

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


দেশের প্রথম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) অভ্যন্তরীণ সড়কগুলো এখন খানা-খন্দে ভরা। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব সড়ক পরিণত হয় ডোবা-নালায়। ফলে প্রতিদিন ঝাঁকুনি খেতে খেতে চলাচল করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক থেকে শুরু করে বিভিন্ন একাডেমিক ভবন ও আবাসিক হলমুখী সড়কের বিভিন্ন জায়গায় ছোট-বড় গর্ত। বিশেষ করে গোলচত্বর থেকে ছাত্রহলমুখী সড়কের অবস্থা সবচেয়ে নাজেহাল। এসব সড়কে চলাচল করতে অনীহা প্রকাশ করছেন অটোরিকশা চালকেরা এমন অভিযোগও রয়েছে শিক্ষার্থীদের।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে প্রায় এক হাজার কোটি টাকার অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় নিয়মিত ভারী মালবাহী ট্রাক ক্যাম্পাসে চলাচল করায় সড়কের ক্ষতি আরও বেড়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ এক অটোচালক বলেন, এই রাস্তায় (ছাত্রহলের সামনে) গাড়ি চালিয়ে রাতে ঘুমাতে পারি না মামা, কোমরে ব্যথা হয়। এই রাস্তা সংস্কার নিয়ে কেউ উদ্যোগ নেয় না। শিক্ষার্থীরা কত কিছু নিয়ে আন্দোলন করে, কিন্তু এই বিষয়টি কেউ দেখে না।
দুর্ভোগের কথা উল্লেখ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী রিয়াজ হোসেন রিমন বলেন, ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরীণ রাস্তার অবস্থা খুবই ভয়াবহ ও উদ্বেগজনক।
দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে অধিকাংশ রাস্তা ভাঙাচোরা, ছোট-বড় গর্তে ভরা এবং চলাচলের জন্য দুর্ভোগের কারণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। রাস্তার গর্তে পানি জমে থাকে, যার ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।
তিনি আরও বলেন, আমরা রাস্তা সংস্কারের বিষয়ে প্রশাসনকে অনেকবার অবগত করার পরও তেমন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে দেখিনি। প্রশাসনের দায়িত্বে অবহেলা কিংবা গাফিলতির কারণে যদি কোনো শিক্ষার্থী দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়, তাহলে তার সম্পূর্ণ দায়ভার প্রশাসনকেই নিতে হবে।
শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত ও জীবনের নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনা করে দ্রুত সময়ের মধ্যে রাস্তা সংস্কারের লক্ষ্যে দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য প্রশাসনের নিকট অনুরোধ করছি।
জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী জয়নায় ইসলাম চৌধুরী বলেন, বাজেটে রাস্তা নামক কোনো খাত আমরা পাইনাই। অন্যান্য অঙ্গগুলো থেকে কাইটা আমি টাকা ম্যানেজ করে কিলোরোডের দুইপাশে কাজ করেছি, যাতে রাস্তাটা ভেঙ্গে না যায়। হলের রাস্তা সিটি কর্পোরেশনের আওতায়। আমরা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে রিকোয়েস্ট করে খানা খন্দে কিছু রাবিশ ফালাতে পারি।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী বলেন, ভারী মালবাহী ট্রাক ক্যাম্পাসে চলাচল করে তাই এমনটা হচ্ছে। রাস্তা কিছু গড়লে তা আবার ভেঙে যায়। হলমুখী রাস্তাটা আমরা ডাবল করার পরিকল্পনা নিয়েছি।
কিলোরোডের রাস্তা আরসিসি ঢালাই করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এই কাজটা সিটি কর্পোরেশন করে দিবে। প্রশাসন সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান করতে।
মন্তব্য করুন