

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


পিরোজপুরের ২৫০ শয্যার আধুনিক জেলা হাসপাতালটি দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর গত ৩০ জুন চালু হওয়ার কথা থাকলেও প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ও আনুষঙ্গিক প্রস্তুতি সম্পন্ন না হওয়ায় নির্ধারিত সময়েও উদ্বোধন করা সম্ভব হয়নি।
ফলে পিরোজপুরসহ আশপাশের জেলার প্রায় ২০ লাখ মানুষের উন্নত চিকিৎসাসেবা পাওয়ার প্রত্যাশা আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। বারবার উদ্বোধনের তারিখ পরিবর্তন হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালের লিফট এখনো স্থাপন না হওয়ায় প্রাথমিকভাবে নিচের চারটি তলা চালু করে চিকিৎসাসেবা শুরু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। সেই অনুযায়ী ৩০ জুন সম্ভাব্য উদ্বোধনের তারিখও নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু শেষ মুহূর্তে প্রয়োজনীয় ফার্নিচার সময়মতো সরবরাহ না হওয়ায় সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা যায়নি।
পিরোজপুর সদর হাসপাতালের যাত্রা শুরু হয় ১৯৮৪ সালে ৩১ শয্যা নিয়ে। পরে ১৯৯৭ সালে ৫০ শয্যার নতুন ভবন নির্মাণ এবং ২০০৫ সালে হাসপাতালটি ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা ও চিকিৎসাসেবার চাহিদা বিবেচনায় ২০১৭ সালে ২৫০ শয্যার আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সরকার। প্রথমে সাততলা ভবনের পরিকল্পনা থাকলেও পরে তা নয়তলায় উন্নীত করা হয়।
প্রায় ৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হাসপাতালটির মূল ভবনের কাজ ২০২৪ সালের ডিসেম্বরেই শেষ হয়। তবে লিফট, বিদ্যুৎ সংযোগসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা সম্ভব হয়নি। গণপূর্ত বিভাগ জানিয়েছে, লিফট স্থাপনে আরও দুই থেকে তিন মাস সময় লাগতে পারে। তাই জনস্বার্থে লিফট ছাড়াই নিচের চারটি তলা চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রয়োজনীয় ফার্নিচারের অভাবে সেই উদ্যোগও থমকে গেছে।
এদিকে বারবার উদ্বোধনের তারিখ পিছিয়ে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, যথাযথ পরিকল্পনা ও সমন্বয়ের অভাবেই হাসপাতালটি চালু করতে বারবার ব্যর্থ হচ্ছে কর্তৃপক্ষ। দ্রুত সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে হাসপাতালটি চালুর দাবি জানিয়েছেন তারা। নিকচন আকন নামে এক রোগীর স্বজন বলেন, ‘শুনেছিলাম ৩০ জুনের মধ্যে হাসপাতালটি চালু করা হবে, কিন্তু হলো না। এই পুরানো হাসপাতালে গাদাগাদি করে অনেক রোগীর মাঝে থাকতে আমাদের প্রচণ্ড কষ্ট হচ্ছে। হাসপাতালটি দ্রুত চালু করার দাবি জানাচ্ছি।’
স্থানীয় চিকিৎসা প্রত্যাশী রিয়াজ আহমেদ ও হেলাল উদ্দিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলের মানুষ আধুনিক চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত। নির্দিষ্ট তারিখ দেওয়ার পরও হাসপাতাল চালু না হওয়ায় তারা চরম নিরাশ হয়েছেন। কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাবে এমনটা হয়েছে উল্লেখ করে তারা গণমাধ্যমের মাধ্যমে বিষয়টি দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনার দাবি জানান।’
পিরোজপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. মতিউর রহমান বলেন, ‘গণপূর্ত বিভাগ আমাদের ৩০ জুনের মধ্যে সবকিছু বুঝিয়ে দেওয়ার কথা বলেছিল। কিন্তু ফার্নিচার ও ফাইনাল ফিনিশিংয়ের কিছু কাজ বাকি থাকায় তারা আমাদের কাছে আরও ১৫ দিনের সময় চেয়েছে। এই সময়ের মধ্যে সব ফার্নিচার সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে তারা জানিয়েছে। ফার্নিচার পাওয়া মাত্রই আমরা হাসপাতালটি উদ্বোধনের ব্যবস্থা নেব।’
সিভিল সার্জন আরও উল্লেখ করেন, ‘নতুন ভবনটি চালু হলে চিকিৎসক ও জনবলের তীব্র সংকট দেখা দিতে পারে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে এবং তারা দ্রুত এই সংকট সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।’
জুলাইয়ে চালু ও আইসিইউর আশ্বাস প্রতিমন্ত্রীর গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং পিরোজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আহমেদ সোহেল মঞ্জুর বলেন, ‘বিগত সরকারের সময় এই নতুন ভবনের অনেক কাজ ফেলে রাখা হয়েছিল। আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছি, যার ফলে এখন ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। আশা করছি জুলাইয়ের মধ্যেই আমরা হাসপাতালের তিনটি ফ্লোর চালু করতে পারবো। আর অক্টোবরের মধ্যে লিফট চলে আসলে সেটিও চালু করা হবে।’
তিনি আরও জানান, ‘বিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তার কথা হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী এই হাসপাতালে আইসিইউ ও লাইফ সাপোর্টসহ প্রয়োজনীয় সব আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। এছাড়া সারা দেশে নতুন চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগের যে পরিকল্পনা চলছে, তার মাধ্যমে এই হাসপাতালের জনবল সংকটও দূর করা হবে।’
হাসপাতালটি চালু হলে পিরোজপুর জেলা ও আশেপাশের এলাকার প্রায় ২০ লাখ মানুষ পাবে আধুনিক চিকিৎসা সেবার সুযোগ। বাড়বে চিকিৎসা সেবার মান, কমবে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
