

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী রামিসাকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় দুই আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে সোহেলকে ৫ লাখ টাকা এবং স্বপ্নাকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়।
রোববার (৭ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।
আলোচিত শিশু রামিসা হত্যা মামলার বিচারকাজ যখন দ্রুত এগিয়ে চলছে, ঠিক তখনই মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানার একটি বক্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।
সোমবার (১ জুন) আদালতে মামলাটির চার্জ গঠনের শুনানির সময় আসামি সোহেল রানা নিজেকে আংশিক নির্দোষ এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করতে গিয়ে এই ‘ডলার’ নামের ব্যক্তির প্রসঙ্গটি সামনে আনেন।
আদালতে তোলার সময় এবং শুনানির একপর্যায়ে প্রধান আসামি সোহেল রানা চিৎকার করে বলেন, ‘আমি শুধু ধর্ষণ করছি, মারছে ডলার’। তিনি দাবি করেন যে রামিসাকে গলা কেটে হত্যার মূল কাজটি এই ডলার নামের ব্যক্তিটিই করেছে।
আদালতে আনার সময় সাংবাদিকদের সামনে সোহেল দাবি করে বলেন, ‘আমি একা দোষী না, আমার স্ত্রীর দোষ নেই। সব দোষ ডলারের। আমি ধর্ষণ করছি, মারছে ডলার। ডলার দুই লাখ টাকা দিছে।’
নতুন নাম আসা ডলারের পরিচয় জানতে চাইলে সোহেল রানা বলেন, মিরপুর ১১ নম্বর বাড়ি, অনেক টাকাওয়ালা। তিনি ওই ব্যক্তির পূর্ণ পরিচয় বা অবস্থান সম্পর্কে স্পষ্ট কিছু না জানালেও সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, মেইন আসামি ডলারকে ধরেন, সে-ই রামিসাকে হত্যা করেছে।
সোহেলের এমন মন্তব্যের পরই নতুন করে আলোচনায় আসে ‘ডলারের’ নাম। যদিও তদন্ত সংশ্লিষ্টদের পক্ষ এ বিষয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি বলে মন্তব্য করেছে।
এছাড়া ‘ডলার’ সম্পর্কিত বক্তব্যকে ‘ম্যাটার অব ট্রায়াল’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (স্পেশাল পিপি) আজিজুর রহমান দুলু।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী শিশুর বাবা হান্নান মোল্লা ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় ‘ডলার’ নামের কোনো ব্যক্তির সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, জেলখানার ভেতরে থাকতে কারও পরামর্শ নিয়ে আইনগতসুবিধা বা আর্থিক সুবিধা নিতে আসামি ডলারের নাম নিয়েছে। এ ছাড়া অন্যকিছু মনে হচ্ছে না।
এদিকে দেশের একটি সংবাদমাধ্যমকে আলোচিত ‘ডলার’ নামের ও ব্যক্তি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। ডলার বলেন, রাজধানীর গুলিস্তানে পীর ইয়েমেনি মার্কেটে তার একটি পাঞ্জাবির দোকান ছিল। পরে লোকসানের কারণে ব্যবসা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর পরিবারের সহযোগিতায় একটি অটোরিকশা চালানো শুরু করেন।
তিনি জানান, অটোরিকশা মেরামতের সূত্রেই সোহেল রানার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। ওই গ্যারেজেই সোহেল কাজ করতেন। এক দিন কাজ না করায় সোহেলকে তিনি ধমক দিয়েছিলেন। হয়তো সেই ঘটনার জেরে কিংবা বিভ্রান্তি ছড়ানোর উদ্দেশ্যে তার নাম জড়ানো হচ্ছে। তবে কেন তাকে জড়িয়ে এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে, তা তিনি বুঝতে পারছেন না।
এদিকে পল্লবী এলাকার এলাকার কয়েকজন বাসিন্দার ভাষ্য অনুযায়ী, রামিসা হত্যার পরবর্তী কয়েক দিন ডলারকে এলাকায় দেখা যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ডলার হোসেন মিরপুর-১১ এলাকার একজন বাসিন্দা। তিনি অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তার সঙ্গে সোহেল রানার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল।
উল্লেখ্য, গত ১৯ মে সকালে পল্লবীতে আলোচিত এই ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডটি ঘটে। পরদিন ২০ মে ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা করেন। মামলায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনের বিরুদ্ধে ভিকটিমকে ধর্ষণ করে মৃত্যু ঘটানো ও লাশ গুমে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়।
