

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


রাজধানীর কাঁচাবাজারে এখন যেন এক অদৃশ্য চাপা অস্থিরতা। সবজির দোকানে ক্রেতার ভিড় থাকলেও নেই স্বস্তি- দাম শুনেই অনেকেই থমকে যাচ্ছেন। মাছের বাজারে দর কষাকষি কমে গেছে, ডিম কিনতেও এখন হিসাব কষতে হচ্ছে।
জ্বালানি সংকট ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির প্রভাবে নিত্যপণ্যের বাজারে এমন চাপ তৈরি হয়েছে, যা সরাসরি আঘাত করছে সাধারণ মানুষের জীবনে।
গত কয়েক দিনে রাজধানীর কারওয়ান বাজার, নয়া বাজার, রামপুরা, হাতিরপুল, কাজীপাড়া ও কেরানিগঞ্জের জিনজিরাসহ বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে-সরবরাহ কমার অজুহাতে প্রায় সব খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে।
ডিমের দাম ডজনপ্রতি বেড়েছে ১৫-২০ টাকা। এক সপ্তাহ আগে যেখানে ১১০-১২০ টাকায় পাওয়া যেত, এখন তা বিক্রি হচ্ছে ১৩৫-১৪০ টাকায়।
চিনি, আটা, ময়দা, ছোলা-সবখানেই একই চিত্র। বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১৯৫ টাকায়, খোলা তেল ২০৫-২২০ টাকা।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, জ্বালানি সংকটের কারণে পরিবহন খরচ বেড়েছে, সেই সঙ্গে লোডশেডিংয়ের কারণে উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা আরো জানান, যশোর, কুষ্টিয়া, ময়মনসিংহ ও উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকায় পণ্য আনার ট্রাক ভাড়া কয়েক হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ফলে খরচ সামাল দিতে গিয়ে পণ্যের দাম বাড়াতে হচ্ছে। তবে ভোক্তাদের একাংশ এই যুক্তি মানতে নারাজ।
কেরানীগঞ্জের বাসিন্দা আরাফাত সানি বলেন, জ্বালানির দাম বাড়লেই সবকিছুর দাম বাড়ে, কিন্তু কমলে তো আর কমে না। এখন মনে হচ্ছে, অজুহাত পেলেই দাম বাড়ানো হচ্ছে।
মাছের বাজারেও একই অবস্থা। রুই ৩২০-৫০০ টাকা, তেলাপিয়া ২২০, পাবদা ৪৫০, চিংড়ি ৮০০-১২০০ এবং ইলিশ ২০০০ টাকার ওপরে বিক্রি হচ্ছে। সবজির বাজারে ৮০ টাকার নিচে কোনো সবজি খুঁজে পাওয়া কঠিন। বরবটি, ঝিঙা, করলা, কাঁকরোল—সবই ১০০ টাকার আশপাশে।
তবে ব্যতিক্রম মুরগির বাজার। ঢাকার আশপাশ থেকেই সরবরাহ হওয়ায় পরিবহন ব্যয়ের প্রভাব তুলনামূলক কম। বর্তমানে ব্রয়লার ১৭০ টাকা, সোনালি ৩২০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সামনে পরিবহন ব্যয়ের চাপ বাড়লে এখানেও দাম বাড়তে পারে।
খামারিরা বলছেন, তীব্র গরম ও লোডশেডিংয়ের কারণে মুরগি ও অন্যান্য কৃষিপণ্যের উৎপাদন খরচ বেড়েছে। জেনারেটর চালাতে গিয়ে বাড়ছে খরচ, যা শেষ পর্যন্ত বাজারে প্রভাব ফেলছে।
কাওরান বাজারে হাসিবুল আকবর নামের এক ক্রেতা অভিযোগ করে বলেন, বাজারে কার্যকর তদারকি নেই। জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয়ের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি দামে পণ্য বিক্রি হচ্ছে।
কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এসএম নাজের হোসাইনের বলছেন, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে এখন থেকেই দাম বাড়ানোর প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
অন্যদিকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, সরকার নির্ধারিত পণ্যের ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেয়া গেলেও অনেক পণ্যে সরাসরি হস্তক্ষেপের সুযোগ সীমিত।
দ্রব্যমূল্যের এই ঊর্ধ্বগতিতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষ। অনেকেই এখন খাবারের তালিকা থেকে মাছ কমিয়ে দিচ্ছেন, কেউ কেউ ডিম কেনাও কমিয়ে দিয়েছেন।
বাজারে ঘুরে দেখা গেছে-ক্রেতারা এখন শুধু দাম জিজ্ঞেস করেন, কিনতে পারেন কম। প্রশ্ন একটাই-এই ঊর্ধ্বগতি কোথায় গিয়ে থামবে?
মন্তব্য করুন