

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে সড়ক, রেল, নৌ ও আকাশপথে ঘরমুখো মানুষের চাপ ক্রমেই বাড়ছে। তবে চাপ বাড়লেও এখন পর্যন্ত দেশের কোথাও বড় ধরনের যানজট বা বিশৃঙ্খলার খবর পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘ ছুটি ও প্রশাসনের তৎপরতায় এবারের ঈদযাত্রা অনেকটাই স্বস্তিদায়ক হচ্ছে।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দিবাগত রাত পর্যন্ত দেশের প্রধান মহাসড়কগুলোতে যানবাহনের চাপ থাকলেও কোথাও স্থবিরতা দেখা যায়নি। ঢাকা-যমুনা সেতু মহাসড়কের কড্ডার মোড়, নকলা ও হাটিকুমরুলসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে যান চলাচল ছিল স্বাভাবিক। যমুনা সেতু পারাপারেও নেই ভোগান্তি।
এ বিষয়ে সড়ক পরিবহন ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানান, ঈদকে ঘিরে দুই থেকে তিনদিনে প্রায় দেড় কোটি মানুষ ঢাকা ছাড়ছেন। যাত্রীদের স্বস্তিদায়ক যাত্রা নিশ্চিত করতে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে।
এদিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কেও বাড়ছে যানবাহনের চাপ, তবে যানজট নেই। দাউদকান্দি হাইওয়ে পুলিশ জানায়, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে দিন-রাত সড়কে টহল জোরদার করা হয়েছে।
দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম প্রবেশদ্বার পদ্মা সেতুতেও ভোর থেকেই বেড়েছে যানবাহনের চাপ। তবে টোল প্লাজায় দ্রুত টোল আদায়ের ফলে কোথাও দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়নি।
রেলপথেও এবারের ঈদযাত্রা তুলনামূলক স্বস্তির। রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে অধিকাংশ ট্রেন সময়মতো ছেড়ে যাচ্ছে। গতকাল মোট ৬০টি ট্রেন ঢাকা ছেড়েছে, যার মধ্যে ৪৪টি আন্তঃনগর। বাড়তি চাপ সামাল দিতে বিশেষ ট্রেনও চালু করা হয়েছে। যদিও প্রতিটি ট্রেনেই ছিল উপচেপড়া ভিড়।
নৌপথেও ঈদের আমেজ স্পষ্ট। সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে সকাল থেকেই ছিল ঘরমুখো মানুষের ভিড়। দিনশেষে ৭০টির বেশি লঞ্চ বিভিন্ন গন্তব্যে ছেড়ে গেছে। তবে ভিড়ের মধ্যেও শৃঙ্খলা বজায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন যাত্রীরা।
বিআইডব্লিউটিএ সূত্র জানায়, অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন ঠেকাতে কঠোর নজরদারি করা হচ্ছে। অসুস্থ ও পঙ্গু যাত্রীদের সহায়তায় ডেক ক্যাডেটদের সক্রিয় উপস্থিতি যাত্রীদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
বরিশালগামী যাত্রী আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘এবার ঘাটের পরিবেশ অনেক শান্ত। নির্ধারিত ভাড়াতেই টিকিট পেয়েছি।’
অসুস্থ বাবাকে নিয়ে যাত্রা করা মরিয়ম বেগম বলেন, ‘ডেক ক্যাডেটরা অনেক সহযোগিতা করছে, না হলে খুব কষ্ট হতো।’
লঞ্চভাড়াও রয়েছে স্বস্তিদায়ক পর্যায়ে। বরিশাল, ভোলা ও মুলাদীগামী লঞ্চে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকার মধ্যেই টিকিট পাওয়া যাচ্ছে। সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে ১০ শতাংশ পর্যন্ত কম নেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
আকাশপথেও বেড়েছে যাত্রীদের চাপ। ১৭ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ রুটের বেশিরভাগ ফ্লাইটের টিকিট আগেই বিক্রি হয়ে গেছে। প্রতিদিন প্রায় সাত হাজার যাত্রী পরিবহন করছে দেশের চারটি এয়ারলাইনস।
রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ঈদ উপলক্ষে ঢাকা-রাজশাহী ও ঢাকা-সৈয়দপুর রুটে বিশেষ ফ্লাইট চালু করেছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, সৈয়দপুর, যশোর ও রাজশাহী রুটে চাহিদা সবচেয়ে বেশি।
সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের অভিমত, এবারের ঈদযাত্রা এখন পর্যন্ত স্বস্তিদায়ক ও নিয়ন্ত্রিত। প্রশাসনের কড়া নজরদারি, পর্যাপ্ত প্রস্তুতি এবং যাত্রীদের সচেতনতার কারণে বড় ধরনের ভোগান্তি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
মন্তব্য করুন