

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় শূন্য হয়েছে ঠাকুরগাঁও-১ আসন। আসন্ন উপনির্বাচন ঘিরে এখনো আনুষ্ঠানিক তৎপরতা শুরু না হলেও সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীতে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিএনপিতে একাধিক নাম আলোচনায় থাকলেও আগের নির্বাচনের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনকেই আবারও বিবেচনা করছে জামায়াত।
শনিবার ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শূন্য ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে নির্বাচন কমিশন।
সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী, ৯০ দিনের মধ্যে এই আসনে নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। কমিশন জানিয়েছে, শিগগিরই তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে।
উপনির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াত অংশ নেবে; এমন ধারণাই এখন জোরালো। তবে দল দুটি এককভাবে নাকি কোনো জোটের সমর্থন নিয়ে নির্বাচন করবে, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট সিদ্ধান্ত হয়নি।
বিএনপিতে আলোচনায় ফখরুলের পরিবার
বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে কয়েকজনের নাম স্থানীয় পর্যায়ে আলোচিত হচ্ছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন। তিনি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছোট ভাই এবং ঠাকুরগাঁও পৌরসভার সাবেক মেয়র।
এ ছাড়া জেলা বিএনপির সহসভাপতি ওবায়দুল্লাহ মাসুদ ও সুলতানুল ফেরদৌস নম্র চৌধুরীর নামও আলোচনায় রয়েছে।
মির্জা ফখরুলের মেয়ে শামারুহ মির্জাকেও প্রার্থী করা হতে পারে—এমন আলোচনা রয়েছে স্থানীয় বিএনপিতে। তিনি অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী বাংলাদেশি চিকিৎসাবিজ্ঞানী। তবে তার প্রার্থিতার বিষয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় বা স্থানীয় পর্যায় থেকে এখনো কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
দলীয় নেতারা বলছেন, প্রার্থী মনোনয়নের প্রক্রিয়া এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়নি। ফলে আলোচনায় থাকা নামগুলোর মধ্যে শেষ পর্যন্ত কে মনোনয়ন পাবেন, তা এখনই বলা যাচ্ছে না।
জামায়াতে দেলাওয়ারই এগিয়ে
বিএনপিতে যখন একাধিক নাম নিয়ে আলোচনা চলছে, তখন জামায়াতে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দেলাওয়ার হোসেনের নামই সবচেয়ে বেশি শোনা যাচ্ছে। ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি দেলাওয়ার বর্তমানে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি।
২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে মির্জা ফখরুলের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে প্রায় ১ লাখ ৪১ হাজার ভোট পেয়েছিলেন তিনি। মির্জা ফখরুল পেয়েছিলেন ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮৩৬ ভোট।
জামায়াতের নেতাদের মতে, ওই নির্বাচনে মির্জা ফখরুল ছিলেন জাতীয় পর্যায়ের পরিচিত ও শক্তিশালী প্রার্থী। তার বিপরীতে প্রথমবার নির্বাচন করেই দেলাওয়ারের বড় ভোট পাওয়াকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে দলটি। এবার মির্জা ফখরুল প্রার্থী না থাকায় ভোটের সমীকরণও বদলে যেতে পারে বলে মনে করছেন তারা।
ভোটের পুরোনো হিসাব
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের ভোটের ইতিহাসে আওয়ামী লীগের আধিপত্য দীর্ঘদিনের। ১৯৯১ সালে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পর অনুষ্ঠিত নয়টি নির্বাচনের মধ্যে সাতবার আওয়ামী লীগের প্রার্থী জয় পেয়েছেন। প্রয়াত রমেশ সেন পাঁচবার এবং খাদেমুল ইসলাম দুবার এই আসন থেকে নির্বাচিত হন।
বিএনপি জয় পেয়েছে দুইবার। ২০০১ সালে চারদলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে প্রথমবার সংসদ সদস্য হন মির্জা ফখরুল। সর্বশেষ ২০২৬ সালের নির্বাচনেও ধানের শীষ প্রতীকে জয় পান তিনি।
অন্যদিকে জামায়াত এখনো এই আসনে জয় পায়নি। তবে দলটির ভোটের ভিত্তি রয়েছে। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী রফিকুল ইসলাম প্রায় ২৬ হাজার ভোট পেয়েছিলেন। সর্বশেষ নির্বাচনে দেলাওয়ার হোসেনের ভোট বেড়ে ১ লাখ ৪১ হাজারে পৌঁছায়।
স্থানীয় ভোটারদের মতে, বিএনপি ও জামায়াতের পাশাপাশি সংখ্যালঘু ও আওয়ামী লীগ–সমর্থক ভোটাররাও এই আসনের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
ঠাকুরগাঁও সদরের মুন্সীপাড়ার ব্যবসায়ী গোলাম দস্তগীর রাসেল বলেন, বিএনপি ও জামায়াত—দুই দলেরই এলাকায় শক্ত অবস্থান আছে। তবে সংখ্যালঘু ও আওয়ামী লীগ–সমর্থক ভোটারদের অবস্থান নির্বাচনের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
তার মতে, মির্জা ফখরুলের পরিবারের কাউকে বিএনপি প্রার্থী করলে তার ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার প্রভাব ভোটে পড়তে পারে।
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন বলেন, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের প্রার্থী নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। নির্বাচন পরিচালনা বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট নেতারা সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছেন।
অন্যদিকে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল বলেন, ‘প্রার্থিতা নিয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। বিশেষ করে নির্বাচন আসলে প্রার্থী বাছাই বা মনোনয়ন ফরম বিক্রিসহ সে ধরনের কার্যক্রম এখনও শুরু হয়নি। আকাশে সূর্য উঠলে যেমন সবাই দেখতে পায়, কোনও ধরনের সিদ্ধান্ত হলে নিশ্চয়ই সবাই জানতে পারবেন। এ জন্য আরও অপেক্ষা করতে হবে।’


