুষের জীবন ওলটপালট করে দিতে পারে- তার এক করুণ সাক্ষী এই তারকা।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের জীবনের সবচেয়ে অন্ধকার অধ্যায়টির স্মৃতিচারণ করেছেন গোবিন্দা। তিনি জানান, মায়ের মৃত্যুর পর তার মানসিক ভারসাম্য পুরোপুরি ভেঙে পড়েছিল। শোকের তীব্রতা সামলাতে না পেরে একপর্যায়ে নিজের জীবন শেষ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
মানসিক যন্ত্রণায় কাতর হয়ে অভিনেতার মনে হয়েছিল, নর্মদা নদীর জলে তলিয়ে গেলেই হয়তো তিনি আবার তার প্রিয় মায়ের দেখা পাবেন। এই ভাবনার বশবর্তী হয়েই তিনি নর্মদার গভীর জলে নেমে পড়েন।
সেদিনের সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে গোবিন্দা বলেন, “প্রচণ্ড কষ্ট পাচ্ছিলাম, মনে হচ্ছিল জীবনের সব কিছু শেষ হয়ে গেছে। নর্মদার তীরে দাঁড়িয়ে মনে হলো, আরেকটু গভীরে গেলেই হয়তো মাকে খুঁজে পাব। তাই একপ্রকার না ভেবেই নদীতে নেমে পড়েছিলাম।”
তবে ভাগ্যক্রমে সে যাত্রায় অলৌকিকভাবে বেঁচে যান তিনি। নদীর পাড়ে থাকা এক পুরোহিতের তাৎক্ষণিক তৎপরতায় পানি থেকে উদ্ধার পান এই অভিনেতা। সেই পুরোহিত তাকে বুঝিয়ে বলেন, নিজের সন্তানদের মুখ চেয়ে হলেও তাকে বেঁচে থাকতে হবে।
ঘটনাটি মনে করে তিনি আরও বলেন, “নদী থেকে আমাকে তুলে পুরোহিত জানতে চান কী হয়েছে। তখনই নিজের ভুল বুঝতে পারি। উপলদ্ধি করি যে সন্তানদের ভবিষ্যতের জন্য হলেও আমাকে শক্ত হতে হবে, বাঁচতে হবে।”
আপাতদৃষ্টিতে এটি আত্মহত্যার চেষ্টা মনে হলেও গোবিন্দা নিজে তা মানতে নারাজ। তার বিশ্বাস, জীবন বারবার নতুন সুযোগ নিয়ে ফিরে আসে। এই কঠিনতম মানসিক আঘাত ও ট্রমা কাটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে তার প্রায় পনেরো দিন সময় লেগেছিল।