

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট আলাদীনের চেরাগের মতো মুহূর্তের মধ্যে সমাধান করা সম্ভব নয়। দেশপ্রেমের পরিচয় দিতে হলে অপচয় রোধ করে সরকারকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরের আশরাফাবাদ উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ডিএসসিসি ও বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে ‘বর্জ্যের বিনিময়ে বাজার’ শীর্ষক কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আবদুস সালাম বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে মাত্র ছয় মাস, তাই সংকট সমাধানে সময় দিতে হবে। গত ১৭ বছরে নতুন কোনো গ্যাসকূপ খনন করা হয়নি। দেশের ব্যাংকগুলো লুট না হলে তারেক রহমান অনায়াসে গ্যাস আমদানি করতে পারতেন।
তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে প্রশ্ন রাখেন, ১ হাজার গাড়ি নিয়ে লংমার্চ করলেই কি গ্যাস-বিদ্যুৎ চলে আসবে? এতে তো উল্টো পেট্রোল অপচয় করা হচ্ছে। বিএনপি দেশের মানুষের জন্য কাজ করে বলেই একটি গোষ্ঠী তাদের জনপ্রিয়তাকে ভয় পায়।
পরিচ্ছন্নতা ও রাজনৈতিক সংস্কৃতি নিয়ে তিনি আরও বলেন, ঢাকার আশপাশে বৃক্ষরোপণ ও পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় সিটি কর্পোরেশন টানা কাজ করে যাচ্ছে, কিন্তু এসব কাজ নিয়ে তো কাউকে লংমার্চ করতে দেখা যায় না।
পরিচ্ছন্ন নগর গঠনে নাগরিকদের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং বর্জ্যের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে আয়োজিত এই অস্থায়ী বাজারে এলাকার হাজারো মানুষ প্লাস্টিক বর্জ্য জমা দিয়ে চাল, ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সংগ্রহ করতে পারবেন।
প্রধান অতিথি জানান, পরিচ্ছন্নতার বিনিময়ে খাদ্য নিশ্চিতের এই কার্যকর মডেলটি নগরজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। দ্রুতই গুলিস্তানে একটি স্থায়ী স্টল এবং ডিএসসিসির প্রতিটি ওয়ার্ডে পর্যায়ক্রমে এই কর্মসূচি সম্প্রসারণের ঘোষণা দেন তিনি। পাশাপাশি বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্রে (এসটিএস) পথশিশুদের শিক্ষার সুযোগ তৈরিতে 'বই পড়ার বিনিময়ে খাবার' চালুর পরিকল্পনার কথা জানান এবং কামরাঙ্গীরচরবাসীকে বুড়িগঙ্গা নদী সুরক্ষার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান। এছাড়া বক্তব্য রাখেন বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক জামাল উদ্দিন। তিনি জানান, সংগৃহীত প্লাস্টিক বর্জ্য পুনর্ব্যবহার করে প্রাপ্ত অর্থ প্রান্তিক মানুষের আহার সংস্থানে ব্যয় করা হচ্ছে। আগামী এক বছরে ১০০টি ভ্রাম্যমাণ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে ১ লাখ কেজি প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. মাহবুবুর রহমান তালুকদারসহ সিটি কর্পোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবকরা উপস্থিত ছিলেন।


