

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


রাসুলের যুগে যদি নারীরা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে পারে তাহলে এই সময়ে নারীরা প্রত্যেকটি সেক্টরে অংশগ্রহণ করতে পারবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) রাতে রংপুরের টাউন হল চত্বরের পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে দশ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য-সমর্থিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি মনোনীত প্রার্থীদের নির্বাচনী জনসভায় যোগ দিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন তিনি।
জামায়াতে আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যোগ্যতা অনুযায়ী নারীদের হাতে কাজ তুলে দেয়া হবে। নির্বাচন সামনে রেখে কোনো মিথ্যা আশ্বাস আমরা দেব না। যোগ্যতা অনুযায়ী নারীদের হাতে কাজ তুলে দেয়া হবে। দেশের প্রত্যেক সেক্টরে নারীরা কাজ করবেন।
তিনি বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে আমরা কোনো মিথ্যা আশ্বাস দিতে চাই না। আমরা বেকার ভাতা নয়, মর্যাদা সম্পূর্ণ কর্মসংস্থানের মাধ্যমে কাজের সুযোগ করে দিতে চাই।
বিগত সময়ের দুর্নীতি নিয়ে জামায়াত আমির বলেন, আমরা ছিলাম সবচেয়ে মজলুম আমরা মামলা বানিজ্য করিনি। কোনো দুর্নীতি করা যাবে না, করতে দেয়াও হবে না।
বিচার বিভাগকে স্বাধীন করা হবে। অর্থের বিনিময়ে নয়, ন্যায্যতা অনুযায়ী শাস্তি দেয়া হবে। ৫৪ বছরের বস্তাপঁচা রাজনীতি দেখতে চাই না। ফ্যাসিবাদ ও দুর্নীতিবাদ যে রাজনীতি শেখায় সেই রাজনীতি চাই না।
তিনি আরও বলেন, দুর্নীতি, দুঃশাসন এই জাতিকে সর্বহারা জাতিতে পরিণত করেছে। তারা বলেছিলেন দেশকে সিঙ্গাপুর ও কানাডা বানাবে। কিন্তু তারা ব্যাংক লুট করে টাকা পাচার করে সিঙ্গাপুর ও কানাডায় সম্পদ ও ব্যাবসা করেছে। কানাডায় বেগম পাড়া তৈরি হয়েছে।
এসব আশা-প্রত্যাশা মানুষের জন্য ছিল না, নিজেদের জন্য ছিল। কোথায় পালাবেন, কোথায় লুকাবেন সেই চিন্তা করছেন। সুপ্রিম কোর্টের একজন জাজেরও এমন পরিণতি হয়েছে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের সেবক হওয়ার কথা বলে জনগণের মালিক হয়ে গেলেন। তাদের হাতে মা-বোনদের ইজ্জত নিরাপদ ছিল না। একজনকে মাদার অব হিউম্যানিউনিটি বলা হয়েছিল, কিন্তু তিনি ছিলেন, মাদার অব ক্রুয়েলিটি। নির্বাচন কমিশনের মাধমে প্রতীক বাদ দেয়া হয়েছিল, ১১ জন শীর্ষ নেতাকে হত্যা করা হয়েছে।’
সমাবেশ শেষে রংপুর নিয়ে জামায়াত আমির বলেন, রংপুরের মানুষ খুবই ভালো, শিক্ষিত। আমরা বলেছিলাম সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া কাউকে মামলায় আসামি করা হয়নি। রংপুরের মানুষ অনেক ভালো।
এরা এত ভালো ভদ্র, নিজেদের দাবিও উত্থাপন করেন না। নদী জীবন ফেরে পেলে উত্তরবঙ্গ জীবন ফিরে পাবে। জামায়াত ক্ষমতা এলে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হবে।
সবার আগে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আমির আরও বলেন, আমরা উত্তরবঙ্গকে কৃষি বিপ্লবের রাজধানী গড়ে তুলতে চাই। আমরা চাইনা উত্তরবঙ্গ আর বঞ্চিত হোক। নদীর ওপর অত্যাচার করা হয়েছে।
তিস্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিকল্প নেই। আমাদের দায়িত্ব দিলে, উত্তরবঙ্গে প্রথম ওখানে কোদালের কোপ দেয়া হবে। জায়গায় জায়গায় শিল্প কারখানা তৈরি করা হবে।
এর আগে দুইদিনের রংপুর সফরে পঞ্চগড়, দিনাজপুর ঠাকুরগাঁও নির্বাচনী জনসভায় যোগদেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের আমির ডা. শফিকুর রহমান। রংপুরে রাত্রিযাপন শেষে আগামীকাল জুলাইয়ের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত ও তার পরিবারের খোঁজখবর নিয়ে গাইবান্ধায় জনসভায় যোগ দিবেন তিনি।
মন্তব্য করুন
