

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বাংলাদেশের উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের প্রখ্যাত বংশীবাদক ও একুশে পদকপ্রাপ্ত ওস্তাদ আজিজুল ইসলাম আর্টিস্ট ক্লাব লিমিটেডের নিয়মিত সাপ্তাহিক সাংস্কৃতিক আয়োজন ‘আইকনিক টিউজডে’-এর বিশেষ পর্বে একক বাঁশি পরিবেশন করবেন।
আগামী মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় রাজধানীর বনানীতে অবস্থিত আর্টিস্ট ক্লাব লাউঞ্জে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, কূটনৈতিক ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিসহ আর্টিস্ট ক্লাবের সদস্য ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত থাকবেন।
ছয় দশকের বেশি সময় ধরে উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতচর্চা করছেন ওস্তাদ আজিজুল ইসলাম। ধ্রুপদি সঙ্গীতের পাশাপাশি তিনি দীর্ঘ সময় সমুদ্রগামী জাহাজের ক্যাপ্টেন হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। সমুদ্রযাত্রার সময় বাঁশি ছিল তাঁর অন্যতম সঙ্গী।
চট্টগ্রামের আর্য সঙ্গীত সমিতির শিক্ষক পণ্ডিত প্রিয়দ রঞ্জন সেনগুপ্তের কাছে তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক সঙ্গীতচর্চার সূচনা। পরে তিনি ওস্তাদ বেলায়েত আলী খান ও ওস্তাদ বাহাদুর খানের শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। এছাড়া পণ্ডিত দেবেন্দ্র মুদ্দেশ্বর ও পণ্ডিত ভি.জি. কার্নাডের কাছ থেকেও উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতে তালিম নেন। কিংবদন্তি বংশীবাদক পণ্ডিত পন্নালাল ঘোষ ছিলেন তাঁর অন্যতম প্রধান অনুপ্রেরণা।
দেশের পাশাপাশি ভারত, সিঙ্গাপুর ও অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশে গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক আয়োজনে বাঁশি পরিবেশন করেছেন ওস্তাদ আজিজুল ইসলাম। ২০২০ সালে ভারতে অনুষ্ঠিত রোটারি ইন্টারন্যাশনাল পিস অ্যান্ড কালচার সামিটের উদ্বোধন তাঁর বাঁশি পরিবেশনার মাধ্যমে হয়। একই বছর রোটারি ইন্ডিয়া সেন্টেনিয়াল সামিটে একমাত্র বাংলাদেশি শিল্পী হিসেবে বাঁশি পরিবেশনের আমন্ত্রণ পান তিনি।
দেশেও বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আয়োজনে একক বাঁশি পরিবেশন করেছেন তিনি।
সঙ্গীত ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৭ সালে একুশে পদক পান ওস্তাদ আজিজুল ইসলাম। এছাড়া বাংলা একাডেমি সম্মানসূচক ফেলোশিপ-২০২১, চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সম্মাননা পেয়েছেন তিনি।
আয়োজকরা বলছেন, ‘আইকনিক টিউজডে’ শুধু নিয়মিত সঙ্গীত পরিবেশনা নয়; দেশের বিশিষ্ট শিল্পীদের সৃষ্টিশীলতা, শিল্পীজীবন ও সাংস্কৃতিক অবদান তুলে ধরার একটি প্ল্যাটফর্ম। এবারের আয়োজনে বাংলাদেশের উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারকে বিশেষভাবে তুলে ধরা হবে।

