বুধবার
০১ এপ্রিল ২০২৬, ১৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
বুধবার
০১ এপ্রিল ২০২৬, ১৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চাঁদা না দেওয়ায় নবীন ফ্যাশনের ফ্যাক্টরিতে হামলার অভিযোগ ছাত্রদলের বিরুদ্ধে 

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ০১ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৪৬ পিএম আপডেট : ০১ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:০৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
expand
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর কেরানীগঞ্জে চাঁদার দাবিতে নবীন ফ্যাশনের একটি কারখানাতে হামলার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে। এ সময় কর্মীদের প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

বুধবার (১ এপ্রিল) নবীন ফ্যাশনের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বার্তায় এ তথ্য জানা যায়।

বার্তায় বলা হয়, কেরানীগঞ্জে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় চাঁদাবাজি ও সহিংসতার শিকার হয়ে বন্ধ হয়ে গেল একটি ফ্যাক্টরি। মাসিক ৩ লাখ টাকা চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় ছাত্রদলের হামলা, লুটপাট চেষ্টা এবং সুপারভাইজারকে মারধরের ঘটনায় প্রাণভয়ে চাকরি ছেড়েছেন ৯০ শ্রমিক।

এতে আরও বলা হয়, গত আড়াই বছর ধরে ফ্যাক্টরিটির কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে চলে আসছিল। ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আগে আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়মিত চাঁদা দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করতে হতো। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বিএনপি দলীয় লোকজনকে চাঁদা দিয়ে কার্যক্রম চালু রাখা হলেও সাম্প্রতিক নির্বাচনের পর মাসিক ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।

প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ জানায়, কোম্পানির অর্থের চেয়ে মানুষের জীবনের মূল্য অনেক বেশি। আমরা লাইসেন্স নিয়ে বৈধ ব্যবসা করেও এই জুলুমবাজদের হাত থেকে বাঁচতে পারছি না। যারা আজ জীবিকা হারিয়েছেন, তাদের আমরা ভালোবাসি এবং শীঘ্রই বিকল্প ব্যবস্থার চেষ্টা করব।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্থানীয় ছাত্রদল নেতারা। ঢাকা দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হাজী সাইফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, চাঁদাবাজির বিষয়ে আমাদের এলাকার এমপি আমান উল্লাহ আমান জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছেন। এ ধরনের কোনো ঘটনার কথা আমি এখন পর্যন্ত শুনিনি। যদি কেউ নির্দিষ্টভাবে নাম উল্লেখ করে অভিযোগ করেন, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ঢাকা দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক পাভেল মোল্লা বলেন, ঘটনাটি আমার এলাকার মধ্যে পড়ে না। এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। তবে কেউ অভিযোগ করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসি সাইফুল আলম বলেন, গত কয়েকদিন ধরে এলাকার লোকজন ওই কারখানা নিয়ে আপত্তি তুলেছেন এবং একটি ঘরের মধ্যেই তারা কারখানা তৈরি করছেন যা পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নিয়ে তৈরি করা হয়নি। পরে গতকাল মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) তিনি একটি অভিযোগ নিয়ে থানায় আসেন।

তিনি আরও বলেন, এই বিষয়টি নিয়ে যেহেতু আলোচনা সমালোচনা চলছে তাই অভিযোগ গ্রহণ করার আগে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে এবং কারখানা তৈরি করতে পরিবেশ অধিদপ্তরের যে ছাড়পত্রের প্রয়োজন তা দেখাতে পারলে তার কারখানা খুলে দেওয়া হবে। কারখানা নিয়ে স্থানীয় লোকজনের আপত্তি আছে। আর চাঁদা দাবির বিষয়ে তদন্ত চলছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন