শুক্রবার
০৯ জানুয়ারি ২০২৬, ২৫ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
০৯ জানুয়ারি ২০২৬, ২৫ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

তিন দফা দাবি ও তিন দফা কর্মসূচি ঘোষণা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের

ঢাবি প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:৩৬ পিএম আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:৩৭ পিএম
সংবাদ সম্মেলনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা
expand
সংবাদ সম্মেলনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা শাখার সদস্য সচিব মাহদী হাসান ও 'জুলাইযোদ্ধা’ তাহরিমা জান্নাত সুরভীকে নিঃশর্ত মুক্তি সহ তিনদফা দাবি ও তিন দফা নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মধুর ক্যান্টিন প্রাঙ্গণে এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি ও কর্মসূচি ঘোষণা করেন সংগঠনটির সভাপতি রিফাত রশিদ।

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তিন দফা দাবি হলো :

১. মাহাদী ও সুরভীকে নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়া এবং ওমর ফারুকসহ হেনস্তাকারী পুলিশ ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

২. জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ছাত্র–শ্রমিক-জনতার ১ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত পরিচালিত সকল কর্মকাণ্ডের জন্য দায়মুক্তি প্রদান করে আগামী ২৪ (চব্বিশ) ঘণ্টার মধ্যে রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে অধ্যাদেশ জারি করতে হবে।

৩. জুলাই বিপ্লবে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনীসহ সামরিক, আধা-সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের সকল কর্মকর্তা, সৈনিক ও কর্মচারীর ইতিহাস লিপিবদ্ধ করতে হবে; তাদের সম্মাননা, স্বীকৃতি ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা। কর্মক্ষেত্রে হয়রানি রোধে একটি স্থায়ী কমিশন গঠন করা। পাশাপাশি ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ থেকে ফ্যাসিবাদের রোষানলে পড়ে সশস্ত্র বাহিনীতে পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত অফিসারদের দ্রুত পদোন্নতি ও গুরুত্বপূর্ণ সংবেদনশীল পদে পদায়ন নিশ্চিত করা।

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তিন দফা কর্মসূচি হলো-

১. জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে সারাদেশে যে যে থানার অধীনে ছাত্র–জনতা শহীদ হয়েছেন, সেই সকল থানার ওসি এবং সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোর এসপি থেকে শুরু করে তদূর্ধ্ব কমান্ডিং অফিসারদের তালিকা প্রণয়ন করছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। এই তালিকাটি আইসিটি ট্রাইব্যুনালে দাখিল করে মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।

২. একইসঙ্গে ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে জারি নিশ্চিত করতে আইন উপদেষ্টা ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।

৩. নির্বাচনকালীন বৃহত্তম দুটি জোটের প্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে জুলাইয়ের বৈপ্লবিক চেতনাকে সমুন্নত রাখা এবং জুলাই বিপ্লবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করার লক্ষ্যে আমাদের কর্মসূচি চলমান থাকবে।

সংবাদ সম্মেলনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ শাখার সদস্য সচিব মাহদী হাসান বলেন, যখন সারা বাংলাদেশ বিজয় মিছিলে করছিল সেদিনই একই সময়ে আমার হবিগঞ্জ জেলায় নয়জনকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। হবিগঞ্জে থানায় সবচেয়ে বেশি মামলা বাণিজ্য হয়েছিল‌ । মামলা বাণিজ্যের মহা উৎসব হয়েছে। একজন জুলাই সহযোদ্ধাকে যখন থানায় তুলে নিয়ে যাওয়া হয় তখন এর প্রতিবাদে আমার থানায় যাই। আলোচনার এক পর্যায়ে আমি থানা পুড়িয়েছে একবারও বলি নি। বলেছি বানিয়াচং থানা কিন্তু আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম। এই আমরা মানে আমি না, এই আমরা মানে আন্দোলনে অংশ নেওয়া সবাই। তখন প্রেক্ষাপটই এমন ছিল। এই ঘটনার জন্য আমাকে গ্ৰেফতার করা হয়।

তিনি বলেন, ২৫ দিন হয়ে গেলেও ওসমান হাদির বিচার হয় না। এই দেশ লাশ হজম করা শিখে গেছে। আইনের এতই দুর্বলতা প্রকাশ পেয়েছে যে ২৫ দিনেও হত্যাকারীদের ধরতে পারেন না।

'জুলাইযোদ্ধা’ তাহরিমা জান্নাত সুরভী বলেন, যে পুলিশগুলো আমাকে আপু বলে ডাকতো তারাই আমার সাথে এমন নিকৃষ্ট আচরণ করেছে যা বলার মত না‌। আমার মা দ্বারে দ্বারে ঘুরেছে কিভাবে আমাকে ছাড়াবে। আমি ১১ দিন জেলে থাকায় যে পরিমাণ নির্যাতন হয়েছে তা বলার মতো না। আমকে দুইবার রিমান্ড দেওয়া হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, আমি কোন রাজনৈতিক দলের না। অরাজনৈতিক ভাবেই আন্দোলন করেছি। দেশের জন্য এতো কিছু করার পরও আমারে ১১ দিন যে নির্যাতন করা হয়েছে। পরিবারের সাথে যোগাযোগ করতে দেয় নি। আমার এখন এই মামলা থেকে মুক্তি চাই।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X