

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


কারফিউর ভয় কিংবা পরিবারের উদ্বেগ- কোনো কিছুই ঘরে আটকে রাখতে পারেনি অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনকে। আন্দোলনমুখী সাধারণ মানুষকে রাজপথে নামার আহ্বান জানিয়ে নিজে নিরাপদ আশ্রয়ে থমকে থাকাটা তার বিবেক সায় দেয়নি। বোরকা পরে সেদিন পুরো ঢাকা শহরে রিকশায় ঘুরে স্বাধীনতা উদযাপন করেছেন বাঁধন।
তীব্র নৈতিক দায়িত্ববোধ থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের থমথমে সকালে তিনি নেমে এসেছিলেন পিচঢালা পথে। মিরপুর ১০ থেকে কালশী ফ্লাইওভার পর্যন্ত হেঁটে যাওয়ার সময় চারপাশে ছিল লাখো জনতার স্রোত।
যেকোনো মুহূর্তে গুলি চলার শঙ্কা ও উৎকণ্ঠা থাকলেও বাঁধনের মনে ছিল রাজপথের গণমানুষের সাথে একাত্ম হওয়ার অদম্য তাগিদ।
দুপুর নাগাদ পরিস্থিতির চিত্র আমূল বদলে যায়। সেনাপ্রধানের ভাষণের খবরে অনিশ্চয়তার মেঘ কেটে এক ধরণের স্বস্তির বাতাস বইতে শুরু করে। আর স্বৈরাচারী শাসনের পতনের খবর ছড়াতেই রাজপথ রূপ নেয় এক বাঁধভাঙা উৎসবের নগরীতে।
থমথমে চত্বরগুলো মুহূর্তে ভেসে যায় আনন্দ-উচ্ছ্বাসে, কান্না, হাসি আর কোলাকুলিতে একাকার হয়ে যায় সর্বস্তরের মানুষ। রাজপথে নেমে আসা সাধারণ জনতা এ সময় বাঁধনকে কাছে পেয়ে জড়িয়ে ধরেন এবং কৃতজ্ঞতা জানাতে থাকেন।
তার বাবার বারণ করা সত্ত্বেও তিনি বোরকা পড়ে বিজয়ের সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত চাক্ষুষ করতে বাঁধন ঘুরে বেরিয়েছেন পুরো ঢাকা শহর। এক রিকশাওয়ালার সাথে শাহবাগ থেকে শহীদ মিনার পর্যন্ত ঘুরে, শেষমেশ খামারবাড়িতে এসে মিলেছিলেন সহযোদ্ধাদের সাথে।
এরপর বাইকে চড়ে এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে ঘরে ফেরার মুহূর্ত পর্যন্ত চারপাশের গণমানুষের এই অভূতপূর্ব উল্লাস প্রত্যক্ষ করাকে তিনি মনে করেন জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় ও 'ওয়ানস ইন আ লাইফটাইম' অভিজ্ঞতা।