

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


পরিবারের দারিদ্র্য ঘোচাতে এবং স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে দুই বছর আগে মরুর দেশ লিবিয়ায় পাড়ি জমান টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার লক্ষ্মীন্দর ইউনিয়নের আকন্দের বাইদ এলাকার বাসিন্দা মো. শহিদুল। বাবা আহমেদ আলীর সংসারে সুখ ফেরানোর আশায় বিদেশে গেলেও, এখন তার খোঁজ না পেয়ে দুশ্চিন্তা আর কান্নায় দিন কাটছে পরিবারের সদস্যদের।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, লিবিয়ায় কাজের পাশাপাশি একসময় সাগরপথে ইতালিতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন শহিদুল। জীবনের ঝুঁকি সম্পর্কে জেনেও উন্নত জীবনের আশায় সেই যাত্রায় অংশ নিতে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু এরই মধ্যে লিবিয়ার পুলিশের হাতে আটক হন বলে এক বন্ধুর মাধ্যমে পরিবারের কাছে খবর পৌঁছায়।
আটকের পর এক বন্ধুকে জানিয়ে ছিলেন, তিনি পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। সেটিই ছিল তার জীবনের শেষ খবর। এরপর থেকে পরিবারের সঙ্গে তার আর কোনো যোগাযোগ হয়নি। প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে তার অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য না পাওয়ায় চরম উৎকণ্ঠায় রয়েছেন স্বজনরা।
শহিদুলের মা সখিনা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,আমার ছেলে সংসারের অভাব দূর করতে বিদেশে গিয়েছিল। এখন সে কোথায় আছে, বেঁচে আছে কি না, কিছুই জানি না। বাংলাদেশ সরকারের কাছে আকুল আবেদন, আমার ছেলেকে খুঁজে বের করে দেশে ফিরিয়ে আনতে যেন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
এলাকাবাসী জানান, শহিদুলের কোনো খোঁজ না পেয়ে তারা নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন। অনিশ্চয়তা আর দুশ্চিন্তায় অনেকেরই ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া হচ্ছে না। প্রতিটি মুহূর্ত তারা অপেক্ষা করছেন, যদি কোনোভাবে শহিদুলের একটি খবর পাওয়া যায়।
স্থানীয়রা আরও জানান, এলাকার অনেক তরুণ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অবৈধ পথে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করেন। অনেকেই পথে বিপদের মুখে পড়েন বা নিখোঁজ হন। তাই এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসন বন্ধে আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি বিদেশে বিপদগ্রস্ত বাংলাদেশিদের উদ্ধারে সরকারের সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।
নিখোঁজ শহিদুলকে দ্রুত খুঁজে বের করে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও বাংলাদেশ সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছে তার পরিবার। তাদের একটাই আকুতি—'আমাগো পোলারে শুধু একবার ফিরাইয়া দেন'।