বুধবার
১৮ মার্চ ২০২৬, ৪ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বুধবার
১৮ মার্চ ২০২৬, ৪ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফটিকছড়ির এক মসজিদে ইতেকাফে ২৭০০ মুসল্লি 

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৭ মার্চ ২০২৬, ০৯:১০ পিএম আপডেট : ১৭ মার্চ ২০২৬, ০৯:১৩ পিএম
চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে জমে উঠেছে দেশের অন্যতম বৃহৎ ইতিকাফের আসর। 
expand
চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে জমে উঠেছে দেশের অন্যতম বৃহৎ ইতিকাফের আসর। 

সিয়াম সাধনার মাস রমজানের শেষ দশকে আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে জমে উঠেছে দেশের অন্যতম বৃহৎ ইতিকাফের আসর।

উপজেলার ঐতিহ্যবাহী নানুপুর জামিয়া ইসলামিয়া ওবাইদিয়া মাদ্রাসা মসজিদে চলতি বছর প্রায় ২৭০০ ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ইতিকাফে অংশ নিয়েছেন। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের দাবি, মুসল্লিদের সংখ্যার দিক থেকে এটি দেশের বৃহত্তম ইতিকাফের আয়োজন।

​​সরেজমিনে দেখা যায়, মাদ্রাসার বিশাল মসজিদের তিনতলা জুড়ে সারিবদ্ধভাবে অবস্থান করছেন মুসল্লিরা। জাগতিক কোলাহল ও পারিবারিক ব্যস্ততা থেকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন করে তারা নিমগ্ন রয়েছেন ইবাদত-বন্দেগিতে। দিন-রাত অতিবাহিত হচ্ছে কোরআন তেলাওয়াত, নফল নামাজ, তসবিহ পাঠ ও জিকির-আজকারের মাধ্যমে। পুরো এলাকা জুড়ে তৈরি হয়েছে এক অনন্য আধ্যাত্মিক ও শান্তিময় পরিবেশ।

​বিপুল সংখ্যক এই মুসল্লির সেবা নিশ্চিতে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে একটি দক্ষ স্বেচ্ছাসেবক দল। তারা দিন-রাত নিরলসভাবে ইতিকাফকারীদের প্রয়োজনীয় চাহিদা মেটাচ্ছেন। এমনকি বয়োবৃদ্ধ ও অসুস্থ মুসল্লিদের কাপড় ধোয়া থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত নানা কাজেও তারা আন্তরিকতার সাথে সহায়তা করছেন।

মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ইতিকাফকারীদের জন্য রয়েছে বিশেষ ব্যবস্থাপনা। প্রতিদিন সুশৃঙ্খলভাবে কয়েক হাজার মুসল্লির মাঝে মানসম্মত খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে। শুধুমাত্র ইবাদত নয়, বরং মুসল্লিদের শুদ্ধভাবে কোরআন তেলাওয়াত, নামাজের সঠিক নিয়ম ও ইসলামী জীবনবিধান সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। প্রতিদিন বাদে আসর দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেমদের তত্ত্বাবধানে ঈমান ও আমল বিষয়ে বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

​দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মুসল্লিরা জানান, বিজ্ঞ আলেমদের সরাসরি তত্ত্বাবধান এবং চমৎকার শৃঙ্খলার কারণে তারা প্রতি বছর এখানে ছুটে আসেন। বিনামূল্যে থাকা-খাওয়াসহ ইবাদতের অনুকূল পরিবেশ পাওয়ায় দিন দিন অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বাড়ছে।

মাদ্রাসার পরিচালক আল্লামা শাহ সালাউদ্দিন নানুপুরী বলেন, "আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় দূর-দূরান্ত থেকে আসা এই মেহমানদের সেবা করতে পারা আমাদের জন্য পরম সৌভাগ্যের ও ইবাদতের অংশ। মুসল্লিদের ইবাদত যেন নির্বিঘ্ন হয়, সে জন্য আমরা সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছি।"

​প্রতি বছর রমজানের শেষ দশকে নানুপুরের এই আয়োজন কেবল ফটিকছড়ি নয়, বরং সারা দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষের কাছে এক বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন