মঙ্গলবার
১৭ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
১৭ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফাঁকা ক্যাম্পাসে ক্ষুধার্ত কুকুর-বিড়ালের আর্তনাদ, খাবারের খোঁজে ছুটোছুটি

নোবিপ্রবি প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৭ মার্চ ২০২৬, ০৮:১৬ পিএম
খাবারের সন্ধানে দিকবিদিক ছুটছে ক্যাম্পাসের অসহায় কুকুর ও বিড়াল
expand
খাবারের সন্ধানে দিকবিদিক ছুটছে ক্যাম্পাসের অসহায় কুকুর ও বিড়াল

ঈদের ছুটিতে ফাঁকা হয়ে পড়েছে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) ক্যাম্পাস। শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতিতে নিস্তব্ধ এই প্রাঙ্গণে এখন ভিন্ন এক চিত্র। খাবারের সন্ধানে দিকবিদিক ছুটছে ক্যাম্পাসের অসহায় কুকুর ও বিড়ালগুলো।

প্রতিদিন শিক্ষার্থীদের দেওয়া খাবারের ওপর নির্ভরশীল এসব প্রাণী এখন পড়েছে চরম খাদ্য সংকটে। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক, আবাসিক হলের সামনে ও ডাস্টবিনের আশপাশে এসব প্রাণীকে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়। অনেক সময় তারা পথচারীদের পিছু নিচ্ছে খাবারের আশায়। আগে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের দেওয়া খাবারের ওপর নির্ভরশীল থাকলেও ছুটির সময় সেই জোগান প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।

হলে অবস্থানরত কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, ক্লাস চলাকালীন সময়ে অনেকেই নিয়মিত এসব প্রাণীকে খাবার দিতেন। কিন্তু ছুটি শুরু হওয়ায় ক্যাম্পাস ফাঁকা হয়ে পড়েছে, ফলে প্রাণীগুলো এখন খাবার পাচ্ছে না। এতে তাদের আচরণেও পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অনেক সময় খাবারের খোঁজে তারা অস্থির হয়ে পড়ছে।

ভাষা শহীদ আবদুস সালাম হলের শিক্ষার্থী বিল্লাল হোসেন বলেন, “আমরা থাকলে প্রতিদিনই কিছু না কিছু খাবার দিতাম। এখন ছুটির কারণে ক্যাম্পাসে মানুষ কম, তাই ওরা খুব কষ্টে আছে।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশে থাকা কিছু দোকানও বন্ধ থাকায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। ফলে খাবারের জন্য প্রাণীগুলোকে দীর্ঘ সময় ঘুরে বেড়াতে হচ্ছে।

এর আগে গত দুই বছর ঈদের ছুটিতে নোবিপ্রবি শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আলজকি হোসেন বাড়িতে না গিয়ে ক্যাম্পাসে অবস্থান করে নিয়মিত কুকুর–বিড়ালদের খাবার দিতেন। তাঁর এ উদ্যোগে পথপ্রাণীগুলোর খাবারের সংকট অনেকটাই লাঘব হয়েছিলো।

তবে এবার অসুস্থতার কারণে তিনি ক্যাম্পাসে থাকতে পারেননি। ফলে এ বছর এখন পর্যন্ত তেমন কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি।

আলজকি হোসেন বলেন, "আমার শারীরিক অসুস্থতা এবং পারিবারিক কিছু বিষয়ে ব্যস্ত থাকার কারণে এবছর কুকুর-বিড়ালদের খাবারের ব্যবস্থা করতে সক্ষম হই নি। তবে পারিবারিক সমস্যাগুলো কাটিয়ে এবং নিজে শারিরীকভাবে সুস্থ হয়ে উঠলেই আবার আগের মতো ক্যাম্পাসের পথপ্রাণীদের জন্য ইনশাআল্লাহ কাজ শুরু করবো।"

এ বিষয়ে পশুপ্রেমী শিক্ষার্থীরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বা স্থানীয়দের উদ্যোগে এই সময়টাতে প্রাণীগুলোর জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা গেলে তাদের কষ্ট কিছুটা লাঘব হতে পারে।

মানবিকতার এই দৃষ্টান্তে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, “প্রাণীগুলোও এই ক্যাম্পাসেরই অংশ। তাদের প্রতিও আমাদের দায়িত্ব রয়েছে।”

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন