

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বাংলা চলচ্চিত্রের ৯০ দশকের অন্যতম ব্যস্ত এবং জনপ্রিয় পার্শ্ব-অভিনেত্রী ও নৃত্যশিল্পী নাসরিন। ক্যারিয়ারের শুরুতে তিনি মূলত গানে নাচ (আইটেম গান) এবং ছোটখাটো চরিত্রে অভিনয় দিয়ে নজর কাড়েন।
পরবর্তীতে তিনি পূর্ণাঙ্গ অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে আত্মপ্রকাশ করেন। ঢালিউডের প্রায় সব শীর্ষ তারকা যেমন- মান্না, সালমান শাহ, রিয়াজ, রুবেল এবং ওমর সানীসহ অনেকের সঙ্গেই তিনি রূপালি পর্দায় উপস্থিত হয়েছেন। সহ-অভিনেত্রী এবং নৃত্যশিল্পী হিসেবে তিনি পাঁচ শতাধিক চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন।
দিলদারের সাথে জুটি ও আলোড়ন
বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসের অন্যতম সফল কৌতুক অভিনেতা দিলদার। একসময় দিলদারের তুমুল জনপ্রিয়তা বিবেচনা করে নির্মাতারা তাকে মূল নায়ক করে চলচ্চিত্র নির্মাণ শুরু করেন। ১৯৯৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘আব্দুল্লাহ’ চলচ্চিত্রে দিলদারের বিপরীতে প্রধান নায়িকা হিসেবে অভিনয় করেন নাসরিন।
ছবিটি বক্স অফিসে অভাবনীয় সাফল্য পায় এবং তাদের রসায়ন দর্শক দারুণভাবে গ্রহণ করে। এরপর এই জুটিকে কেন্দ্র করে আরও বেশ কিছু চলচ্চিত্র তৈরি হয়।
সম্প্রতি একটি এনপিবিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নাসরিন তার তখনকার ক্যারিয়ার ও শিল্পী সমাজের মানসিকতা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন।
দিলদারের বিপরীতে ‘আব্দুল্লাহ’ ছবিতে নায়িকা হিসেবে কাজ করার পর ঢালিউডের অন্যান্য মূলধারার নায়করা নাসরিনের সাথে মূল নায়িকা হিসেবে কাজ করতে দ্বিধা করতেন। তাদের মধ্যে একটি ভয় কাজ করত যে, দর্শক হয়তো তাদের এই জুটি স্বাভাবিকভাবে মেনে নেবে না।
তৎকালীন সময়ে কৌতুক অভিনেতার নায়িকা হওয়াকে মূলধারার বাণিজ্যিক সিনেমার অনেকেই কিছুটা খাটো করে দেখতেন। নায়ক-নায়িকারা দিলদারের মতো অভিনেতার সাথে মূল চরিত্রে স্ক্রিন শেয়ার করতে এক ধরণের সামাজিক বা পেশাগত লজ্জা বোধ করতেন।
সহশিল্পীরা ভাবতেন, একজন কৌতুক অভিনেতার বিপরীতে নায়িকা হওয়ার পর সেই অভিনেত্রীকে দর্শকরা হয়তো আর গ্ল্যামারাস বা মূলধারার রোমান্টিক নায়িকা হিসেবে গ্রহণ করবে না বা ‘বাঁকা চোখে’ দেখবে।