শনিবার
০৮ আগস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শনিবার
০৮ আগস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাতীয় যুবনীতি ২০১৭ হালনাগাদে খুলনায় সরাসরি মতামত দেওয়ার সুযোগ পেল তরুণরা

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫৭ পিএম
ছবি : সংগৃহীত।
expand
ছবি : সংগৃহীত।

জাতীয় যুবনীতি ২০১৭ হালনাগাদ করে সময়োপযোগী, আধুনিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নতুন নীতি প্রণয়নের লক্ষ্যে সরাসরি তরুণদের মতামত নেওয়া হচ্ছে। এ উদ্দেশ্যে খুলনায় অনুষ্ঠিত বিভাগীয় পরামর্শ কর্মশালায় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তা, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলীয় এলাকাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার যুব প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) খুলনার নুরনগরে বিভাগীয় কমিশনারের ক্যাম্পাসের কৃষি বিপণন ভবনে দিনব্যাপী এই বিভাগীয় কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

নতুন এ নীতি প্রণয়নে নেতৃত্বদেন বাংলাদেশ সরকারের সাবেক সচিব ড. আবুল হোসেন। এতে অংশনেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কার্যালয়ের উপপরিচালক মরিয়ম আক্তার, খুলনার উপপরিচালক মো. মোস্তাক উদ্দীন, জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের (ইউএনএফপিএ) টেকনিক্যাল অফিসার হাবিবুর রহমান এবং ভিএসও বাংলাদেশের প্রকল্প সমন্বয়কারী অনুপ গুন।

বক্তব্যে ড. আবুল হোসেন বলেন, বাংলাদেশ গড়ার মূল কারিগর তরুণ সমাজ। দেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ জনগোষ্ঠীই যুব। তাই পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক পরিস্থিতি এবং জলবায়ু সংকটের মতো বাস্তব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তরুণদের চাহিদা ও তাদের নিজেদের সরাসরি সুপারিশকেই পরিমার্জিত জাতীয় যুবনীতির মূল ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করা হচ্ছে।

কর্মশালায় বক্তারা কর্মসংস্থান, পরিবেশবান্ধব দক্ষতা উন্নয়ন, শিক্ষা, উদ্যোক্তা সৃষ্টি, মানসিক স্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষা, ডিজিটাল সক্ষমতা, উপকূলীয় জলবায়ু অভিঘাত এবং স্বেচ্ছাসেবাকে নতুন নীতিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দেন। তারা জানান, বিভাগীয় পর্যায়ে সরাসরি তরুণদের মুখ থেকে চাহিদা শুনে নীতি প্রণয়নের ফলে শহর-গ্রাম, নারী-পুরুষ, প্রতিবন্ধী এবং বিশেষ করে জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ প্রান্তিক অঞ্চলের তরুণদের প্রত্যাশা ও বাস্তব অভিজ্ঞতা নীতিমালায় প্রতিফলিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

কর্মশালায় উপস্থিত তরুণরা দলীয় আলোচনা, উন্মুক্ত মতবিনিময় ও বিষয়ভিত্তিক সেশনের মাধ্যমে নীতি-নির্ধারকদের সামনে তাদের প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। এ সময় খুলনা বিভাগের জেলা শিক্ষা দপ্তর, কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি), জেলা ক্রীড়া দপ্তর, সিভিল সার্জন কার্যালয়, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, সমাজসেবা অধিদপ্তর, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, জেলা মৎস্য দপ্তর, জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর এবং উপজেলা যুব উন্নয়ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিগণ উপস্থিত থেকে তরুণদের মতামত গ্রহণ করেন। পাশাপাশি বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি ও বিভিন্ন জেলার যুব প্রতিনিধিরাও এতে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কার্যালয়ের উপপরিচালক মরিয়ম আক্তার জানান, খুলনা সহ দেশের ৮টি বিভাগে আয়োজিত কর্মশালা থেকে প্রাপ্ত সুপারিশগুলো জাতীয় পর্যায়ে সমন্বয় ও পর্যালোচনা করা হবে। পরবর্তীতে এসব মতামতের ভিত্তিতে একটি আধুনিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সময়োপযোগী জাতীয় যুবনীতি প্রণয়ন করা হবে, যা সামগ্রিকভাবে দেশের প্রতিটি অঞ্চলের যুবসমাজের টেকসই উন্নয়নে অবদান রাখবে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন