সোমবার
৩০ মার্চ ২০২৬, ১৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার
৩০ মার্চ ২০২৬, ১৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যবিপ্রবিতে রাস্তা নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ, হাত দিলেই উঠে যাচ্ছে পিচ 

যবিপ্রবি প্রতিনিধি
প্রকাশ : ৩০ মার্চ ২০২৬, ০৮:৫৬ পিএম
যবিপ্রবিতে রাস্তা নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ, হাত দিলেই উঠে যাচ্ছে পিচ 
expand
যবিপ্রবিতে রাস্তা নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ, হাত দিলেই উঠে যাচ্ছে পিচ 

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) রাস্তা নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই হাতের চাপেই উঠে যাচ্ছে রাস্তার পিচ। এতে দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলীদের অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে কেন্দ্রীয় মসজিদ পর্যন্ত প্রায় ১০০ মিটার লম্বা রাস্তা তৈরীর কাজ চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে শুরু হয়। কিন্তু রাস্তার কাজ শেষ হতে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি সময় লাগায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও জনসাধারণের চলাচলে দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়।

পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে শিক্ষার্থীদের সমালোচনা মুখে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এক মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার পরিকল্পনার একটি ব্যানার রাস্তায় টানিয়ে দেয়। ব্যানার অনুযায়ী রাস্তার কাজ ফেব্রুয়ারী মাসের মধ্যে শেষ করার কথা থাকলেও তা মার্চ মাসেও শেষ হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, রাস্তার কাজে বিলম্ব হওয়ায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি দূর করার জন্য যবিপ্রবি রেজিস্ট্রার কাজী মো. জালাল উদ্দীন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তৌহিদ ইমামকে ঈদুল ফিতরের পূর্বে কাজ শেষ করার নির্দেশনা প্রদান করা হয়। উক্ত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথাও উল্লেখ করা হয় চিঠিতে। এছাড়া রাস্তার কাজ তত্ত্বাবধান করার দায়িত্ব প্রদান করা হয় উপ-প্রধান প্রকৌশলী মো. নাজমুস সাকিবকে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পিচ দেওয়ার এগারো দিন পরেও রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় হাত দিলেই পিচ উঠে যাচ্ছে। পিচ ঢালা রাস্তার স্থানে স্থানে ফুলে ফাঁপা হয়ে উঠেছে।

এ বিষয়ে জিইবিটি বিভাগের শিক্ষার্থী সামিউল আলিম বলেন, একটি রাস্তা সম্পন্ন করতে যেসব উপকরণ ব্যবহার করা হয় সেসব না করেই তড়িঘড়ি করে লোক দেখানো দায়সারা কাজ করেছে। রাস্তায় নিম্নমানের বিটুমিন ব্যবহার করাতে এখনো রাস্তা ঠিক মতো জমেনি। ফলে হাত দিয়েই উঠানো যাচ্ছে রাস্তার বিভিন্ন অংশ। দুর্নীতি, অন্যায় অনিয়ম ছাড়া এমন মানহীন রাস্তা তৈরি করা সম্ভব নয়। ইঞ্জিনিয়ার দপ্তরের অবহেলা, টাকা নিজ পকেটে ভরে তারা কাজের কোন জবাবদিহি না করেই লাপাত্তা হয়েছেন।’

অনিয়মের বিষয়টি অস্বীকার করে নির্বাহী প্রকৌশলী তৌহিদ ইমাম বলেন, ‘আমাদের ক্যাম্পাসে যেসব বিআরটিসি বাস চলে, সেগুলোর ট্যাংকে লিকেজ থাকার কারণে বাস থেকে ডিজেল চুইয়ে পড়ে, যার কারণে রাস্তা ফুলে উঠতে দেখা যায়। আমরা পরিবহন দপ্তরকে তাদের বাসগুলো অন্যত্র সরানোর জন্য বলেছি।’

এ বিষয়ে উপ-প্রধান প্রকৌশলী মো. নাজমুস সাকিব বলেন, নবনির্মিত রাস্তা মজবুত হতে কিছুটা সময়ের প্রয়োজন হয়। মজবুত না থাকার কারণে মূলত পিচ উঠে যাচ্ছে। এছাড়াও রাস্তার কাজ পুরোপুরি এখনো সম্পূর্ণ হয়নি।

প্রধান প্রকৌশলী ড. মো. মোখলেসুর রহমান বলেন, ‘আমাদের প্রত্যেক প্রকৌশলী যেন কাজের সময় স্পটে উপস্থিত থাকে এটা নিশ্চিত করেছি। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত আমি নিজে উপস্থিত থেকে কাজের মান নিশ্চিত করেছি। এখন রাস্তার পিচ কেন উঠে যাচ্ছে তার পেছনের কেমিস্ট্রি আমার জানা নেই। পুরুত্বের মান, রোলার চালানো, প্রয়োজনীয় তাপমাত্রা নিশ্চিত করতে আমি সর্বদা উপস্থিত ছিলাম। রাস্তার কাজ শেষ হলে আমরা অভিজ্ঞদের দ্বারা রাস্তার মান আরো ভালোভাবে পরীক্ষা করবো।’

এদিকে নির্ধারিত সময়ে কাজ সম্পন্ন না হওয়া প্রসঙ্গে যবিপ্রবি রেজিস্ট্রার কাজী মো. জালাল উদ্দীন বলেন, ‘আমরা দ্রুতই এ বিষয়ে প্রকৌশলীদের জিজ্ঞাসাবাদ করবো। যদি সঠিক জবাব না পাই, আমরা দায়িত্বরতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন