

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


সরকার উৎখাতের পরিকল্পনার অভিযোগে উত্তরখান থানায় দায়ের করা মামলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত যুবলীগের আট নেতার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হক শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
রিমান্ডে যাওয়া আসামিরা হলেন-মো. মাজহারুল ইসলাম ওরফে রায়হান, মো. রাকিব, মো. তানভীর খান, মো. আবদুর রহমান, মো. সিফাত, মো. মাহফুজুর রহমান, মো. আশিক মিয়া এবং মো. বকুল আহমেদ ওরফে রাজু।
আজ তাদের আদালতে হাজির করা হলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক রফিকুল ইসলাম প্রত্যেকের পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী রিমান্ড বাতিলের পাশাপাশি তাদের জামিনের আবেদন করেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবীরা আদালতকে বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া আটজনের কেউ কোনো সংগঠনের সদস্য বা সমর্থক নন। তাদের কারও কোনো পদ-পদবিও নেই। তারা উত্তরখানের একটি অটো গ্যারেজে ক্যারাম খেলছিলেন। সেখান থেকেই পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগও নেই। এ অবস্থায় রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের কোনো যৌক্তিকতা নেই বলে দাবি করেন তারা।
তবে উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামিদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, শনিবার রাতে উত্তরখান থানাধীন পুরানপাড়ার একটি অটো গ্যারেজের ভেতরে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের কয়েকজন সদস্য গোপনে সমবেত হয়ে সরকার ও জনসাধারণের শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্ট এবং নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা করছিলেন।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিষয়টি জানতে পেরে উত্তরখান থানা পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ঘটনাস্থলে থাকা আরও ২৫ থেকে ৩০ জন পালিয়ে গেলেও আটজনকে আটক করা হয়।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা পরস্পর যোগসাজশে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত বৈধ সরকারকে উৎখাত, জনসাধারণের শান্তি বিনষ্ট এবং সরকারি সম্পদের ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে সেখানে একত্রিত হওয়ার কথা স্বীকার করেছেন।
এ ঘটনায় উত্তরখান থানার উপপরিদর্শক জাহিদ হোসেন বাদী হয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও তাদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের জন্যই আসামিদের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হয়।

