বৃহস্পতিবার
২০ আগস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বৃহস্পতিবার
২০ আগস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্ববাজারে সোনার দামে উত্থান, ভরি কত? 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ২০ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৩৮ এএম
ফাইল ছবি
expand
ফাইল ছবি

বিশ্ববাজারে সোনার দাম বেড়ে দুই মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি অবস্থান করছে। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের আকস্মিক তারল্য সহায়তা ঘোষণার পর মার্কিন বন্ডের সুদ ও ডলারের দাম কমে যাওয়ায় সোনার দামে এই ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) স্পট গোল্ডের দাম প্রতি ট্রয় আউন্সে ৪ হাজার ৫১২ দশমিক ১৯ ডলারে প্রায় অপরিবর্তিত ছিল। এর আগের সেশনে দাম বেড়ে ৪ হাজার ৫২৫ দশমিক ৭৯ ডলারে ওঠে, যা ২ জুনের পর সর্বোচ্চ। আগের বুধবার সোনার দাম এক লাফে ৪ শতাংশের বেশি বেড়েছিল।

বাংলাদেশি মুদ্রায় হিসাব করলে, প্রতি ডলার প্রায় ১২২ টাকা ধরে এক ট্রয় আউন্স সোনার মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এক ট্রয় আউন্সে ৩১ দশমিক ১০৩৫ গ্রাম এবং এক ভরিতে ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম হিসাবে প্রতি গ্রাম সোনার আন্তর্জাতিক স্পট মূল্য প্রায় ১৭ হাজার ৭০০ টাকা। সে হিসাবে এক ভরি সোনার দাম প্রায় ২ লাখ ৬ হাজার টাকা।

তবে এটি আন্তর্জাতিক বাজারের স্পট দামের ভিত্তিতে করা আনুমানিক হিসাব। বাংলাদেশে ডলারের রেট, গহনার স্থানীয় দাম নির্ধারণের সময় সোনার ক্যারেট, মজুরি, ভ্যাট ও অন্যান্য খরচ যুক্ত হওয়ায় প্রকৃত বিক্রয়মূল্য কিছুটা বেশি হতে পারে।

এদিকে ডিসেম্বর ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচারের দাম ০ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্সে ৪ হাজার ৫৬৯ দশমিক ৮০ ডলার হয়েছে।

কমেছে মার্কিন বন্ডের সুদ

দীর্ঘমেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের সুদ কমেছে। দীর্ঘমেয়াদি নোট ও বন্ডের জন্য তারল্য সহায়তা বা বাইব্যাক কার্যক্রমের আকার দ্বিগুণ করার ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ। এর পর এসব বন্ডের প্রতি বিনিয়োগকারীদের চাহিদা বাড়ে এবং সুদ কমে যায়।

একই সময়ে মার্কিন ডলারও দুর্বল অবস্থানে রয়েছে। ফলে অন্যান্য মুদ্রা ব্যবহারকারী ক্রেতাদের কাছে ডলারে মূল্য নির্ধারিত সোনা তুলনামূলকভাবে সস্তা হয়ে উঠেছে। এতে সোনার চাহিদা বাড়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মোট সরকারি ঋণ প্রথমবারের মতো ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির ট্রেজারি বিভাগ। ক্রমবর্ধমান ঋণ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সামাজিক নিরাপত্তা ও বিভিন্ন কল্যাণমূলক কর্মসূচির ব্যয় এবং ঋণের সুদ পরিশোধের খরচ দ্রুত বাড়ছে। অন্যদিকে কর কমানোর কারণে সরকারের রাজস্ব কমে যাওয়ায় দেশটিতে বড় ধরনের আর্থিক সংকট তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সুদের হার নিয়ে ফেডে উদ্বেগ

এদিকে গত মাসে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের বৈঠকে মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। বুধবার প্রকাশিত বৈঠকের কার্যবিবরণীতে দেখা যায়, বেশ কয়েকজন নীতিনির্ধারক মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদের হার বাড়ানোর পক্ষে ছিলেন।

অনেক নীতিনির্ধারক মনে করেন, মূল্যস্ফীতি ফেডের নির্ধারিত ২ শতাংশ লক্ষ্যে না নামলে ঋণের খরচ বা সুদের হার বাড়ানো প্রয়োজন হতে পারে।

সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের বৈঠকে ফেড সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার সম্ভাবনা ৬৭ দশমিক ৩ শতাংশ। অন্যদিকে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা ৩২ দশমিক ৭ শতাংশ।

এদিকে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে স্পট রুপার দাম ০ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্সে ৬৭ দশমিক ০৬ ডলার হয়েছে।

অন্যদিকে প্লাটিনামের দাম ০ দশমিক ৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্সে ১ হাজার ৮১৬ দশমিক ৭৮ ডলারে নেমেছে। তবে প্যালাডিয়ামের দাম ০ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৩৩৯ দশমিক ০৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
City bank
City bank