

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


দেশে বিদ্যমান আইনে পরিবেশ বিপর্যয় রোধে সাধারণ নাগরিকের সরাসরি মামলা করার অধিকার নেই। তাই পরিবেশ রক্ষায় সাধারণ নাগরিকেরা যাতে সরাসরি মামলা করতে পারে, সে জন্য আইন সংস্কার–যুগোপযোগী করার দাবি জানিয়েছেন গবেষক ও পরিবেশবিদেরা।
শুক্রবার (১৯ জুন) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানানো হয়। ‘অস্তিত্বের সংকটে প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ-প্রতিবেশ: উত্তরণের উপায় অনুসন্ধান’ শীর্ষক এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজক প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ-প্রতিবেশ রক্ষা জাতীয় কমিটি।
সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স এর সভাপতি পরিকল্পনাবিদ আরিফুল ইসলাম। সঞ্চালনা করেন ইবনুল সাঈদ রানা; মুখপাত্র, প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ- প্রতিবেশ রক্ষা জাতীয় কমিটি। এসময় পরিবেশ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং স্বেচ্ছাসেবকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে লেখক ও নদী গবেষক মাহবুব সিদ্দিকী বলেন, নদী নিয়ে জাতিসংঘের ১৯৯৭ সালের যে সনদটি আইনে পরিণত করা হয়েছে, তাতে আমারা অনুস্বাক্ষর না করলে পাশের দেশের সাথে নদী আলোচনায় পিছিয়ে পড়বো। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ৩০০ হারিয়ে যাওয়া নদী খনন করেন। কিন্তু নদী দখলের সাথে যুক্ত আমলা ও সুবিধাভোগীরা একে খাল খনন নাম দিয়ে বিভ্রান্তি তৈরী করেন। সরকারের পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প নিয়েও আরো ভাবতে হবে। নয়তো এটি আমাদের ইলিশ মাছ এবং বঙ্গোপসাগরে পলি দিয়ে ভূমি বৃদ্ধিকে ব্যাহত করবে। আমাদের পরিবেশ আইনটিও অসম্পূর্ণ। একে যুগোপেযোগী করতে হবে।
প্রাকৃতিক কৃষি’র দেলোয়ার হোসেন বলেন, মানুষের শরীরে ৭৯% পুষ্টির ঘাটতি। তার মানে, মাটিতে যা ঘাটতি, আমাদের শরীরেও তার ঘাটতি। গ্রামের বাজারগুলোতে এখন ২/৩টি করে প্রাণীর ফার্মেসী দেখতে পাওয়া যায়।
তিনি আরও বলেন, মানুষের পাশাপাশি এখন প্রাণীকূলের শরীরেও বিভিন্ন উপাদানের ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। ৫৬% মাটি এসিটিক, রয়েছে জিংক এর ঘাটতি, ২৫% ক্যালসিয়ামের ঘাটতি, অর্গানিক ম্যাটার নেই। তাই এখন মাটি ঠিক করা জরুরী।
স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ডিন ও বিভাগীয় প্রধান এবং ক্যাপস এর নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, বায়ু ও শব্দদূষণ পৃথিবীর সবচে বেশী বাংলাদেশে। এর ফলে গড় আয়ু ৬ বছর কমছে। যে মাত্রায় শব্দদূষণ হচ্ছে তাতে নিকট ভবিষ্যতে আমাদের পরবর্তী প্রজন্মেও একটা বড় অংশ শ্রবণ প্রতিবন্ধী হবার সম্ভাবনা রয়েছে।
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী বলেন, বিভিন্ন উপকূলীয় নদীর পাশে পাওয়ার প্লান্ট স্থাপন করে ইলিশসহ বিভিন্ন মাছ ধ্বংস করা হচ্ছে। এসব প্লান্টের বর্জ্য এবং রিফুয়েলিং ফেলা হচ্ছে নদীগুলোয়।
ইনস্টিটিউট অব লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি এর প্রফেসর ড. সবুর আহমেদ খাদ্যে হেভি মেটাল এর উপস্থিতি নিয়ে শংকা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আশ্চর্যজনকভাবে আমরা বুড়িগঙ্গাকে বাচাতে গিয়ে হাজারীবাগ থেকে ট্যানারী সড়িয়ে এখন তিনটি নদীতে দুষিত করে ফেলেছি।
স্বাস্থ্য বিষয়ক লেখক অধ্যাপক ড. ছায়েদুল হক বলেন, বায়ূ ও শব্দদূষণ এর ফলে দেশের শতভাগ মানুষ এখন পালস ও প্রেশার এর রোগী। এ দুই দূষণের ফলে স্ট্রোক, হার্ট, ঘুমজনিত রোগ এবং ইনসুলিন রেসিস্টেন্স এর রোগী দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে।
প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ-প্রতিবেশ রক্ষা জাতীয় কমিটি’র চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শফিকুর রহমান বলেন, প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ-প্রতিবেশ রক্ষায় গত ৫৫ বছরে আমরা চরমতম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছি। উন্নয়নের নামে প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ-প্রতিবেশকে রীতিমত হত্যা করে ফেলেছি। পরিকল্পনাহীন উন্নয়ন আমাদেরকে অনিশ্চিত অন্ধকারের দিকে প্রতিনিয়ত ধাবিত করছে। বিচার বিভাগ থেকে শুরু করে রাজনীতিবিদসহ সকলেই বিগত ৫৫ বছরে প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ-প্রতিবেশকে হত্যার উৎসবে সংযুক্ত ছিলেন।
তিনি বলেন, তথ্য অধিকার আইনে আমরা জানতে চেয়েছিলাম দেশে ইটভাটার সংখ্যা কতো? পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশে ইটভাটার সংখ্যা ৭ হাজার ৮ শত ৯৭টি। যার মধ্যে পরিবেশগত ছাড়পত্র নাই ৫ হাজার ৯২টির। ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপার উপজেলা নির্বাহী অফিসার আমাদেরকে জানিয়েছেন, উপজেলায় মোট ২১টি ইটভাটা আছে। যার মধ্যে একটিরও বৈধ অনুমোদন নেই। বন্ধের নির্দেশনা থাকা সত্বেও তারা তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। সারাদেশে এভাবেই চলছে প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ-প্রতিবেশ কার্যক্রম।
অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, ইপিএফ চেয়ারম্যান এবং আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক তাহমিনা রহমান, বিজিএমইএ ফ্যাশন টেকনোলজি বিশ্ববিদ্যালয় এর অধ্যাপক ড. আব্দুল জলিল প্রমুখ।
