সোমবার
১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার
১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাছ-মাংস নয়, ব্রিকস সম্মেলনে শুধু নিরামিষ ভোজের অভিযোগ বিজেপির বিরুদ্ধে

এনপিবি প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৩৬ এএম
ছবি: সংগৃহীত
expand

ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেওয়া বিশ্বনেতাদের জন্য আয়োজিত জমকালো নৈশভোজের মেনুতে মাছ-মাংস না থাকায় ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে কংগ্রেস। দলটির নেতাদের অভিযোগ, সম্মেলনে অংশ নেওয়া বিশ্বনেতাদের জন্য পুরোপুরি নিরামিষ খাবারের আয়োজন করা হয়েছিল।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় আয়োজিত ওই নৈশভোজের মেনুতে ১০টির বেশি পদ ছিল। শুরুতে পরিবেশন করা হয় ‘খান্ডভি মিলেট’ ও ‘খুম্ব গালাউটি’। মূল খাবারের তালিকায় ছিল ‘পনির লাবাবদার’, ‘গুচ্ছি মারমিক’, ‘ক্যারট বিন পোরিয়াল’, ‘থাক্কালি বেলে সারু’, মিলেট পোলাও, বিটরুট রায়তা ও বিভিন্ন ধরনের ভারতীয় রুটি। মিষ্টির তালিকায় ছিল ‘ওল্ড দিল্লি ফ্রুট ক্রিম উইথ জিলাপি’ ও ‘শাহদূত ফিরনি’।

নৈশভোজের মেনু নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, ‘রেকর্ডের জন্য বলছি, ৮০ শতাংশ ভারতীয় আমিষভোজী। ভারতীয় আমিষ খাবার সুস্বাদু।’

কংগ্রেস নেতা পবন খেরা অভিযোগ করেন, নিজেদের পছন্দের খাবার দেশের মানুষের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার বিজেপির অভ্যাস রয়েছে। এবার তারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অতিথিদের ওপরও নিজেদের পছন্দ চাপিয়ে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

কংগ্রেস নেতা ওয়ারিস পাঠান বলেন, ভারতের বৈচিত্র্য নিয়ে অনেক কথা বলা হলেও নৈশভোজের মেনু সেই বৈচিত্র্যকে যেন মুছে দিয়েছে। তার ভাষ্য, নিরামিষ খাবার প্রচার করা যেতেই পারে, তবে ভারতের খাদ্যসংস্কৃতিকে শুধু নিরামিষ মেনুর মধ্যে সীমাবদ্ধ করা উচিত নয়। মাটন, চিকেন ও মাছও ভারতের খাবারের বৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

তিনি আরও বলেন, বিশ্বের শীর্ষ নেতারা ভারতে এসেছেন। তাই তাদের সামনে ভারতের খাবারের পূর্ণ বৈচিত্র্য তুলে ধরা উচিত ছিল। এ ক্ষেত্রে মাটন মসালা ফ্রাই, হায়দরাবাদি বিরিয়ানি, তন্দুরি চিকেন, বাটার চিকেন ও গোয়ান ফিশ কারির মতো জনপ্রিয় খাবার পরিবেশন করা যেত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নৈশভোজের মেনু নিয়ে কংগ্রেসের সমালোচনার জবাব দিয়েছে বিজেপি। দলটির অভিযোগ, নীতিগত ফলাফল নিয়ে আলোচনা না করে খাবারের মেনু নিয়ে কথা বলে কংগ্রেস একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ঘটনাকে তুচ্ছ করে দেখছে।

বিজেপির দাবি, সম্মেলনের সিদ্ধান্ত, বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ কিংবা ব্রিকস সদস্যদের মধ্যে ঐকমত্য তৈরিতে ভারতের ভূমিকা নিয়ে কোনো প্রশ্ন তুলতে না পেরে বিরোধীরা নৈশভোজের মেনু নিয়ে সমালোচনা করছে।

বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারি এক্সে লেখেন, সম্মেলনের সমালোচনা করার মতো বিরোধীদের কাছে যদি খাবারের মেনু ছাড়া আর কিছু না থাকে, তাহলে বুঝতে হবে ব্রিকস কতটা সফল হয়েছে। ভারতকে বৈশ্বিক ঐকমত্য তৈরির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে উঠে আসতে দেখে কংগ্রেস অসন্তুষ্ট বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিজেপির আরেক জাতীয় মুখপাত্র তুহিন সিনহা রাহুল গান্ধীর মন্তব্যকে ‘তুচ্ছ ও হাস্যকর’ বলে অভিহিত করেন। তার দাবি, এসব মন্তব্য কংগ্রেসের মানসিকতা প্রকাশ করে এবং এ কারণেই দলটি বর্তমানে ‘প্রান্তিক’ অবস্থানে রয়েছে।

তিনি বলেন, দায়িত্বশীল ও বিচক্ষণ বিরোধীদলীয় নেতা থাকলে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ভারতকে অভিনন্দন জানাতেন। নয়াদিল্লি ঘোষণার মাধ্যমে ভারত যে অর্জন করেছে, তা ঐতিহাসিক বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার দাবি, প্রথমবারের মতো সব ব্রিকস দেশকে গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক ইস্যুতে একক অবস্থান নিতে দেখা গেছে।

এদিকে দুর্গাপূজার সময় আমিষ খাবার খাওয়া নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে বিতর্কের মধ্যেই ব্রিকস নৈশভোজের মেনু নিয়ে এই রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
City bank
City bank