

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি)কে আধুনিক, আবাসিক ও পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপ দিতে প্রায় ৭০০ কোটি টাকার বৃহৎ অবকাঠামোগত উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রাথমিক ধাপ অতিক্রম করেছে। আবাসন সংকট নিরসন, একাডেমিক অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং নিরাপদ পানি নিশ্চিতকরণ - এই তিন লক্ষ্যকে সামনে রেখে একাধিক প্রকল্প এখন বাস্তবায়নের পথে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে আবাসিক হলের স্বল্পতা, শ্রেণিকক্ষ সংকট, প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতা এবং সামগ্রিক অবকাঠামোগত দুর্বলতার কারণে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি বেড়েই চলেছে। এসব সমস্যা সমাধানে বড় পরিসরের উন্নয়ন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে প্রশাসন।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) প্রণয়নের অংশ হিসেবে আন্তঃমন্ত্রণালয় প্রোগ্রামিং কমিটির সভায় নোবিপ্রবির একাধিক উন্নয়ন প্রকল্প ‘সবুজ পাতায়’ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। গত সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাজধানীর এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ওই সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল অংশ নেন। বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের কার্যক্রম বিভাগের সদস্য (সচিব) এস এম সাকিল আক্তারের সভাপতিত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় উপস্থাপিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে—একাডেমিক ভবন-৪ নির্মাণ, স্টেম (STEM) এক্সিলেন্স হাব প্রতিষ্ঠা, নতুন চারটি আবাসিক হল নির্মাণ এবং অন্যান্য ভৌত সুবিধা সম্প্রসারণ। পাশাপাশি নোবিপ্রবি ও আশপাশের এলাকায় নিরাপদ পানি নিশ্চিত করতে লবণাক্ততা ও আয়রন দূরীকরণ কৌশলসংবলিত পৃথক একটি প্রকল্পও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
এসব প্রকল্পের জন্য প্রায় ৭০০ কোটি টাকার প্রস্তাব ইতিমধ্যে প্রাথমিক অনুমোদনের ধাপ পার হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মতে, প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে নোবিপ্রবি অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করবে। একই সঙ্গে নতুন আবাসিক হল নির্মাণের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের আবাসন সংকট অনেকটাই কমে আসবে।
শিক্ষার্থীদের অনেকেই বলছেন, প্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও কাঙ্ক্ষিত অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি। এমন একটি সমন্বিত মাস্টার প্ল্যান বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অত্যন্ত জরুরি ছিল। দ্রুত বাস্তবায়ন হলে শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত হবে বলে তারা আশা করছেন।
এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিকমানের শিক্ষা ও গবেষণার উপযোগী করতে ভৌত অবকাঠামোগত উন্নয়ন অপরিহার্য। এডিপিতে প্রকল্পগুলো অন্তর্ভুক্ত হওয়া একটি বড় অগ্রগতি। নতুন আবাসিক হল নির্মিত হলে শিক্ষার্থীদের আবাসন সমস্যা অনেকটাই দূর হবে। পাশাপাশি নিরাপদ পানি নিশ্চিতকরণ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বিশ্ববিদ্যালয়সহ আশপাশের এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘব হবে।
মন্তব্য করুন