রবিবার
২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রবিবার
২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চরিত্রের প্রয়োজনে চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত জুয়েল জহুর

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১২:২৯ পিএম
জুয়েল জহুর
expand
জুয়েল জহুর

বাংলাদেশের সাস্কৃতিক অঙ্গনে তরুণদের জয় জয়কার। বিশেষ করে দেশীয় অভিনয়শিল্প অঙ্গনের সমৃদ্ধিতে তরুণদের ভূমিকা অনেকটাই এগিয়ে। মঞ্চ, টিভি এবং চলচ্চিত্রে দাপিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন তরুণরা। দেশীয় সংস্কৃতি অঙ্গনে নিয়মিত কাজ করা মেধাবী তরুণদের মধ্যে অন্যতম জুয়েল জহুর।

অভিনেতা হিসেবে তিনি নিজের জাত চিনিয়েছেন যেমন মঞ্চে, তেমন টিভি নাটক রেডিও নাটক কিংবা সিনেমাতেও। তবে অভিনয়জীবনের শুরুটা খুব পরিকল্পিত ছিল না, বরং আগ্রহ আর চেষ্টা থেকেই পথচলা। ২০০৭ সালে টেলিভিশনের ‘নতুন মুখ প্রয়োজন’ বিজ্ঞাপন দেখে যোগাযোগ করেন তিনি। পাঁচ দিনের একটি ওয়ার্কশপে অংশ নেওয়ার পরই অভিনয়ের প্রতি টান তৈরি হয়। এরপর ইউনিসেফের একটি প্রজেক্টে সারা দেশে ২০০-র বেশি পথনাটকে অংশ নেন, যা তার অভিনয়জীবনের ভিত গড়ে দেয়।

অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসা তখন ধীরে ধীরে নেশায় পরিণত হয় জুয়েল জহুরের। বিভিন্ন প্রোডাকশন হাউস ও নির্মাতাদের কাছে ছবি ও বায়োডাটা পৌঁছে দিতে থাকেন। টানা তিন বছর চেষ্টা করার পর অবশেষে আসে সেই কাঙ্ক্ষিত সুযোগ-নির্মাতা নার্গিস আক্তারের টেলিফিল্মে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয়। এরপর আবু সাঈদের চলচ্চিত্র ‌অপেক্ষা' এবং ২০১১ সালে আলোচিত সিনেমা ‘নেকাব্বরের মহাপ্রয়াণ'-এ নাম ভূমিকায় অভিনয় তাকে বেশ পরিচিতি এনে দেয়। সেই থেকে টেলিভিশন, চলচ্চিত্র ও ওটিটিতে নিয়মিত কাজ করছেন। পাশাপাশি ২০০৭ সাল থেকেই থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত, প্রতিথযশা নাট্য দল নাগরিক নাট্যাঙ্গনের সক্রিয় সদস্য।

সম্প্রতি তার তিনটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের কাজ শেষ হয়েছে ফরহাদ হোসেনের ‘নাদান’, মাসুদ মহিউদ্দিনের ‘বকুল কথা’ এবং রাশিদা আক্তার লাজুকের ‘শাপলা শালুক’। এছাড়া আন্তর্জাতিক উৎসবকে সামনে রেখে হেমন্ত সাদিক নির্মিত শর্টফিল্ম ‘বাঘ বিধবা’ ও আহমেদ অভির ‘মানুষ’ নিয়েও তিনি আশাবাদী । তার মতে, প্রত্যাশা নির্ভর করে দর্শকের ওপর-দর্শক যদি কাজটি গ্রহণ করেন এবং চরিত্র নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা করেন, তবে একজন শিল্পীর সেটাই সাফল্য। বিভিন্ন মাধ্যমে বৈচিত্রময় চরিত্র নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘চ্যালেঞ্জ ছাড়া অভিনয় করা যায় না। ‘নেকাব্বরের মহাপ্রয়াণ-এর নাম ভূমিকাসহ মঞ্চে ‘রোমিও জুলিয়েট’, ‘গহর বাদশা ও বানেছা পরী’, ‘ক্রীতদাসের হাসি’, নাটকে নাম ভুমিকায় অভিনয় করেছেন। তার অভিজ্ঞতায়, এক চরিত্র থেকে আরেক চরিত্রে নিজেকে রূপান্তর করাই একজন অভিনেতার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, আর সেই সক্ষমতা তৈরির জন্য তিনি নিয়মিত থিয়েটার চর্চা করে যাচ্ছেন।

নিয়মিত কাজ না করার বিষয়ে তার ব্যাখ্যা, তিনি কাজের বাইরে থাকেন না; বরং বেছে কাজ করতে পছন্দ করেন। এমন চরিত্রে কাজ করতে চান, যেখানে নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করা যায়। তার মতে, ছোট ইন্ডাস্ট্রিতে সবসময় সেই সুযোগ আসে না, তবে সুযোগ পেলেই তিনি পুরোটা দিয়ে কাজ করেন।

চলচ্চিত্র ও থিয়েটার-দুটো মাধ্যমেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন অভিনেতা জুয়েল জহুর। চলচ্চিত্র তাকে বৃহৎ দর্শকের কাছে পৌঁছে দেয়, আর থিয়েটার তাকে প্রতিনিয়ত শাণিত করে। নাগরিক নাট্যাঙ্গন ইনস্টিটিউট অব ড্রামার বোর্ড অব ডিরেক্টর হিসেবে গত এক দশকের অভিজ্ঞতাকে তিনি গর্বের জায়গা হিসেবে দেখেন।

সংস্কৃতি অঙ্গনে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তিনি বলেন, একজন অভিনেতা হিসেবেই নিজেকে দেখতে চান। তার বিশ্বাস, ভালো কাজ একা সম্ভব নয়; সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই মানসম্মত কাজ তৈরি হয়। ইন্ডাস্ট্রির নানা বাধা পেরিয়ে যদি সঠিক সহযোগিতা পাওয়া যায়, তাহলে নিজের সামর্থ্য দিয়ে আরও ভালো কাজ উপহার দিতে চান তিনি।

নতুনদের জন্য জুয়েল জহুরের পরামর্শ, একজন অভিনেতা সবসময়ই নতুন। প্রতিনিয়ত অনুশীলন, তীব্র ইচ্ছাশক্তি এবং চ্যালেঞ্জ গ্রহণের মানসিকতাই একজন শিল্পীকে এগিয়ে নেয়।

এছাড়া ‘১৯৭১ সেই সব দিন’ সিনেমাকে তিনি তার ক্যারিয়ারের একটি বিশেষ অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখেন। এই চলচ্চিত্রে অভিনয়ের পাশাপাশি সহকারী পরিচালক, লাইন প্রোডিউসার এবং কস্টিউম ডিজাইন টিমের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবেও কাজ করেছেন। দীর্ঘ প্রি-প্রোডাকশন, শুটিং ও পোস্ট-প্রোডাকশনের পর সিনেমাটি ঘিরে দর্শকের আগ্রহ, বক্স অফিস সাফল্য এবং দেশ-বিদেশে বিভিন্ন উৎসবে পুরস্কার পাওয়া-সব মিলিয়ে এটি তার জন্য এক গর্বের অধ্যায়। সব মিলিয়ে মঞ্চ, টিভি নাটক এবং সিনেমায় সৃজনশীল ও নতুন নতুন চরিত্র নির্মাণ ও রূপায়নের মাধ্যমে নিজেকে নিয়ে যেতে চান অনন্য উচ্চতায়। এ যাবৎ যেভাবে সংস্কৃতি অঙ্গনে ভূমিকা রেখেছেন ভবিষ্যতে সেই পথচলাকে আরো ঋদ্ধ করতে চান তিনি।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
UPCOMING
Spain VS Saudi Arabia
Scheduled
21 Jun, 10:00 PM
VS
World Cup