শুক্রবার
৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭ মাঘ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭ মাঘ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঢাকা-৯ আসনে তাসনিম জারার মুখোমুখি হাবিব ও জাবেদ

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৪৭ এএম
হাবিবুর রশিদ হাবিব, জাবেদ রাসিন, ডা. তাসনিম জারা
expand
হাবিবুর রশিদ হাবিব, জাবেদ রাসিন, ডা. তাসনিম জারা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র দুই সপ্তাহ বাকি। শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ আসন ঢাকা-৯-এও ভোটের আমেজ স্পষ্ট।

সবুজবাগ, খিলগাঁও, বাসাবো ও মুগদা নিয়ে গঠিত এই আসনে এবার ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয় ভোটাররা।

এ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হাবিবুর রশিদ হাবিব। জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক জাবেদ রাসিন।

অন্যদিকে এনসিপি থেকে সরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় এসেছেন চিকিৎসক ডা. তাসনিম জারা। স্থানীয়দের মতে, এই তিনজনের মধ্যেই মূল লড়াই সীমাবদ্ধ থাকবে।

দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ঢাকা-৯ আসনে উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়নি বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের। রাস্তাঘাটের বেহাল অবস্থা, মাদক সমস্যার বিস্তার, শীত মৌসুমে তীব্র গ্যাস সংকট এবং বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা এখানকার নিত্যদিনের চিত্র। ফুটপাত দখল, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের অভিযোগও রয়েছে। এসব কারণে ভোটারদের মধ্যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা প্রবল। তারা বলছেন, এবার শুধু দলীয় পরিচয় নয়—প্রার্থীর ব্যক্তিগত সততা, অতীত ও বর্তমান কর্মকাণ্ড বিবেচনা করেই ভোট দেবেন।

মধ্য বাসাবোর বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী বলেন, গত প্রায় ১৭ বছরে এলাকায় দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়নি। সড়কগুলো ভাঙাচোরা, মাদকের প্রকোপ মারাত্মক। তিনি আশা প্রকাশ করেন, যেই নির্বাচিত হোক, সে যেন এলাকার দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো সমাধানে আন্তরিক ভূমিকা রাখেন।

নন্দীপাড়ার বাসিন্দা মোরশেদ আলমের ভাষ্য, ভোটের আগে অনেক প্রতিশ্রুতি শোনা গেলেও বাস্তবায়ন খুব কমই দেখা যায়। তবে দীর্ঘ সময় পর ভোট দেওয়ার সুযোগ পাওয়াটাই বড় বিষয়। তিনি মনে করেন, এবার ঢাকা-৯ আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে পারে। স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারার প্রতি তরুণদের একাংশের আগ্রহ রয়েছে, অন্যদিকে জাবেদ রাসিনের পেছনে রয়েছে জামায়াতের সংগঠনিক সমর্থন। আর বিএনপি প্রার্থী হাবিবুর রশিদ শুরু থেকেই এলাকায় পরিচিত ও গ্রহণযোগ্য মুখ।

খিলগাঁও তালতলার ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী তারেক হোসেন বলেন, বিএনপি প্রার্থীর শক্ত অবস্থান থাকলেও শিক্ষার্থী ও তরুণদের মধ্যে অন্য প্রার্থীদের নিয়েও আলোচনা চলছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাসনিম জারাকে ঘিরে আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তিনি বলেন, দলীয় প্রভাবের বাইরে যোগ্যতা বিবেচনায় ভোট দেওয়ার সংস্কৃতি গড়ে ওঠা দরকার।

তিলপাপাড়ার বাসিন্দা শামসুল হক জানান, সুষ্ঠু ভোট হলে এখানে ফলাফল খুব কাছাকাছি হতে পারে। বিএনপি প্রকাশ্য প্রচারণায় এগিয়ে থাকলেও জামায়াত ঘরে ঘরে যোগাযোগ করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রচারণা ও বিশ্লেষণ বাড়ছে। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত থাকার পর মানুষ এবার স্বচ্ছ নির্বাচন প্রত্যাশা করছে।

বিএনপি প্রার্থী হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, তিনি দীর্ঘ ৩৮ বছর ধরে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং এলাকার মানুষের সমস্যাগুলো তার নিজের সমস্যাও। তার মতে, ঢাকা-৯ নাগরিক সুবিধাবঞ্চিত একটি এলাকা। খাল উদ্ধার, উন্নত সড়ক, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন এবং মাদক-সন্ত্রাসমুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলাই তার অগ্রাধিকার।

এনসিপি প্রার্থী জাবেদ রাসিন বলেন, ঢাকা-৯ আসনের যোগাযোগ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে অবহেলার শিকার। তিনি কুটির শিল্প ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার পাশাপাশি আইটি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণ ও নারীদের কর্মসংস্থানের পরিকল্পনার কথা জানান।

স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা বলেন, ঘনবসতিপূর্ণ এই এলাকায় কর ও বিল নিয়মিত পরিশোধ করলেও মানুষ কাঙ্ক্ষিত নাগরিক সুবিধা পাচ্ছে না। গ্যাস সংকট, জলাবদ্ধতা, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার মতো রোগ এবং মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সেবার সীমাবদ্ধতা বড় সমস্যা। এসব বিষয়ে তার নির্বাচনী ইশতেহারে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, ঢাকা-৯ আসনটি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭, ৭১, ৭২, ৭৩, ৭৪ ও ৭৫ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৪৯ হাজার ৯৫২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ২৮ হাজার ৩৬৪ জন এবং নারী ভোটার ২ লাখ ২১ হাজার ৫৮৭ জন।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X