বুধবার
১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বুধবার
১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বেনাপোল দিয়ে ভারতীয় মাছ আমদানি প্রায় বন্ধের পথে

বেনাপোল প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৭ জুন ২০২৬, ০৫:৪৩ পিএম
স্থলবন্দর বেনাপোলে।
expand
স্থলবন্দর বেনাপোলে।

নতুন অর্থবছরের বাজেটে মাছ আমদানির ওপর শুল্ক বৃদ্ধির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোলে। কয়েকদিন আগেও যেখানে প্রতিদিন ভারত থেকে আসা মাছবোঝাই ট্রাকের ব্যস্ততা ছিল চোখে পড়ার মতো, সেখানে এখন অনেকটা নীরবতা। আমদানিকারকরা বলছেন, বাড়তি শুল্কের কারণে ব্যবসা অলাভজনক হয়ে পড়ায় অনেকেই আপাতত মাছ আমদানি থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।

বন্দর ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট কার্যকর হওয়ার পর থেকেই মাছ আমদানিতে নতুন শুল্কহার কার্যকর করা হয়েছে। এর ফলে মিঠা পানির মাছের ক্ষেত্রে প্রতি কেজিতে আগের তুলনায় প্রায় ৪৬ টাকা এবং সামুদ্রিক ও রুই মাছের ক্ষেত্রে প্রায় ২৪ টাকা বেশি শুল্ক পরিশোধ করতে হচ্ছে আমদানিকারকদের।

ব্যবসায়ীদের মতে, শুল্ক বৃদ্ধির কারণে আমদানি ব্যয় এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে বর্তমান বাজারদরে মাছ বিক্রি করে কাঙ্ক্ষিত মুনাফা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে অনেক আমদানিকারক নতুন চালান আনা স্থগিত রেখেছেন। তারা আশঙ্কা করছেন, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে বাজারে মাছের সরবরাহ কমে যেতে পারে এবং ভোক্তাদের বেশি দামে মাছ কিনতে হতে পারে।

বেনাপোল স্থলবন্দরের মৎস্য নিয়ন্ত্রণ ও মান নিয়ন্ত্রণ দপ্তর জানিয়েছে, বাজেট ঘোষণার আগে প্রতিদিন গড়ে ২৫ থেকে ৩০ ট্রাক মাছ ভারত থেকে বন্দরে প্রবেশ করত। কিন্তু নতুন শুল্কহার কার্যকর হওয়ার পর আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। সম্প্রতি এমন দিনও গেছে, যেদিন একটি মাছবোঝাই ট্রাকও বন্দরে প্রবেশ করেনি।

মাছ আমদানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শ্রমিক ও পরিবহন খাতের কর্মীরাও এর প্রভাব অনুভব করছেন। বন্দরের কয়েকজন শ্রমিক জানান, মাছ খালাসের কাজ কমে যাওয়ায় তাদের আয়ও কমে গেছে। একইভাবে পরিবহন ব্যবসার সঙ্গেও যুক্ত অনেকেই কাজের সংকটের মুখে পড়েছেন।

আমদানিকারক মোহাম্মদ আলী বলেন, দেশের বাজারে ভারতীয় মাছের চাহিদা এখনও রয়েছে। কিন্তু শুল্ক বৃদ্ধির ফলে আমদানি খরচ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা নতুন করে পণ্য আনতে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। এ কারণে সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

অন্যদিকে, ব্যবসায়ী নেতারা মনে করছেন, আমদানি কমে গেলে সরকারের রাজস্ব আদায়ও প্রত্যাশিত মাত্রায় পৌঁছাবে না। বেনাপোল ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান বলেন, আগে থেকেই বিভিন্ন কারণে মাছ আমদানি কমছিল। নতুন করে শুল্ক বৃদ্ধি সেই সংকটকে আরও তীব্র করেছে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তেমনি রাজস্ব আদায়েও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

বেনাপোল কাস্টমস সূত্র জানায়, সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা কম রাজস্ব আদায় হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, উচ্চ শুল্কের কারণে আমদানি প্রবাহ আরও কমে গেলে এই ব্যবধান আগামী অর্থবছরে আরও বাড়তে পারে।

এ অবস্থায় মাছ আমদানির ওপর আরোপিত নতুন শুল্কহার পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, শুল্ক বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত অব্যাহত থাকলে শুধু আমদানিকারকরাই নয়, এর প্রভাব পড়বে বাজারব্যবস্থা, ভোক্তা এবং সরকারের রাজস্ব আয়ের ওপরও।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
UPCOMING
Portugal VS Congo DR
Scheduled
17 Jun, 11:00 PM
VS
World Cup