

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


গান গাওয়ার সুবাদে পৃথিবীর বহু দেশ ঘুরেছেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আসিফ আকবর। বিভিন্ন দেশে গিয়ে প্রবাসীদের জীবনযাত্রা কাছ থেকে দেখার সুযোগও হয়েছে তার। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই প্রবাসজীবনের নানা কষ্ট, সংকট ও দেশের প্রতি তাদের টান নিয়ে নিজের উপলব্ধির কথা জানিয়েছেন এই শিল্পী।
রোববার (১৬ আগস্ট) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে আসিফ আকবর লিখেছেন, দেশের বাইরে থাকলে মানুষের জীবনে প্রকৃত আনন্দ থাকে না। বরং নানা বাস্তবতার কারণে প্রবাসীরা বাধ্য হয়েই নিজেদের জীবনে আনন্দ খুঁজে নেন।
আসিফ লেখেন, ‘গান গাওয়ার সুবাদে পৃথিবীর বহু দেশ ঘুরেছি। প্রবাসীদের জীবনযাত্রা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণের সুযোগও হয়েছে। নিজের দেশের বাইরে আসলেই আনন্দ নেই, মানুষ বাধ্য হয়েই যাপিত জীবনে আনন্দ খুঁজে নেয়।’
প্রবাসজীবনের কষ্ট তুলে ধরে তিনি আরও লেখেন, ‘বৈধ কিংবা অবৈধ-যে উপায়েই হোক পরিবার পিছনে ফেলে প্রবাস জীবন নিদারুণ কষ্টের। মন থাকে দেশে, শরীর খাটে বিদেশে।’
উন্নত ও পশ্চিমা দেশগুলোর প্রবাসীদের জীবন নিয়েও নিজের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন আসিফ। তার মতে, এসব দেশে সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকায় তুলনামূলক স্বস্তিতে জীবনযাপন করা সম্ভব। তবে ব্যস্ত জীবনযাত্রার কারণে সেখানকার জীবন অনেকটাই যান্ত্রিক।
তিনি লেখেন, ‘উন্নত ও পশ্চিমা দেশগুলোয় সোশ্যাল সিকিউরিটি সার্বজনীন হওয়ায় কিছুটা স্বস্তির জীবন কাটানো যায়। সেখানকার জীবন খুব গতিময় হলেও লাইফস্টাইল রোবটিক। তারা বিনোদন খুঁজে নেওয়ার সামর্থ্য রাখেন।’
মালদ্বীপ, মালয়েশিয়াসহ দূরপ্রাচ্য ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বসবাস করেন বলেও উল্লেখ করেন এই সংগীতশিল্পী। আফ্রিকাতেও প্রবাসীর সংখ্যা বাড়ছে বলে জানান তিনি।
তবে এসব অঞ্চলে থাকা প্রবাসীদের নানা ঝুঁকির কথাও তুলে ধরেছেন আসিফ। তার মতে, দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে সীমাবদ্ধতা এবং ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতা বড় সংকট। পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে গিয়ে অনেক প্রবাসীকে সাগর, জঙ্গল ও পাহাড়ে প্রাণ হারাতে হচ্ছে।
মানব পাচারের ভয়াবহতার কথাও নিজের স্ট্যাটাসে তুলে ধরেছেন আসিফ আকবর। তিনি লিখেছেন, জিম্মি করে অর্থ আদায়ের মতো জঘন্য অপরাধে মানব পাচারকারীরা জড়িত। এ কারণে জেল, পুলিশ ও মামলার মতো পরিস্থিতিও অনেক প্রবাসীর জীবনে নৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
দুর্ঘটনায় নিহত কিংবা অসহায়-দরিদ্র প্রবাসীদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রেও নানা জটিলতার কথা উল্লেখ করেছেন তিনি। তার মতে, অনেক প্রবাসীর জীবনে বিনোদন বা স্বস্তির সুযোগ খুবই কম।
আসিফ লেখেন, ‘ভাগ্যবিড়ম্বিত প্রবাসীদের জীবনমানের দিকে নজর দেওয়ার সময় এসেছে, নিশ্চিত করতে হবে দেশে এসেও যেন তারা স্বস্তি পায়।’
দেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের অবদানের কথাও তুলে ধরেছেন আসিফ। তার ভাষায়, ‘প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড সোজা রেখেছে।’ তাই তাদের কল্যাণে আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
অবস্থাপন্ন প্রবাসীদের সম্পৃক্ত করে দূতাবাসগুলোর মধ্যে সমন্বিতভাবে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছেন আসিফ। একই সঙ্গে প্রবাসের স্থানীয় রাজনীতি যেন তাদের ন্যায্য অধিকার বাস্তবায়নের পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সেদিকেও নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রবাসীদের বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ তথ্যভান্ডার তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেছেন তিনি। তার মতে, প্রবাসী শুমারির মাধ্যমে প্রবাসীদের পূর্ণাঙ্গ তথ্যভান্ডার তৈরি করা এখন সময়ের দাবি।
মানব পাচার রোধে কঠোর নজরদারি ও অনিয়মের ক্ষেত্রে শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছেন আসিফ আকবর। তিনি মনে করেন, মানব পাচার বন্ধে প্রয়োজন সর্বাত্মক নজরদারি এবং যেকোনো অনিয়মে কঠোর শাস্তির প্রয়োগ।
সবশেষে নিজের স্ট্যাটাসের শেষে ‘ভালোবাসা অবিরাম...’ লিখে প্রবাসীদের প্রতি ভালোবাসা ও শুভকামনা জানিয়েছেন এই সংগীতশিল্পী।


