

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পিরোজপুর-৩ (মঠবাড়িয়া) আসনে রাজনৈতিক উত্তাপ এখন তুঙ্গে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচনে মূলত ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
হেভিওয়েট প্রার্থী, দলীয় প্রতীক এবং স্বতন্ত্র ইমেজের লড়াইয়ে কে এগিয়ে থাকবেন, তা নিয়েই এখন চলছে ভোটারদের চুলচেরা বিশ্লেষণ।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৪১ হাজার ৩৬১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ২২ হাজার ৪৫ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ১৯ হাজার ৩১৫ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১ জন। বিপুল এই ভোটব্যাংক নিজেদের পক্ষে টানতে প্রার্থীরা দিন-রাত চষে বেড়াচ্ছেন নির্বাচনী মাঠ।
মাঠের জরিপ ও সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং ১০ দলীয় জোট (এনসিপি) প্রার্থীর মধ্যে।
বিএনপি (ধানের শীষ): উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. রুহুল আমিন দুলাল ‘ধানের শীষ’ প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও দলীয় সাংগঠনিক শক্তিকে পুঁজি করে তিনি জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। তিনি বলেন, “বিগত দিনের স্বৈরাচারী সরকারের দুঃসহ যন্ত্রণা থেকে মানুষ মুক্তি পেয়েছে। ইনশাআল্লাহ, মঠবাড়িয়ার মানুষ ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিএনপিকে জয়যুক্ত করবে।” তিনি মাদকমুক্ত ও সন্ত্রাসমুক্ত মঠবাড়িয়া গড়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (হাতপাখা): এই আসনের সাবেক চারবারের সংসদ সদস্য ডা. রুস্তুম আলী ফরাজি এবার লড়ছেন ‘হাতপাখা’ প্রতীকে। ব্যক্তিগত ভোটব্যাংক ও অতীতে এলাকায় ৮০ শতাংশ উন্নয়ন কাজের দাবি করে তিনি বলেন, “আমার অর্থ-সম্পদ বা দলীয় ক্ষমতায় ভরসা নেই। আমি উন্নয়ন ও জনগনের ভালোবাসায় বিশ্বাসী।” তবে তিনি নির্বাচনী মাঠে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘন ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও তুলেছেন।
এনসিপি/১০ দলীয় জোট (শাপলা কলি): নতুন রাজনৈতিক ধারার প্রবর্তন ও ৫ আগস্টের পরবর্তী প্রেক্ষাপটকে সামনে রেখে লড়ছেন ড. শামীম হামিদী। তরুণ ভোটারদের ওপর ভরসা রেখে তিনি বলেন, “৫ আগস্টের পর ‘হেভিওয়েট’ বলে কোনো শব্দ নেই। গত ১৭ বছর দিনের ভোট রাতে হয়েছে। আমরা আগামীর সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে দেব।” তিনি মাদক নির্মূলে জাতীয় সংসদে আইন তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এই ত্রিমুখী লড়াইয়ের বাইরেও মাঠে সক্রিয় রয়েছেন আরও কয়েকজন প্রার্থী। জাতীয় পার্টি থেকে ‘লাঙ্গল’ প্রতীকে লড়ছেন মো. মাশরেকুল আজম রবি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (বাংলাদেশ জাসদ) থেকে ‘মোটরগাড়ি’ প্রতীকে করিম সিকদার এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ‘ফুটবল’ প্রতীক নিয়ে লড়ছেন তৌহিদুজ্জামান।
দীর্ঘদিন পর ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেছে। ভোটাররা চান একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন, যেখানে তারা নিরাপদে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে বেছে নিতে পারবেন। মাদকের বিস্তার রোধ এবং মঠবাড়িয়ার অবকাঠামোগত উন্নয়নই এখন ভোটারদের প্রধান দাবি।
সব মিলিয়ে ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটের ফলের দিকেই এখন তাকিয়ে আছে পুরো মঠবাড়িয়াবাসী।
মন্তব্য করুন
