

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় সংগীত শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, এর ফলে সংগীত বিষয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কর্মক্ষেত্র আরও প্রসারিত হবে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন ) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী রবীন্দ্র-নজরুল উৎসবের দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠান ‘নজরুল পর্বে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের আয়োজনে এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় এ উৎসবের আয়োজন করা হয়।
ববী হাজ্জাজ বলেন, নাটক, সিনেমা, আবৃত্তি কিংবা সংস্কৃতির যেকোনো শাখার মূল উৎস হচ্ছে সংগীত। শত শত বছর ধরে এ অঞ্চলের ধর্মীয়, ঐতিহাসিক ও সাহিত্যিক চর্চার সঙ্গে সংগীত নিবিড়ভাবে জড়িত। ধর্মীয় অনুশীলন ও ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়েও সংগীত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এসেছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলা সংস্কৃতির দুই মহান দিকপাল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টি ও দর্শন বাংলা সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। সংগীতকে কোনো নির্দিষ্ট পরিসরে সীমাবদ্ধ না রেখে সমাজের সর্বস্তরে ছড়িয়ে দিতে হবে। সংগীত মানুষের অনুভূতি, চিন্তা ও সৃজনশীলতার বহুমাত্রিক প্রকাশের অন্যতম মাধ্যম বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগীত বিভাগের চেয়ারম্যান ড. অণিমা রায়।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন বলেন, বাঙালির চিন্তা-চেতনা, মনন ও সাংস্কৃতিক বিকাশে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের প্রভাব সবচেয়ে বেশি। তাঁরা নিজ নিজ কর্ম ও সৃষ্টির মাধ্যমে স্বতন্ত্র উচ্চতায় অধিষ্ঠিত হয়েছেন এবং বাঙালির জীবনচলার পথে অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন।
অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন সাম্যবাদী, মানবতাবাদী ও সময়সচেতন কবি। তাঁর সাহিত্য ও দর্শন বর্তমান সমাজেও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। তিনি তরুণদের নিজস্ব জাতিসত্তা, ইতিহাস ও সংস্কৃতির শিকড় অনুসন্ধানের আহ্বান জানান।
আলোচনা পর্ব শেষে অনুষ্ঠিত হয় বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে দেশের প্রখ্যাত নজরুলসংগীত শিল্পী ফেরদৌস আরা, ইয়াকুব আলী খান, ইয়াসমিন মুশতারী ও টিটু মুন্সি সংগীত পরিবেশন করেন। এছাড়া জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, শান্তা-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি, ধৃতি নর্তনালয় এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে।
উল্লেখ্য, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, সংগীত এবং মানবিক দর্শনের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে দুই দিনব্যাপী রবীন্দ্র-নজরুল উৎসবের সমাপনী আয়োজন সম্পন্ন হয়।