বৃহস্পতিবার
০৬ আগস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বৃহস্পতিবার
০৬ আগস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘প্রথমে ভেবেছি আতশবাজির শব্দ, পরে শুনলাম গো/লা/গু/লি হয়েছে’

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ : ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৪৪ পিএম আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০৬:১৯ পিএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

সংগীতশিল্পী তাসরিফ খানের স্মৃতিচারণে উঠে এসেছে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের সেই ঐতিহাসিক ও উত্তাল দিনের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা। তার ভাবনায় দিনটির মুহূর্তগুলো-

জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আপামর জনতাকে রাজপথে নামার আহ্বান ৫ আগস্ট সকাল ৬টায় নিজের জীবন বাজি রেখে ফেসবুকে একটি বিশেষ বার্তা দেন তাসরিফ খান।

তিনি দেশের সাধারণ জনতা- শ্রমিক, কৃষক, গার্মেন্টসকর্মী, ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকদের রাজপথে নেমে আসার আকুল আহ্বান জানান।

একই সাথে ছাত্রলীগ ও যুবলীগকে আহ্বান জানিয়ে লেখেন, নিজেদের ভাইদের ওপর যেন তারা হাত না তোলে, কারণ সেদিন সত্যের জয় সুনিশ্চিত ছিল। পুলিশ ও সেনা সদস্যদের উদ্দেশ্যে তিনি মনে করিয়ে দেন যে, রাজপথে থাকা আন্দোলনকারীদের মধ্যে তাদের নিজেদের সন্তানরাও থাকতে পারে।

মিরপুরের থমথমে পরিস্থিতি ও বিজয়ের আভাস সকাল ৯টা বা সাড় ৯টার দিকে তাসরিফ খান ও তার সঙ্গীরা মিরপুরের উদ্দেশে রওনা হন। মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বরে তখন এক অত্যন্ত থমথমে ও রুদ্ধশ্বাস পরিবেশ বিরাজ করছিল।

সঠিক কোনো তথ্যের অভাবে চারপাশটা ছিল বিভ্রান্তিকর। অবশেষে দুপুরের দিকে যখন সেনাপ্রধানের ভাষণের ঘোষণা আসে, তখনই আন্দোলনকারীরা বুঝতে পারেন যে স্বৈরাচারের পতন ঘটেছে এবং দেশ মুক্ত হতে চলেছে।

মিরপুর ২ নম্বর থানার সামনে গুলির অভিজ্ঞতা বিকেলের দিকে সংসদ ভবন এলাকার পরিস্থিতি দেখতে যাওয়ার পথে মিরপুর ২ নম্বর থানার সামনে তাসরিফ খান এক আতঙ্কজনক ঘটনার মুখোমুখি হন।

মাত্র ২০-২৫ গজ দূরে একটি ছেলেকে গুলিবিদ্ধ হতে দেখেন তিনি। শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পরও গোলাগুলির শব্দ শুনে প্রথমে বিষয়টিকে আতশবাজি ভেবে ভুল করলেও, পরে বুঝতে পারেন থানা এলাকা থেকে ফায়ার করা হচ্ছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তিনি দ্রুত তার এক পরিচিত সেনা কর্মকর্তাকে ফোন করে মিরপুর থানায় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানান।

জনসমুদ্র পার হয়ে সংসদ ভবন ও ক্যাম্পাসে যাত্রা গণপরিবহন সম্পূর্ণ বন্ধ থাকায় লাখ লাখ মানুষের সাথে হেঁটে কল্যাণপুর হয়ে সংসদ ভবন এলাকায় পৌঁছান তিনি।

সেখান থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গিয়ে বন্ধুদের সাথে মিলিত হন এবং বিজয়ের আনন্দ ভাগাভাগি করেন। সন্ধ্যায় পরিবারের সদস্য ও কাজিনদের সাথে নিয়ে তিনি বিজয়ের উদ্যাপন অব্যাহত রাখেন।

রাতের আতঙ্ক, গুজব ও বিষাদের ছায়া রাত ৮টার দিকে মিরপুর ১৩ নম্বরে নিজের বাসায় ফেরার পথেও তাসরিফ খান গুলির শব্দ শুনতে পান। স্বৈরাচারী সরকারের পতনের পরও এমন ঘটনায় তিনি বিস্মিত হন।

পরে জানা যায়, পালিয়ে যাওয়া কিছু পুলিশ সদস্য আতঙ্ক সৃষ্টি করতে ওই গোলাগুলি চালাচ্ছিল। একই সাথে ছড়িয়ে পড়েছিল নানা ধরণের গুজব।

আনন্দের মধ্যেও দিনটি বেদনায় ভারাক্রান্ত ছিল, কারণ সেই ঐতিহাসিক বিজয়ের দিনেও দেশের বিভিন্ন স্থানে অনেক মানুষকে প্রাণ হারাতে হয়েছিল।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন