

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


মুম্বাইয়ের বস্তিতে বেড়ে ওঠা থেকে নিজের দুটি অভিজাত বাড়ির মালিক হওয়া- অভিনেত্রী মহিমা মাকওয়ানার জীবনের গল্পটা রূপকথার মতো মনে হলেও এর পেছনে রয়েছে এক চরম সংগ্রামের ইতিহাস।
সম্প্রতি নেটফ্লিক্সের নতুন ওয়েব ফিল্ম ‘মুসাফির ক্যাফে’-তে দুর্দান্ত অভিনয় দিয়ে তিনি আবার নতুন করে দর্শকের মন জয় করেছেন।
শৈশবের সংগ্রাম ও মায়ের স্বপ্ন
মাত্র পাঁচ মাস বয়সে বাবাকে হারিয়েছিলেন মহিমা। চরম অভাবের সংসারেই মুম্বাইয়ের বস্তিতে বড় হন তিনি। অভিনয় করা কখনোই তার নিজের স্বপ্নের পেশা ছিল না, কিন্তু মায়ের ইচ্ছাকেই তিনি নিজের জীবনের লক্ষ্য বানিয়ে নেন।
ছোটবেলায় স্কুলের পড়া শেষ না করেই বাসে চড়ে একের পর এক অডিশন দিতে যেতেন। মহিমা জানান, ‘মা সবসময় অভিনেত্রী হতে চেয়েছিলেন, কিন্তু পেরে ওঠেননি। অভাবের দিনে মা আমাকে বলেছিলেন- এই পৃথিবী ছেড়ে যাওয়ার আগে তিনি অন্তত নিজের একটা বাড়ি দেখতে চান।’ মায়ের এই একটা কথাই মহিমার জীবনের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠে।
অপমান থেকে ঘুরে দাঁড়ানো
শিশুশিল্পী হিসেবে কাজ শুরু করতেই গিয়ে নানা কটু কথা শুনতে হয়েছে মহিমাকে। মাত্র ৯ বছর বয়সে ‘বালিকা বধূ’ ধারাবাহিকটির সেটে এক পরিচালক সরাসরি তাকে বলেছিলেন, ‘অভিনয়ই যদি না পারো, তবে এখানে কেন এসেছ?" সেই অপমানকে শক্তিতে রূপান্তর করেই তিনি এগিয়ে যান।
২০১২ সালে, মাত্র ১৩ বছর বয়সে জি টিভির জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘সাপনে সুহানে লাড়কাপান কে’-তে মূল চরিত্রে অভিনয় করার সুযোগ পান। শো-টি ব্যাপক হিট হওয়ার পর মাত্র ১৪ বছর বয়সেই নিজের উপার্জনে মায়ের জন্য প্রথম বাড়ি ও গাড়ি কেনেন তিনি।
টিভির পর্দা থেকে বড় পর্দায়
টেলিভিশনে প্রচুর সাফল্য ও জনপ্রিয়তা পেলেও চলচ্চিত্রের জগতে পথচলা সহজ ছিল না। দিনের পর দিন ‘টিভির অভিনেত্রী’ তকমা দিয়ে তাকে রিজেক্ট করা হয়েছে। তবে হাল ছাড়েননি তিনি।
অবশেষে ২০২১ সালে সালমান খানের সাথে ‘অন্তিম’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডের বড় পর্দায় অভিষেক হয় তার। মহিমার ভাষায়, ‘অন্তিম মুক্তির পর হঠাৎ করেই সবার আচরণ বদলে গিয়েছিল, সবাই হঠাৎ বন্ধু হতে চেয়েছিল। কিন্তু এর পেছনে যে আমার এক দশকের বেশি সময়ের হাড়ভাঙা খাটুনি ছিল, তা অনেকেই দেখেনি।’
সাফল্য ও মনের শূন্যতা
গত বছর, প্রথম বাড়ি কেনার ঠিক ১১ বছর পর মুম্বাইতে নিজের দ্বিতীয় ও আরও একটি বিলাসবহুল বাড়ি কেনেন মহিমা। তেলুগু সিনেমা, ওটিটি সিরিজ ‘শো-টাইম’ এবং অতিসম্প্রতি নেটফ্লিক্সের জনপ্রিয় হিট ‘মুসাফির ক্যাফে’-তে নিজের জাত চিনিয়েছেন। আজ মাত্র ২৬ বছর বয়সেই ইন্ডাস্ট্রিতে প্রায় দুই দশকের লম্বা জার্নি পূরণ করেছেন তিনি।
কোটি টাকার সম্পত্তি আর সাফল্য পেলেও মহিমার মনে একটা বড় শূন্যতা আজও রয়ে গেছে—তা হলো বাবাকে না পাওয়ার কষ্ট। মহিমা আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, ‘বাবা সঙ্গে থাকলে কেমন লাগে, আমি জানি না। বন্ধুদের যখন তাদের বাবার সাথে দেখি, বুকটা খালি লাগে। তবে সব কষ্ট জয় করে মাকে দেওয়া কথা রাখতে পেরেছি, এটাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় তৃপ্তি।’