

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


প্রস্তাবিত ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে এর প্রভাব নিয়ে ডিপার্টমেন্ট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ও ডিপার্টমেন্ট অফ ইকনমিক্স এর সহযোগিতায় পোস্ট-বাজেট সিম্পোজিয়ামের আয়োজন করেছে স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ। এতে নীতিনির্ধারক, অর্থনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ ও শিল্পখাতের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়ে বাজেটের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় করেন।
সিম্পোজিয়ামে সভাপতিত্ব করেন স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শরীফ নাফে আস সাবের। তিনি বলেন, শুধু অর্থ বরাদ্দ করলেই হবে না, সেই অর্থ সঠিকভাবে ব্যয় করার সক্ষমতাও থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, জনগণ, শিল্পখাত ও শিক্ষাঙ্গনের সমন্বয় ছাড়া কোনো বাজেটই প্রকৃত অর্থে সফল হতে পারে না। এ সময় তিনি স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটিকে ‘একটি উৎকর্ষের স্থান’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আলোচক বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ৭ হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা দেশের জ্বালানি খাতের অগ্রগতির প্রতিফলন।
বিশ্বব্যাংকের জ্যেষ্ঠ কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. ইফতিখার মোস্তফা বলেন, বাজেট কেবল সংখ্যার সমষ্টি নয়; এটি মানুষের আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশার প্রতিফলন। তাই বাজেট প্রণয়নে জনগণকেন্দ্রিক পরিকল্পনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) অতিরিক্ত সচিব এ কে এম সোহেল বলেন, আগের বছরের তুলনায় দেশে বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে, যা জাতীয় অর্থনীতির প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধির ইঙ্গিত বহন করে।
বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম প্রস্তাবিত বাজেটকে গত বছরের তুলনায় উন্নত উল্লেখ করে বলেন, এটি শিল্প ও রপ্তানি খাতকে আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান ও দুর্নীতি দমন কমিশনের সাবেক কমিশনার ড. নাসির উদ্দিন আহমেদ বলেন, ভারত ও পাকিস্তানে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে উল্লেখযোগ্য ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে এবং দেশ দুটি তাদের মূল পরিকল্পনা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে পারেনি।
সিম্পোজিয়ামটি সঞ্চালনা করেন ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফারিয়া কবির। অনুষ্ঠান যৌথভাবে পরিচালনা করেন ফারিয়া কবির এবং অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সুস্মিতা বণিক।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী শামসুল ইসলাম ইয়াসিন পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াত করেন। পরে আইন বিভাগের শিক্ষার্থী শুভ্র বৈরাগী শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা থেকে পাঠ করেন।
স্বাগত বক্তব্য দেন অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. আবদুস সাত্তার। এ ছাড়া বক্তব্য দেন মার্কেটিং বিভাগের প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক নাজমুল হক, প্রাতিষ্ঠানিক মানোন্নয়ন সেলের (আইকিউএসি) পরিচালক ও সহযোগী অধ্যাপক আজিজুল হক এবং অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফারজানা সুলতানা।
অনুষ্ঠানের শেষে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ম্যানেজমেন্ট এন্ড হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট এর প্রধান গোলাম রব্বানী। তিনি অতিথি, বক্তা, আয়োজক ও মিডিয়া পার্টনার সহ সকলঅংশগ্রহণকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
সিম্পোজিয়ামে আরও উপস্থিত ছিলেন স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের প্রক্টর ও সহযোগী অধ্যাপক ড. মৃত্যুঞ্জয় আচার্য্য, রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ আব্দুল মতিন, জনসংযোগ বিভাগের প্রধান প্রদীপ্ত মোবারক, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগের চেয়ারম্যান, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
অনুষ্ঠানে জাতীয় বাজেট, অর্থনৈতিক নীতি, বিনিয়োগ, জ্বালানি উন্নয়ন এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সরকার, শিল্প ও শিক্ষাঙ্গনের মধ্যে সমন্বয় জোরদারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
