বৃহস্পতিবার
১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বৃহস্পতিবার
১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

 মধ্যপ্রাচ্যে এতো তেল-গ্যাস এলো কোথা থেকে ?

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:২৫ পিএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর বিপুল তেল ও গ্যাস সম্পদ একইসঙ্গে তাদের জন্য যেমন আশীর্বাদ, তেমনি তাদের অনেক পরীক্ষার মুখোমুখিও করেছে। লাখ লাখ বছর ধরে চলা ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়া এই অঞ্চলটিকে পরিণত করেছে বৈশ্বিক জ্বালানি কেন্দ্র হিসেবে।

এ কারণেই বর্তমান যুদ্ধের (ইরান, ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ) মতো মধ্যপ্রাচ্যে বড় কোনো সংঘাত শুরু হলে বিশ্বব্যাপী ব্যাপক জ্বালানি সংকট তৈরি হয়।

পেট্রোলিয়াম ভূতাত্ত্বিকদের মতে, লক্ষ লক্ষ বছর ধরে চলা বিশেষ প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া মধ্যপ্রাচ্যকে জ্বালানি কেন্দ্রে পরিণত করেছে। আজ থেকে প্রায় ৩৫ মিলিয়ন বছর আগে অ্যারাবিয়ান প্লেট এবং ইউরেশীয় প্লেটের মধ্যে যে সংঘর্ষ শুরু হয়, তা এখনও চলমান। এই সংঘর্ষের ফলে ভূ-গর্ভের শিলাস্তরগুলো দুমড়ে-মুচড়ে ভাঁজ হয়ে ‘জাগরোস পর্বতমালা’ এবং বিশাল গম্বুজ আকৃতির কাঠামো তৈরি করেছে। এই প্রাকৃতিক গঠনই তেল ও গ্যাস আটকে রাখার জন্য আদর্শ ‘রিজার্ভার’ বা আধার হিসেবে কাজ করে।

জুরাসিক ও ক্রিটেসিয়াস যুগে (২০ থেকে ৬ কোটি বছর আগে) এই অঞ্চলে সামুদ্রিক জীব বা প্লাঙ্কটনের জৈব পদার্থ জমা হয়ে পুরু শিলাস্তর তৈরি করেছিল। এই শিলাগুলোতে জৈব পদার্থের পরিমাণ ১ থেকে ১৩ শতাংশ পর্যন্ত, যা অত্যন্ত উচ্চমানের জ্বালানি তৈরি করতে সক্ষম। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে এমন ৩০টিরও বেশি ‘সুপার জায়ান্ট’ তেলক্ষেত্র রয়েছে, যার প্রতিটিতে অন্তত ৫০০ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল মজুত আছে। এখানকার তেলকূপগুলোর উৎপাদন ক্ষমতা রাশিয়া বা উত্তর সাগরের কূপগুলোর চেয়ে দুই থেকে পাঁচ গুণ বেশি।

১৯০৮ সালে পশ্চিম ইরানের একটি সুপরিচিত প্রাকৃতিক তেলের উৎস থেকে আধুনিক যুগের প্রথম তেলের সন্ধান পাওয়া যায়। ১৯৫০ এবং ১৯৬০ এর দশকে যখন তেল ও গ্যাসের অনুসন্ধান ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়, তখন এটি স্পষ্ট হয়ে যায় যে, বিশ্বের আর কোনো অঞ্চলেই এত বিশাল প্রাকৃতিক সম্পদের মজুত নেই। বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলেও তেল ও গ্যাস আবিষ্কার হয়েছে। যেমন: রাশিয়ার পশ্চিম সাইবেরিয়া এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের পারমিয়ান বেসিনে তেল ও গ্যাস মজুতের সন্ধান পাওয়া গেছে।

তবে এগুলোর কোনোটিই পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের বিপুল মজুত অথবা ক্রুড বা অপরিশোধিত তেল ও গ্যাসের উচ্চ উৎপাদন হারের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারে না। যা এই অঞ্চলকে অনন্য করে তুলেছে।

এসব কারণে সম্মিলিত প্রভাবে পৃথিবীর মাত্র তিন শতাংশ ভূ-ভাগের নিচে বিশ্বের প্রায় অর্ধেক তেল এবং ৪০ শতাংশ গ্যাস মজুদ রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার মতে, এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে উৎপাদন চলার পরেও এই অঞ্চলে আরো বিশাল তেলের ভাণ্ডার আবিষ্কার হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।

সংস্থাটির ২০১২ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যারাবিয়ান পেনিনসুলা এবং জাগরোস পর্বতমালায় এর আগে আবিষ্কার হওয়া তেল, গ্যাসের বাইরেও আরো প্রায় ৮৬ বিলিয়ন ব্যারেল তেল এবং নয় দশমিক পাঁচ ট্রিলিয়ন ঘনমিটার গ্যাস থাকতে পারে।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে ২০০০ এবং ২০১০ এর দশকে উদ্ভাবিত হরাইজন্টাল ড্রিলিং এবং ফ্র্যাকচারিং এর মতো প্রযুক্তির মাধ্যমে উৎপাদন আরো বাড়ানো সম্ভব। সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের তেলক্ষেত্রগুলোতে এই পদ্ধতিগুলো পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এই পদ্ধতিগুলো কতটা সফল হবে সেটি বলার সময় এখনও আসেনি। যদিও গবেষণা বলছে, এর মাধ্যমে উৎপাদন আরো বাড়তে পারে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন