

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় ১৭ হাজার টাকা পাওনা নিয়ে বিরোধের জেরে এক ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে মারধর, ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া এবং আরও ৪ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পলাশ চন্দ্র পাল নামে ওই ব্যবসায়ী থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
শনিবার (২২ আগস্ট) সকালে শহরের গঙ্গাধর পট্টি এলাকা থেকে তাকে জোরপূর্বক অপহরণ করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন পলাশ। এ ঘটনায় উপেন্দ্র পালসহ অজ্ঞাতনামা আরও তিনজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পলাশ চন্দ্র পাল সাভারের আশুলিয়ার নৈহাটি বাজারের ‘মেসার্স প্রিয়াংকা মৃতশিল্প ও পাল স্টোর’-এর মালিক উপেন্দ্র পালের কাছ থেকে মাটির তৈরি বিভিন্ন সামগ্রী কিনে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করে আসছিলেন। তার কাছে উপেন্দ্র পালের ১৭ হাজার টাকা পাওনা ছিল। আর্থিক সমস্যার কারণে সময়মতো ওই টাকা পরিশোধ করতে না পারায় উপেন্দ্র পাল তাকে মারধর ও হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পলাশের অভিযোগ, গত ২২ আগস্ট সকাল ৮টার দিকে দোকানের মালামাল কেনার জন্য বাসা থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা নিয়ে ভাড়া নেওয়া গোডাউনের সামনে গেলে উপেন্দ্র পালসহ কয়েকজন তার পথরোধ করেন। পরে মুখ চেপে ধরে ভয়ভীতি দেখিয়ে একটি ইজিবাইকে তুলে সাভারের একটি ঘরে নিয়ে আটকে রাখা হয়।
সেখানে তাকে মারধর করে সঙ্গে থাকা ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা নিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন পলাশ। একই সঙ্গে তার কাছে আরও ৪ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। ওই টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তাকে আবারও মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে পরিস্থিতি খারাপ দেখে পলাশ তার শ্যালককে ফোন করে ঘটনাস্থলে ডেকে আনেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, শ্যালক বিবাদীদের দাবিকৃত চাঁদার টাকার জিম্মাদার হয়ে পলাশকে তাদের হেফাজত থেকে ছাড়িয়ে নেন। এরপর তিনি মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
পলাশের শ্যালক শিতল পাল বলেন, ‘আমার জামাইবাবু কল দিলে আমি সঙ্গে সঙ্গে সেখানে যাই। গিয়ে দেখি, তাকে মারধর করে বসিয়ে রাখা হয়েছে। এরপর আমি তাদের সঙ্গে কথা বলে কোনো রকমে জামাইবাবুকে নিয়ে আসি এবং হাসপাতালে ভর্তি করি।’
হাসপাতালের বেডে পলাশ চন্দ্র পাল বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরে তার সঙ্গে ব্যবসা করছি। পাওনা ১৭ হাজার টাকা নিয়ে বিরোধের কারণে আমাকে তুলে নিয়ে মারধর ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। এখনো আমাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে মুঠোফোনে উপেন্দ্র পালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘তার শালা এসে এটা মীমাংসা করে গেছে। এরপর তারা অভিযোগ দিয়েছে।’ অভিযোগের বিষয়টি কতটুকু সত্য জানতে চাইলে তিনি তার পাশে থাকা আরেক ব্যক্তির হাতে ফোনটি দেন।
ওই ব্যক্তি নিজেকে আশুলিয়া থানার লোক পরিচয় দিয়ে প্রতিবেদকের পরিচয় জানতে চান এবং থানায় যেতে বলেন। পরে তার পরিচয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটাই কি আপনার নম্বর? পাঁচ মিনিট অপেক্ষা করেন, পরিচয় পেয়ে যাবেন।’ এরপর ফোনটি কেটে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ সদর থানার তদন্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) মো. জুলুস খান পাঠান বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’


