বুধবার
২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বুধবার
২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজস্ব কাঠামোতে পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন চায় ডিসিসিআই

এনপিবি প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০২:১৭ পিএম
এনবিআরের সাথে প্রাক-বাজেট আলোচনায় বসেছে ডিসিসিআই নেতৃবৃন্দ। 
expand
এনবিআরের সাথে প্রাক-বাজেট আলোচনায় বসেছে ডিসিসিআই নেতৃবৃন্দ। 

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত নয় এমন কোম্পানীর করহার ২৭ দশমিক ৫ শতাংশের পরিবর্তে ২৫ শতাংশ নির্ধারণ করাসহ আরো বেশকিছু বাজেট প্রস্তাব করেছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (ডিসিসিআই)। রাজস্ব কাঠামোকে পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন করার দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি।

বুধবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাথে প্রাক-বাজেট আলোচনায় এসব দাবি জানায় ডিসিসিআই নেতৃবৃন্দ।

এনবিআরের সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট আলোচনা অনুষ্ঠানে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে অন্তর্ভূক্তির জন্য আয়কর, মূল্য সংযোজন কর (মূসক) এবং আমদানি শুল্ক খাতে ঢাকা চেম্বারের ৫৪টি প্রস্তাবনার সারসংক্ষেপ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খানের নিকট পেশ করেন ডিসিসিআই-এর মহাসচিব (ভারপ্রাপ্ত) ড. একেএম আসাদুজ্জামান পাটোয়ারী|ডিসিসিআই’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. সালিম সোলায়মান, পরিচালক এম মোসাররফ হোসেন, ইঞ্জি মোস্তফা কামাল এবং রাশীদ মাইমুনুর ইসলাম এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

প্রাক-বাজেট আলোচনায় ব্যক্তিখাতে করমুক্ত আয়ের নূন্যতম সীমা ৫ লক্ষ টাকা করা, জিডিপিতে করের অবদান বৃদ্ধিতে রাজস্ব কাঠমোর অটোমেশন, বাণিজ্যিক আমদানিতে আগাম কর ৭ দশমিক ৫ শতাংশ হতে হ্রাস করে ৫ শতাংশ নির্ধারণ, কাস্টমস রিফান্ড ব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ অটোমেশনের প্রস্তাব করেছে ঢাকা চেম্বার।

প্রস্তাবনা উপস্থাপনের শুরুতেই ঢাকা চেম্বারের কাস্টমস ভ্যাট স্ট্যান্ডিং কমিটির আহ্বায়ক এম বি এম লুৎফুল হাদি এফসিএ বলেন, করজাল সম্প্রসারণ ও রাজস্ব আদায়ের সক্ষমতা বৃদ্ধি, ব্যবসা সহায়ক পরিবেশ ও করের বোঝা হ্রাস, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগে নীতি সহায়তা প্রদানের বিষয়গুলোকে এবছর ডিসিসিআই জোর দিয়েছে, যার মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় হ্রাসের পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আহরণে হার বৃদ্ধি পাবে এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব আসবে বলে মনে করছে বাণিজ্য এ সংগঠনটি।

বৈঠককালে ডিসিসিআই’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ড. একেএম আসাদুজ্জামান পাটোয়ারী করজাল সম্প্রসারণ ও রাজস্ব ঘাটতি কমাতে সরকারী সকল সেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলোর ডেটা সমন্বয়ের মাধ্যমে সেন্ট্রাল এপিআই ইন্টিগ্রেশন ব্যবস্থার প্রবর্তন, কোম্পানীর আমানতের উৎসে সুদ হার ২০ শতাংশ হতে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা, কোম্পানীর নিট সম্পদের উপর আরোপিত সারচার্জ ধাপে ধাপে বিলোপকরনের উপর জোরারোপ করেন। সেই সাথে ব্যবসায়িক কার্যক্রমে গতি আনায়নের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে পরোক্ষ রাজস্ব আয় বাড়াতে ভ্যাট রিফান্ডের ঊর্ধ্বসীমা বাতিল ও ভ্যাট সংগ্রহ বৃদ্ধিতে মোবাইল অ্যাপ প্রবর্তন সহ সামগ্রিক মূসক কার্যক্রমে অটোমেশনের প্রস্তাব করেন ডিসিসিআই’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব।

ঢাকা চেম্বারের বাজেট প্রস্তাবনার সাথে একমত পোষন করে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান এফসিএমএ বলেন, এ বছরের বাজেটে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, শুল্কের হার হ্রাসের চেয়ে নন-ট্যারিফ প্রতিবন্ধকতা নিরসনের উপর বেশি গুরুত্ব দিবে, যার মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় কমবে, উদ্যোক্তাদের স্বস্তি আসবে পাশাপাশি দেশের ম্যাক্রো অর্থনীতিতে প্রাণ ফিরে আসবে।

তিনি আরো বলেন, সত্যিকারের কমপ্লায়েন্স করদাতাদের উপর করের বোঝা ও হয়রানি হ্রাসের লক্ষ্যে যারা কর ফাঁকি দিচ্ছেন, তাদের চিহ্নিত করে করের আওতায় নিয়ে আসার ক্ষেত্রে কোন শৈথিল্য গ্রহণ করা হবে না। সরকার ভ্যাটের আওতা বাড়ানোর বিষয়ে এনবিআর বদ্ধ পরিকর, এ ব্যাপারে ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা কামনা করেন এনবিআর চেয়ারম্যান।

আবদুর রহমান খান আরো উল্লেখ করেন, ভ্যাটের থ্রেসহোল্ড গতবছর ৩ কোটি টাকা হতে ৫০ লাখে নামিয়ে আনা হয়েছে এবং বর্তমানে ভ্যাট নিবন্ধনকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা মাত্র ৮ লাখেরও কম, আমাদের অর্থনীতির সক্ষমতা বিচারে এ সংখ্যা কোটির বেশি হওয়া উচিত। এনবিআর চেয়ারম্যান আরো বলেন, কর্পোরেট করের হার ৫০ শতাংশ হতে ক্রমান্বয়ে কমিয়ে বর্তমানে ২৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে, এটিকে আরো হ্রাস করার আসলেই তেমন সুযোগ নেই, তবে ইফেকটিভ করের হার যেন না বাড়ে তার উপর বেশি মনোযোগী হওয়া জরুরী। আগামী বছর হতে কর্পোরেট করের রিটার্ন অনলাইনে প্রদান প্রক্রিয়া চালু হবে পাশাপাশি কর ফেরত (রিফান্ড) প্রদানের ব্যবস্থা অনালইনে নিশ্চিতের কার্যক্রমও শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন