

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বলিউড অভিনেত্রী জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজ আবারও আইনি জটিলতায় পড়েছেন বহুল আলোচিত ২০০ কোটি রুপির অর্থ পাচার মামলায়। এই মামলায় নিজেকে সরকারি সাক্ষী হিসেবে উপস্থাপন করে আইনি সুবিধা পাওয়ার যে চেষ্টা করেছিলেন তিনি, তা শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি। বরং ভারতের তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) আদালতে দাবি করেছে, জ্যাকুলিন কেবল প্রতারণার শিকার নন, বরং মূল অভিযুক্ত সুকেশ চন্দ্রশেখরের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তিনি সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, মামলায় সরকারি সাক্ষী হওয়ার আবেদন নিয়ে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছিলেন অভিনেত্রী। তবে গত ১১ মে সেই আবেদনের তীব্র বিরোধিতা করে ইডি। সংস্থাটির বক্তব্য ছিল, তদন্তে এমন অনেক তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে যা জ্যাকুলিনকে সাক্ষী নয়, বরং অভিযুক্ত হিসেবেই চিহ্নিত করে। পরিস্থিতি বুঝে পরে বিশেষ বিচারক প্রশান্ত শর্মার আদালতে নিজের আবেদন প্রত্যাহার করে নেন অভিনেত্রী।
ইডির দাবি, সুকেশ চন্দ্রশেখরের অপরাধমূলক অতীত সম্পর্কে ধারণা থাকার পরও জ্যাকুলিন তার সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছিলেন। তদন্তে উঠে এসেছে, প্রতারণার মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে অভিনেত্রীকে বিলাসবহুল গাড়ি, দামি গয়না, ডিজাইনার ব্যাগসহ নানা উপহার দেওয়া হয়েছিল। শুধু তাই নয়, জ্যাকুলিনের পরিবারের সদস্যদের কাছেও আর্থিক সুবিধা পৌঁছানোর অভিযোগ রয়েছে।
তদন্তকারী সংস্থা আদালতকে জানিয়েছে, জ্যাকুলিন ও সুকেশের মধ্যে নিয়মিত ফোনালাপ এবং বার্তা আদান-প্রদানের প্রমাণও তাদের হাতে রয়েছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে ইডির বক্তব্য, অভিনেত্রী নিজেকে ‘অজ্ঞাতসারে প্রতারিত’ দাবি করলেও বাস্তবে তিনি জেনেশুনেই এসব সুবিধা গ্রহণ করেছিলেন।
ইডির ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থের উৎস নিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে উদাসীন থাকার মাধ্যমে এবং সেই অর্থ থেকে ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়ার কারণে জ্যাকুলিন পরোক্ষভাবে অর্থ পাচার প্রক্রিয়ার অংশ হয়ে ওঠেন। তাই এখন নিজেকে ভুক্তভোগী হিসেবে তুলে ধরা মূলত আইনি সুরক্ষা পাওয়ার একটি প্রচেষ্টা বলেই মনে করছে সংস্থাটি।
এর আগেও একাধিকবার ইডির জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হয়েছেন জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজ। পরে তদন্ত সংস্থার দাখিল করা সম্পূরক চার্জশিটে প্রথমবারের মতো তার নাম অভিযুক্ত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
উল্লেখ্য, জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজ বর্তমানে জেলে রয়েছেন। প্রভাবশালী ব্যক্তি ও তারকাদের সঙ্গে প্রতারণা করে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা চলছে।
