

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


দীর্ঘ ৩০ বছরের প্রবাস জীবনের অর্জিত সম্পদই কাল হলো প্রবাসী মো. শাহজাহানের (৫০)। নিজ ঘরেই স্ত্রী ও সন্তানদের হাতে নৃশংস হামলার শিকার হয়েছেন তিনি। চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে এই প্রবাসীকে শ্বাসরোধ ও কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে তার স্ত্রী এবং দুই সন্তানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে উপজেলার বক্তপুর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের শুকুর মোহাম্মদ বাড়িতে এই বর্বরোচিত ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী শাহজাহান দীর্ঘ তিন দশক কুয়েতে থাকার পর সম্প্রতি স্থায়ীভাবে দেশে ফেরেন।
এ ঘটনায় ভিকটিমের বোন সুমি আক্তার বাদী হয়ে ভাইয়ের স্ত্রী কামরুন নাহার জুমুর (৪১), ছেলে শাহারিয়ার জাহান আতিক (১৯) ও মেয়ে শাহারিয়া জাহান আরিফা (২২) কে আসামি করে আরো ২-৩ জনকে অজ্ঞাত উল্লেখ করে ফটিকছড়ি থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রবাসে থাকাকালীন শাহজাহান তার সমস্ত উপার্জন দিয়ে স্ত্রী কামরুন নাহার জুমুরের নামে ৫০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র, ৩০ ভরি স্বর্ণালংকার, ২০ লক্ষ টাকার বিভিন্ন ব্যাংকে এফডিআর এবং একটি দ্বিতল ভবনসহ বিপুল সম্পদ গড়ে তোলেন। দেশে ফেরার পর ব্যবসার জন্যে স্ত্রীর কাছে মাত্র ২ লাখ টাকা দাবি করলে বিরোধের সূত্রপাত হয়। এছাড়া শাহজাহান তার বৃদ্ধ বাবা-মায়ের ভরণপোষণ প্রদান করার কারণে স্ত্রী ও সন্তানদের সাথে তার দূরত্ব আরও চরমে পৌঁছায়। তিক্ততা এতটাই বাড়ে যে, তারা একই বাড়িতে আলাদা কক্ষে বসবাস শুরু করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার রাতে স্ত্রী কামরুন নাহার পরিকল্পিতভাবে স্বামী শাহজাহানের শয়নকক্ষের দরজা খোলা রেখে বাইরে বেরিয়ে যান। রাত দেড়টার দিকে পূর্বপ্রস্তুতি অনুযায়ী অভিযুক্তরা ধারালো চাপাতি, ছুরি ও লোহার রড নিয়ে ঘরে প্রবেশ করে শাহজাহানের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, স্ত্রী ঝুমুর স্বামী শাহজাহানের বুকের ওপর বসে গলা টিপে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যার চেষ্টা করেন। এসময় শাহজাহান আত্মরক্ষার চেষ্টা করলে তাকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করা হয়। পাশবিক এই হামলায় যোগ দিয়ে ছেলে অনিক তার বাবার পা বেঁধে চাপাতি দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ক্ষতবিক্ষত করেন এবং মেয়ে আরিফা বাবার পা চেপে ধরে মারধরে সহায়তা করেন।
একপর্যায়ে শাহজাহান নিস্তেজ হয়ে পড়লে তাকে মৃত ভেবে অভিযুক্তরা কক্ষ থেকে সটকে পড়ে। কিছুক্ষণ পর জ্ঞান ফিরলে রক্তাক্ত শাহজাহান কোনোমতে হামাগুড়ি দিয়ে বাথরুমে গিয়ে আশ্রয় নেন এবং মোবাইল ফোনে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিষয়টি অবহিত করেন। পরে প্রতিবেশীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সুমন দে জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা ঘটনাটিকে ‘ডাকাতি’ বলে চালিয়ে দেওয়ার নাটক সাজালেও পুলিশের জেরার মুখে সত্য স্বীকার করেন।
ফটিকছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সেলিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, "ভিকটিমের বোন সুমি আক্তারের দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত স্ত্রী ও দুই সন্তানকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তারা হামলার সাথে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।"
মন্তব্য করুন