

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


দীর্ঘদিন ধরে চলা ট্যাল্কভিত্তিক বেবি পাউডার–সংক্রান্ত আইনি জটিলতা নিরসনে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান জনসন অ্যান্ড জনসন (জেঅ্যান্ডজে)। ডিম্বাশয় ক্যান্সারের অভিযোগে দায়ের হওয়া হাজারো মামলার নিষ্পত্তির জন্য প্রতিষ্ঠানটি সর্বোচ্চ ৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার পরিশোধের প্রস্তাব দিয়েছে।
নিউ জার্সিভিত্তিক কোম্পানিটি জানিয়েছে, বছরের পর বছর ধরে চলা আইনি লড়াইয়ের অবসান ঘটিয়ে তারা মূল ব্যবসায় মনোযোগ দিতে চায়। তবে সমঝোতার প্রস্তাব দিলেও ট্যাল্কযুক্ত পণ্যের কারণে ক্যান্সার হওয়ার অভিযোগ তারা আবারও প্রত্যাখ্যান করেছে।
কোম্পানির মামলা–বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট এরিক হাস বলেন, অভিযোগগুলোর বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই বলে তারা বিশ্বাস করেন। তাঁর দাবি, আদালতে অধিকাংশ মামলায় প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে অনুকূল রায় পেয়েছে। তবুও দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষ করতে এবং অনিশ্চয়তা দূর করতে সমঝোতার পথ বেছে নেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, আগামী বছর প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করবে জনসন অ্যান্ড জনসন। এরপর ২০২৮ সালের আগে অতিরিক্ত কোনো অর্থ পরিশোধের পরিকল্পনা নেই। তবে এই সমঝোতা কার্যকর হবে তখনই, যখন যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য ও ফেডারেল আদালতে চলমান ডিম্বাশয় ক্যান্সার–সংক্রান্ত মামলার প্রায় ৯৫ শতাংশের প্রতিনিধিত্বকারী আইন প্রতিষ্ঠানগুলো এতে সম্মতি দেবে।
ট্যাল্কযুক্ত বেবি পাউডার নিয়ে জনসন অ্যান্ড জনসনের বিরুদ্ধে মামলা শুরু হয় ২০০৯ সালের দিকে। বাদীদের অভিযোগ, পণ্যগুলোতে অ্যাসবেসটসের দূষণ থাকায় দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে অনেকের ক্যান্সার হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন আদালতে এসব মামলা করেন।
অন্যদিকে কোম্পানির দাবি, তাদের ট্যাল্কভিত্তিক পণ্য নিরাপদ এবং এতে অ্যাসবেসটস নেই। সাম্প্রতিক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, বিভিন্ন গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী ট্যাল্ক ক্যান্সারের কারণ নয়।
চলতি জুলাইয়ের শুরুতে একটি ফেডারেল আদালত পৃথক মামলার বাদীরা ট্যাল্ক ও ডিম্বাশয় ক্যান্সারের মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক প্রমাণ করতে পেরেছেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। সেই সিদ্ধান্তকে জনসন অ্যান্ড জনসন নিজেদের পক্ষে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছে।
বিতর্কের মধ্যেই ২০২২ সালে বিশ্বব্যাপী ট্যাল্কযুক্ত বেবি পাউডার উৎপাদন ও বিক্রি বন্ধের ঘোষণা দেয় কোম্পানিটি। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রে এই পণ্যের বিক্রি বন্ধ করা হয়েছিল। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি কর্নস্টার্চ–ভিত্তিক বেবি পাউডার বাজারজাত করছে।
জনসন অ্যান্ড জনসনের সাবেক কনজিউমার হেলথ বিভাগ, বর্তমানে আলাদা প্রতিষ্ঠান কেনভিউ, উত্তর আমেরিকার বাইরে বেবি পাউডার–সংক্রান্ত ব্যবসা পরিচালনা করছে। ব্যান্ড-এইড, লিস্টারিন ও ক্যালপলের মতো জনপ্রিয় ব্র্যান্ডও এখন কেনভিউয়ের অধীনে রয়েছে।
সমঝোতার এই প্রস্তাব অনুমোদিত হলে যুক্তরাষ্ট্রের করপোরেট ইতিহাসে স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট পণ্য নিয়ে সবচেয়ে বড় আইনি নিষ্পত্তিগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হবে।
সূত্র: বিবিসি